প্লেয়ার রেটিং: স্পেন-রাশিয়া, এগিয়ে কে?

পুরো ম্যাচে তেমন কিছুই করতে হয়নি। কিন্তু বিশ্বকাপে তার দিকে আসা ৭ শটের ৬ টিতেই গোল হজম করে নিজের নামের নামের প্রতি সুবিচারও করতে পারেননি। আর শেষদিকে এসে টাইব্রেকারেও তেমন কিছু করে আর নায়ক বনে যাওয়া হয়নি ডি গিয়ার।

নাচো ফার্নান্দেজ ৬/১০
প্রথমার্ধে বেশ কয়েকবার আক্রমণে দলকে সাহায্য করেছেন। ক্রস করার পাশাপাশি উইডথের যোগানও দিয়েছেন। রক্ষণের দিক দিয়েও ছিলেন প্রায় নির্ভুল।

সার্জিও রামোস ৭/১০
অধিনায়কের মতোই খেলছিলেন। রক্ষণে তেমন কাজ করতে হয়নি। বেশ কয়েকবার ভয়ের কারণ হয়েছিলেন রাশিয়ার রক্ষণের জন্যই। স্পেনের গোলটা আত্মঘাতী, কিন্তু তাতে রামোসের অবদানও কম না।

জেরার্ড পিকে ৬/১০
শুরু থেকেই ভালো খেলছিলেন। কিন্তু রাশিয়াকে পেনাল্টিটা দিয়ে ম্যাচে ফিরে আসার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। স্পেনেরও আর সেখান থেকে ফেরা হয়নি।

জর্দি আলবা ৬/১০
আর দশটা ম্যাচের মতোই খেলছিলেন। বা প্রান্ত দিয়ে ওপরে উঠে আক্রমণে সাহায্য করেছেন। কিন্তু আজ গোল করার মতো ক্রস করতে পারেননি তেমন। ফার্নান্দেজের গতির সঙ্গে পেরে উঠতেও সমস্যা হয়েছে।

সার্জিও বুস্কেটস ৬/১০
শুরু থেকেই রাশিয়া ছিল নিজেদের অর্ধে। বুস্কেটসকে তাই স্বভাবসুলভ খেলাটা খেলতে হয়নি। তবে আক্রমণে সাহায্য করেছেন। ফরোয়ার্ড পাসিংও ভালো ছিল, কিন্তু তার কোনোটাই আলোর মুখ দেখেনি।

কোকে ৫/১০
টাইব্রেকারে গোল করতে না পারাটা নেহায়েত দুর্ভাগ্য। সেটার সঙ্গে এই নম্বরের কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু ম্যাচেও তেমন খুঁজে পাওয়া যায়নি কোকেকে। ১২০ মিনিটের ম্যাচে তার মুহুর্ত এসেছে কমই।

মার্কো আসেনসিও ৪/১০
সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলেন একটা, কাজে লাগাতে পারেননি। ১০৪ মিনিটে মাঠ ছাড়ার আগে একটি মাত্র শট করেছিলেন রাশিয়ার গোল বরাবর।

ডেভিড সিলভা ৫/১০
বল পায়ে সিলভা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছিলেন শুরুর দিকে। সময়ের সাথেই মিলিয়ে গেছে তার খেলা।

ইস্কো ৮/১০
স্পেনের সেরা খেলোয়াড়। বল পায়ে দুর্দান্ত ছিলেন তিনি, বল ছাড়াও মুভমেন্ট দিয়ে ব্যস্ত করে রেখেছিলেন রাশিয়ার রক্ষণ। সুযোগ তৈরি, কম্বিনেশন প্লে, টেক অন- সবকিছু মিলিয়ে তার ধারে কাছে ছিলেন না মাঠের বাকিরা। দুর্ভাগ্য তার, ম্যাচটা হেরেই শেষ হয়েছে।

ডিয়েগো কস্তা ৩/১০
প্রথম ৬০ মিনিট ইস্কো আর সিলভাকে কোনো পাসই দিতে পারেননি। রাশিয়ার থ্রি ম্যান ডিফেন্ডারের কাছে হার মেনেছেন সহসাই।

বদলি
আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা ৭/১০
৬৭ মিনিটে মাঠে নেমে দলে তার প্রভাবটা ছিল বাকি অনেকের চেয়েই বেশি। শেষদিকে দারুণ একটা শট করেছিলেন, সেটা গোলও হতে পারত। কিন্তু আজ কিছুই হয়নি।

দানি কারভাহাল ৬/১০
নাচোর জায়গায় ৭০ মিনিটে নেমেছিলেন। আলাদা কোনো কিছু করা হয়নি। তবে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে রিবাউন্ড থেকে একটা গোল আদায় করার সুযোগ পেয়েছিলেন। ঠিক সময় ঠিক জায়গায় থেকেও, গোলটা করা হয়নি।

ইয়াগো আসপাস ৫/১০
নেমেই একটা শট করেছিলেন, কোণাকুণি শটে অবশ্য গোল করতে পারেননি। আকিনফেভে আটকে গেছেন তিনিও।

রদ্রিগো ৭/১০
গতি দিয়ে বোকা বানিয়ে ফেলেছিলেন রাশিয়ার রক্ষণকে। পুরো ম্যাচে যে কাজটা করতে পারেনি, স্পেন সেটাই করে দেখাচ্ছিলেন তিনি। ৩০ গজ দূর থেকে বল নিয়ে দৌড়ে ডিবক্সের ভেতর ঢুকে গিয়েছিলেন। কিন্তু রূপকথা লেখা হয়নি ভ্যালেন্সিয়া স্ট্রাইকারের। ​

