
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে কাপ্তাই হ্রদের পানি বেড়ে রাঙামাটিতে আড়াই হাজার পরিবার পানিবন্দী। ফেরি বন্ধ, বাস চলাচল বন্ধ, শিল্পনগর প্লাবিত। বিস্তারিত পড়ুন।
রাঙামাটিতে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি: পানিবন্দী প্রায় ২,৫০০ পরিবার
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের ফলে রাঙামাটিতে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কাপ্তাই হ্রদের পানি বেড়ে গিয়ে জেলার রাঙামাটি সদর, বাঘাইছড়ি ও লংগদু উপজেলার প্রায় আড়াই হাজার পরিবার এখনো পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে।
ফেরি চলাচল বন্ধ, ব্যাহত বাস যোগাযোগ
কর্ণফুলী নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রাঙামাটি-বান্দরবান সড়কে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে এই সড়কে বাস চলাচলও বন্ধ রয়েছে।
আজ শুক্রবার বেলা ১১টা পর্যন্ত ফেরি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল।
কাপ্তাই হ্রদের পানি কিছুটা কমেছে
আজকের পানির উচ্চতা: ১০৮.৭৪ ফুট
কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎকেন্দ্রের সূত্র মতে, কাপ্তাই হ্রদের পানি এখনো বিপৎসীমার ওপরে থাকলেও আজ কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাঁধের ১৬টি গেট দিয়ে সাড়ে তিন ফুট করে পানি ছাড়ায় নদীতে প্রবল স্রোতের সৃষ্টি হয়।
পানিবিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মো. মাহমুদ হাসান বলেন:
“পানির পরিমাণ বেশি হওয়ায় গেটগুলো দিয়ে একাধিকবার পানি ছাড়তে হয়েছে। আজ হ্রদের পানির উচ্চতা ১০৮.৭৪ ফুট, যা গতকালের চেয়ে সামান্য কম।”
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও আশ্রয়কেন্দ্রের হালচাল
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সমূহ:
-
বিহারপুর ও মাস্টারপাড়া (রাঙামাটি শহর) – ৬০টি পরিবার
-
খেদারমারা ও আমতলীয় (বাঘাইছড়ি) – ৩০০টি পরিবার
-
সদর এলাকা – ২০০টি পরিবার
-
লংগদু উপজেলা – প্রায় ২,০০০ পরিবার
মোট: প্রায় ২,৫০০ পরিবার এখনো পানিবন্দী।
আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত পরিবার:
-
বর্তমানে ৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১০৩টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন।
শিল্পনগরীতে পানির দাপট: ৪০ কারখানা প্লাবিত
রাঙামাটির মানিকছড়ি এলাকার বিসিক শিল্পনগর হ্রদের পানিতে তলিয়ে গেছে।
-
গতকাল পর্যন্ত প্লাবিত কারখানা: ৪০টি
-
আজ সক্রিয়ভাবে প্লাবিত: ১৫টি
-
শিল্প এলাকায় ৩টি সড়ক এখনো পানিতে নিমজ্জিত, যার ফলে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে।
চারণভূমি তলিয়ে যাওয়ায় নৌকায় ছাগল চরাতে বাধ্য
রাঙামাটির ভালেদী আদাম এলাকায় আশপাশের চারণভূমি পানিতে ডুবে গেছে। ফলে এক বৃদ্ধকে ছাগল নিয়ে নৌকায় করে দূরের এলাকায় চরাতে যেতে দেখা গেছে।
জরুরি খাদ্য সহায়তা: প্রশাসনের তৎপরতা
লংগদু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন,
“আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা পরিবারগুলোর জন্য রান্না করা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্যদের মধ্যে শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।”
পানিবন্দী এলাকাগুলোর প্রধান চ্যালেঞ্জ:
-
নৌকা ছাড়া কোথাও যাওয়া সম্ভব নয়
-
সড়কগুলো সম্পূর্ণভাবে পানির নিচে
স্থানীয়দের অভিমত
শিপন চাকমা, বিহারপুর এলাকার বাসিন্দা:
“আমাদের এলাকা পুরোপুরি পানির নিচে। ৬০টি পরিবার পানিবন্দী হয়ে দুর্ভোগে আছি।”
মো. হাফিজ উদ্দিন ও মো. রহমত উল্লাহ, বাঘাইছড়ি:
“আমতলী ইউনিয়নের চারটি গ্রামে দুই শতাধিক পরিবার পানিবন্দী। সড়কগুলো তলিয়ে যাওয়ায় নৌকা ছাড়া চলাচল অসম্ভব।”
করণীয় ও সতর্কতা
করণীয়:
-
প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রাখতে হবে
-
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের দ্রুত পূর্ণ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে
-
বিপৎসীমার ওপরে থাকাকালীন বাঁধ ও গেট পর্যবেক্ষণে বাড়তি সতর্কতা রাখা উচিত
সতর্কতা:
-
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় বাড়ির বাইরে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন
-
নৌকা ছাড়া প্লাবিত এলাকায় চলাচল বিপজ্জনক হতে পারে
রাঙামাটিতে চলমান এই বন্যা পরিস্থিতি অনেক মানুষের জীবনযাত্রায় স্থবিরতা এনেছে। পানি কিছুটা কমলেও এখনো হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগে রয়েছে। প্রশাসনের সহায়তা থাকলেও সংকটের সময় এখনো কাটেনি।
