
নওগাঁ পৌরসভায় হঠাৎ গৃহকর ১০ থেকে ১৫০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি—একজনের ৩৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৪২,১১০ টাকা। নাগরিকেরা বলছেন এটা অন্যায় ও অযৌক্তিক। জেনে নিন বিস্তারিত।
নওগাঁয় হঠাৎ গৃহকর ১১৭ গুণ বৃদ্ধি: নাগরিকদের তীব্র ক্ষোভ
কর বৃদ্ধিতে বিপাকে ৩০ হাজার ভবনমালিক
নওগাঁ শহরে গৃহকর হঠাৎ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়ে নাগরিকদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। পৌরসভার নবনির্ধারিত কর তালিকায় দেখা যাচ্ছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে গৃহকর ১০ গুণ নয়, ১১৭ গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। কোমাইগাড়ী এলাকার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আখতারুন বেগম এর একটি উদাহরণ—গত বছর যিনি ৩৬০ টাকা গৃহকর দিয়েছেন, এবার তাকে দিতে বলা হয়েছে ৪২ হাজার ১১০ টাকা।
কর বৃদ্ধি কতটা ভয়াবহ?
এক নজরে:
| পূর্বের গৃহকর | বর্তমান গৃহকর | বৃদ্ধির হার |
|---|---|---|
| ৩৬০ টাকা | ৪২,১১০ টাকা | ১১৭ গুণ |
| ৫৪০ টাকা | ৩২,০০০ টাকা | ~৫৯ গুণ |
| ৯০০ টাকা | ৯,০০০ টাকা | ১০ গুণ |
পৌরসভা কী বলছে গৃহকর বৃদ্ধির কারণ?
কর নির্ধারণের নতুন নিয়ম
পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক টি এম এ মমিন জানিয়েছেন,
২০২৪–২৫ অর্থবছরের আদর্শ কর তফসিল অনুযায়ী ভবনের আয়তন ও ব্যবহার বিবেচনায় কর নির্ধারণ করা হয়েছে।
কর নির্ধারণের পদ্ধতি:
▶ ভাড়া আদায়ের ভিত্তিতে কর:
-
কোনো বাড়ির মাসিক ভাড়া যদি হয় ১০,০০০ টাকা → বার্ষিক আয় = ১,২০,০০০ টাকা
-
দুই মাস বাদ দিয়ে কর নির্ধারিত হয় বাকি ১০ মাসের উপর → কর = ২০% = ২০,০০০ টাকা
▶ নিজে বসবাস করলে:
-
বার্ষিক আয় ধরা হয় = ১,০০,০০০ টাকা
-
কর নির্ধারণ = ১৫% = ১৫,০০০ টাকা
পৌরসভার সহকারী কর নির্ধারক জুবায়ের হোসেন জানান, বহু বছর ধরে ভাড়াভিত্তিক এই পদ্ধতি চালু রয়েছে। নির্মাণ ব্যয়ের ভিত্তিতে কর নির্ধারণ করলে কর আরও বেশি হতো বলে দাবি করেন তিনি।
নাগরিকদের অভিজ্ঞতা ভিন্ন
আখতার হামিদ (৪ নম্বর ওয়ার্ড):
“আমার একতলা বাড়িতে আমি ও আমার ভাই থাকি। কোনো পরিবর্তন না ঘটলেও গৃহকর ৫৪০ টাকা থেকে এক লাফে ৩২ হাজার টাকা করা হয়েছে। এটা কীভাবে যুক্তিযুক্ত?”
জিয়ারুল হক (অটোরিকশাচালক):
“তিন রুমের আধাপাকা বাড়ি, পরিবার নিয়ে থাকি। আগে দিতাম ৩৬০ টাকা, এখন চাচ্ছে ৩০ হাজার! এই টাকায় কর দিলে খাব কী, সংসার চালাব কীভাবে?”
সাইফুল ইসলাম (বাঙ্গাবাড়িয়া):
“আমার বাসার কর ৯০০ থেকে ৯,০০০ টাকা করা হয়েছে। ব্যবহার বা আয় বাড়েনি, শুধু কর বাড়ছে।”
আপত্তি জানানো ও কর ছাড়ের সুযোগ
-
আপত্তি ফি: ৫০ টাকা
-
রিভিউ বোর্ডে আবেদন করা যাবে
-
পৌর প্রশাসকের ক্ষমতা: সর্বোচ্চ ১০% কর ছাড় দিতে পারেন
নাগরিক আন্দোলন ও প্রতিবাদ
১ জুলাই থেকে কর বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হয়েছে প্রতিবাদ কর্মসূচি।
৩ আগস্টের কর্মসূচি:
-
স্থান: শহরের মুক্তির মোড়
-
আয়োজক: নাগরিক অধিকার আন্দোলন
-
সভাপতি: আজাদ হোসেন
বক্তাদের বক্তব্য:
-
নওগাঁ ১৯৮৯ সালে প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও আজও জলাবদ্ধতা, ভাঙা রাস্তা, পানির সংকট—এসব সমস্যার সমাধান হয়নি।
-
নাগরিক সেবা নেই, অথচ কর বাড়ানো হচ্ছে বারবার।
-
কর বৃদ্ধি বাতিল করে আগের নিয়মে কর নির্ধারণের দাবি তোলেন বক্তারা।
-
প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
বিশ্লেষণ: গৃহকর নিয়ে কী হতে পারে ভবিষ্যৎ?
এই হঠাৎ কর বৃদ্ধি সাধারণ নাগরিকদের জীবনযাত্রা কঠিন করে তুলছে। নিম্ন ও মধ্য আয়ের পরিবারগুলোর পক্ষে এ বাড়তি কর পরিশোধ করা প্রায় অসম্ভব। প্রশাসনের উচিত বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে যুক্তিযুক্ত, ধাপে ধাপে কর বৃদ্ধির নীতি গ্রহণ করা।
করপোরেট ও পৌর সংবাদে আপডেট থাকতে চান?
নওগাঁ পৌরসভা, গৃহকর আপডেট, ও নাগরিক অধিকার আন্দোলন সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য পেতে আমাদের ফলো করুন।