রাশিয়া
ইগর আকিনফেভ ৮/১০
প্রথম ৪৫ মিনিটে তাকে কিছুই করতে হয়নি তেমন। গোলেও দোষ ছিল না তেমন। দ্বিতীয়ার্ধের শেষদিকে ইনিয়েস্তার শট ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন, আসপাসকেও গোলবঞ্চিত করেছেন। আর গুরুত্বপুর্ন সময়ে রদ্রিগোকেও আটকে দিয়েছিলেন আকিনফেভ। রাশিয়ার অধিনায়কের অবদানটাও কম নয় রাশিয়ার জয়ে।

ইলয়া কুতেপভ ৭/১০
রাশিয়ার সেরা ডিফেন্ডার ছিলেন কুতেপভ। সময় মতো কস্তাকে আড়াল করে দিয়েছেন ম্যাচ থেকে।

ইগনাশেভিচ ৫/১০
রামোসের কাছে হেরেছেন, সেখান থেকেই আত্মঘাতী গোল করেছেন। এরপর অবশ্য গুছিয়ে নিয়েছেন। রাশিয়া ম্যাচে ফেরার পর বাকিটা অময় কুতেপভের সঙ্গে জুটি বেঁধে কস্তাকে আটকে দিয়েছেন।

ফেদোর কুদ্রায়াশভ ৭/১০
রাশিয়ার থ্রি ম্যান ডিফেন্সের অন্যতম ভরসা ছিলেন। শারীরিক দক্ষতা দিয়ে খেলেছেন। যেটা দরকার ছিল, সেটাই করেছেন। স্পেন যতবার ডিবক্সের ভেতর ঢুকে পড়েছে, ততোবার মাথা ঠান্ডা রেখে তাদেরকে আবার পেছন হটতে বাধ্য করেছেন।

ফার্নান্দেজ ৭.৫/১০
দারুণ খেলেছেন পুরো ম্যাচ। সবশক্তি দিয়ে ডানপ্রান্ত ধরে উঠেছেন, আবার সময়মতও রক্ষণেও ফিরেছেন। কয়েকটা ভালো ক্রসও করেছিলেন নির্ধারিত ৯০ মিনিটে।

কুজায়েভ ৫/১০
জবনিনের সঙ্গে মিডফিল্ডে গুরু দায়িত্ব পালন করেছেন। স্পেনের পায়ে বল থাকা অবস্থায় মাঝমাঠে খুব বেশি প্রেস করেননি। তাতে স্পেনের মেধাবী ডিফেন্ডাররাও জায়গা পাননি।

জবনিন ৫/১০
ডিফেন্সিভ লাইনের আগে কুজায়েভের সঙ্গে মিলে আরেকটা দুর্গ গড়ে তুলেছিলেন। ডিফেন্ডারদের কাজে সাহায্যই করেছেন জবনিন।

ইয়ুরি ঝিরকভ ৩/১০
তার ফাউল থেকেই গোল আদায় করে নিয়েছিল স্পেন। প্রথমার্ধে তেমন সুবিধা করতে পারেননি। কোচের চোখও এড়ায়নি সেটা। বিরতির সময়ই বদলি হয়ে মাঠ ছেড়েছেন।

আন্দ্রে সেমেদভ ৫/১০
প্রতি আক্রমণে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছিলেন কয়েকবার। যদিও ম্যাচে তার প্রভাব কমই ছিল।

অ্যালেকজান্ডার গলোভিন ৬/১০
রাশিয়া আক্রমণ করেছে হাতে গোণা অল্প কয়েকটা। তার প্রায় সবগুলোরই প্রাণ ভোমরা ছিলেন গলোভিন।

আর্তেম যুবা ৭/১০
উচ্চতা সাহায্য করেছে রামোস, পিকের বিপক্ষে। বাতাসে বলও জিতেছেন বেশ কয়েকবার। পেনাল্টি আদায়ে তার অবদান তো ছিলই, পেনাল্টি থেকে গোলটাই তারই করা।

বদলি
ভ্লাদিমির গ্রানাত ৬/১০
৪৫ মিনিটে মাঠে নেমেছিলেন। ঝিরকভ সতীর্থদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে খেলতে পারছিলেন না। সেই অভাবটা পুষিয়ে দিয়েছেন।

ডেনিস চেরিশেভ ৫/১০
বল পায়ে তেমন সুবিধা করতে পারেননি। শেষদিকে স্পেন চাপে পড়ে যাওয়ার পর তার কাছ থেকে আরও ভালো কিছু আশা করেছিল রাশিয়া। গোলের একটা সুযোগ পেয়েছিলেন, সেটাও লক্ষ্যে মারতে পারেননি।

ফিদোর স্মোলভ ৫/১০
যুবার জায়গায় নেমেছিলেন। তার চেয়ে বেশি পরিশ্রম করতে পারেন বলেই স্মোলভকে নামানো। সেই তুলনায় ম্যাচে অবশ্য প্রভাব রাখতে পারেননি।

আলেকজান্ডার ইয়েরোখিন ৫/১০
৯৭ মিনিটে নেমে রক্ষণেই মনোযোগ দিতে হয়েছে বেশি।