
চরম আবহাওয়ার কবলে পড়েছে এশিয়ার একাধিক দেশ। জাপান ও কোরিয়ায় রেকর্ড গরমে মৃত ৫৬ জন, চীন, পাকিস্তান ও ভারতে বন্যায় প্রাণহানি ৫০০+, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি।
চরম আবহাওয়ার কবলে এশিয়া: প্রাণহানি ৫০০ ছাড়াল
জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় তাপপ্রবাহ, চীন, ভারত ও পাকিস্তানে বন্যার তাণ্ডব
বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। এশিয়ার বিশাল অংশ এখন এক ভয়াবহ চরম আবহাওয়ার কবলে। চলতি সপ্তাহে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ, অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৫০০ জনেরও বেশি। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মতে, এশিয়া এখন বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে দ্বিগুণ হারে উষ্ণ হয়ে উঠছে।
রেকর্ড গরমে পুড়ছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া
জাপানে রেকর্ড তাপমাত্রা: ৪১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস
২০২৫ সালের জুলাইয়ে জাপানের ইসেসাকি শহরে তাপমাত্রা রেকর্ড গড়ে ৪১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। এটি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ দিন। জুন ও জুলাই ছিল সবচেয়ে উত্তপ্ত মাস, যেখানে শুধু হিটস্ট্রোকে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৫৬ জন।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা এমন যে:
-
রেললাইন বেঁকে যাওয়ার আশঙ্কায় ট্রেন চলাচল বন্ধ।
-
অফিসকর্মীরা বলছেন, “এয়ার কন্ডিশনার ছাড়া বাঁচা সম্ভব নয়।”
দক্ষিণ কোরিয়ায় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রাতের রেকর্ড
দক্ষিণ কোরিয়ায় গত মাসে টানা ২২ দিন ধরে রাতের তাপমাত্রা ছিল ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে। এই ধরনের ‘ট্রপিক্যাল নাইট’ দেশটির ইতিহাসে বিরল। জরুরি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ জানিয়েছে, গরমজনিত অসুস্থতা নিয়ে ফোনের পরিমাণ বেড়ে গেছে কয়েকগুণ।
ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে অগাস্টে তাপমাত্রা ছাড়াল ৪০ ডিগ্রি
ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে এই প্রথম অগাস্টে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে। নির্মাণ শ্রমিকরা জানাচ্ছেন, “শহর যেন আগুনে পোড়া তাওয়া”।
তুমুল বৃষ্টি ও ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত চীন, ভারত, পাকিস্তান
চীনে অতিবৃষ্টি ও ভূমিধসের শঙ্কা
সাংহাই থেকে বেইজিং পর্যন্ত চীনের বিস্তৃত অঞ্চল এখন বন্যার পানিতে ভাসছে। ব্যাপক সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি প্রাণহানিও ঘটেছে। জরুরি পরিষেবা দল ভূমিধস রোধে জঞ্জাল পরিষ্কার করছে।
ভারতের উত্তরাখণ্ডে মেঘভাঙা বৃষ্টি
উত্তর ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যে আচমকা প্রবল বৃষ্টিপাতে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। বহু মানুষ নিখোঁজ, শতাধিক প্রাণহানির আশঙ্কা। পাহাড়ি এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।
পাকিস্তানে শিশু ও নারীসহ ৩০০ জনের মৃত্যু
জুন মাস থেকে পাকিস্তানে বৃষ্টিজনিত কারণে প্রায় ৩০০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে, যার মধ্যে শতাধিক শিশু। শত শত ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে। সরকারের জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম চলছে।
হংকংয়ে ১৮৮৪ সালের পর সবচেয়ে বেশি অগাস্ট বৃষ্টি
মঙ্গলবার হংকংয়ে মাত্র একদিনেই ৩৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা ১৮৮৪ সালের পর আগস্ট মাসে সবচেয়ে বেশি। জনজীবনে নেমে এসেছে বিপর্যয়।
জলবায়ু পরিবর্তনই মূল কারণ: বলছেন বিজ্ঞানীরা
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরম আবহাওয়ার প্রকোপ বেড়েছে। আগে যে ধরনের দুর্যোগ শতাব্দীতে একবার হতো, এখন তা বছরে একাধিকবার ঘটছে। জলবায়ু সংকট এখন আর ভবিষ্যতের বিষয় নয়— এটি বর্তমানের বাস্তবতা।
ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান (গত তিন দশকে):
-
ক্ষতি: প্রায় দুই লাখ কোটি ডলার
-
ক্ষতিগ্রস্ত: কোটি কোটি মানুষ
-
কৃষি, অবকাঠামো ও স্বাস্থ্য খাত সবচেয়ে বিপর্যস্ত
করণীয় কী?
সরকার ও নাগরিকদের জন্য করণীয়:
-
নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো
-
পাবলিক ট্রান্সপোর্টে নিরুৎসাহিত করা প্রাইভেট গাড়ি
-
বন্যা প্রতিরোধে অবকাঠামো শক্তিশালীকরণ
-
হিটস্ট্রোক ও পানির সংকট মোকাবেলায় স্বাস্থ্যসেবা প্রস্তুত রাখা
চরম আবহাওয়া এশিয়ার ভবিষ্যৎ নয়, বর্তমান। এখনই সময় সংকট মোকাবেলায় সম্মিলিত পদক্ষেপ নেওয়ার। নাহলে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এক ভয়াবহ পৃথিবী রেখে যাব আমরা।
