গাজীপুরে প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া করে সাংবাদিককে কুপিয়ে হত্যা

গাজীপুরে প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া করে সাংবাদিককে কুপিয়ে হত্যা
সাংবাদিক মো. আসাদুজ্জামান তুহিন

গাজীপুরের চৌরাস্তা এলাকায় প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। পুলিশের তদন্ত চলছে। বিস্তারিত পড়ুন।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

গাজীপুরে সাংবাদিককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা

গাজীপুর মহানগরের চৌরাস্তা এলাকায় প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে সাংবাদিক মো. আসাদুজ্জামান তুহিনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে একদল দুর্বৃত্ত। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাত সাড়ে আটটার দিকে চান্দনা চৌরাস্তা ঈদগাঁ মার্কেটের সামনে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে।

নিহত তুহিন দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ-এর গাজীপুর প্রতিনিধি ছিলেন এবং তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামে।

হত্যাকাণ্ডের আগে কী ঘটেছিল?

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় তুহিন স্থানীয় চৌরাস্তা এলাকায় অবস্থান করছিলেন। পূর্বশত্রুতার জেরে ৫-৬ জন অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত হঠাৎ করে তাকে ধাওয়া করে। প্রাণ রক্ষার চেষ্টা করে তিনি দৌড়ে যান ঈদগাঁ মার্কেটের একটি চায়ের দোকানে।

শেষ আশ্রয়স্থলেও মৃত্যু এড়াতে পারলেন না

চায়ের দোকানের মালিক খায়রুল ইসলাম জানান:

“আমি দোকানে বসে ছিলাম। হঠাৎ করে তুহিন দৌড়ে এসে দোকানে ঢুকে পড়ে। পেছন পেছন তিনজন দুর্বৃত্ত ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে রাখে। বাইরে আরও দুজন রামদা হাতে দাঁড়িয়ে ছিল।”

তিনি আরও বলেন, “আমি বাধা দিতে গেলে আমাকেও কুপিয়ে ফেলার হুমকি দেয়। আশপাশে লোকজন থাকলেও কেউ এগিয়ে আসেনি।”

হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ভাইরাল, নিহতের ফেসবুক পোস্ট আলোচনায়

ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই নৃশংস হত্যার ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ে। নিহত সাংবাদিক তুহিনের ফেসবুক প্রোফাইল ঘেঁটে দেখা গেছে, মৃত্যুর ঠিক কিছু সময় আগেও তিনি গাজীপুরের নাগরিক দুর্ভোগ নিয়ে পোস্ট করেছিলেন।

  • রাত ৮টার দিকে একটি ভিডিও শেয়ার করে লিখেন:

    “যেমন খুশি তেমন রাস্তা পার হওয়ার দৃশ্য, গাজীপুর চৌরাস্তা।”

  • তারও দুই ঘণ্টা আগে জয়দেবপুর রেলগেট এলাকার ড্রেনেজ সমস্যার ছবি শেয়ার করে লিখেন:

    “এখনও সংস্কার হয়নি, দুর্ভোগ কমার নাম নেই।”

এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, তুহিন স্থানীয় সমস্যাগুলো তুলে ধরায় কারও রোষানলে পড়েছিলেন।

পুলিশের বক্তব্য ও তদন্তের অগ্রগতি

গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার মো. রবিউল হাসান জানিয়েছেন:

“ঘটনার ভিডিও ফুটেজ হাতে পেয়েছি। কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্লু পাওয়া গেছে। আমরা তদন্ত শুরু করেছি এবং হত্যাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”

বাসন থানার ওসি শাহিন খান জানান:

“ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।”

স্থানীয় সাংবাদিক সমাজে উত্তেজনা ও ক্ষোভ

এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে গাজীপুরের সাংবাদিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেকেই এটিকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছেন। তারা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও সাংবাদিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক

সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যাকাণ্ড শুধু একটি ব্যক্তি হত্যার ঘটনা নয়; এটি সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও মুক্ত চিন্তার ওপর সরাসরি আঘাত। এ ঘটনায় অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করলেই শুধু ন্যায়বিচার সম্ভব হবে না, বরং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে পথ দেখাবে।