
কুষ্টিয়া দৌলতপুরে বজ্রপাতে ১১টি মহিষ নিহত: দু’জন কৃষকের খাদ্য ও জীবিকায় বড় ক্ষতি হয়েছে, সরকারি সহায়তা কামনা করছেন তারা।
দৌলতপুরে বজ্রপাতে ১১টি মহিষের মৃত্যু
ঘটনা সংক্ষিপ্তসার
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকায় এক ভোরে বজ্রপাতে মাত্র এক রাতে ১১টি মহিষ নিহত হয়েছে। চরের একটি বাথানে আশ্রিত অবস্থায় এই মহিষগুলো বজ্রবিদ্যুৎ আঘাতে নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও সংখ্যা
-
কৃষক নবির আলী (নওয়াজুদ্দিনের ছেলে) তার ১০টি মহিষ হারিয়েছেন।
-
একই পরিবারের অন্য একজন, এলাহি ঢালি, একটি মহিষ হারিয়েছেন।
মোট মিলিয়ে দুই কৃষকের ১১টি মহিষ বজ্রপাত থেকে বাঁচতে পারেনি।
অবস্থান ও পালন প্রেক্ষাপট
মৃত মহিষগুলো নদীর পাড়ে স্বল্প উচ্চতায় নির্মিত বাথানে পালন করা হচ্ছিল। স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছেন, এ সময় বাথানটিতে আশ্রিত ছিল ওই মহিষগুলো।
স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য
চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান জানালেন:
“দুই কৃষকের মোট ১১টি মহিষ বজ্রপাতে মারা গেছে। নবির আলীর সমস্ত মহিষ মৃত্যু হয়েছে।”
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের মনোভাব
মহিষ মালিক এলাহি ঢালি বলেন:
“নবির আলী আমার ফুপাতো ভাই। তার ১০টি ও আমার একটি মহিষ মারা গেছে। আমাদের বাথানে প্রায় ৩০০টি মহিষ আছে, মালিক প্রায় ২২ জন। এতগুলো মহিষ সংরক্ষণ করা সম্ভব না হওয়ায় আমরা মৃতগুলো নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছি। সরকার যদি সহায়তা দেয়, আমরা উপকৃত হতাম।”
প্রাণিসম্পদ বিভাগের মন্তব্য
দৌলতপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মাহামুদুল ইসলাম তথ্য নিশ্চিত করে জানালেন:
“ঘটনা আমরা জানতে পেরেছি, দুই কৃষকের মোট ১১টি মহিষ বজ্রপাতে মারা গেছে।”
স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল হাই সিদ্দিকী বলেন:
“মহিষ নিহতের খবর শুনেছি। যদি সরকারি সহায়তা বরাদ্দ হয়, তা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে পৌঁছে দেওয়া হবে।”
সারসংক্ষেপ
দৌলতপুরে বজ্রপাতে ভোরে ১১টি মহিষ নিহতের ঘটনায় দুই কৃষকের জীবিকায় বড় ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ইতোমধ্যে ঘটনা পিছু জানিয়েছে, আর ক্ষতিগ্রস্তরা সরকারি সহায়তার প্রত্যাশা করছেন যেন প্রাণিসম্পদ শিল্প আবার সচল হতে পারে।
