গাজায় এক চামচ ভাতই এখন হাসির কারণ

গাজায় এক চামচ ভাতই এখন হাসির কারণ
গাজায় এক চামচ ভাতই এখন হাসির কারণ

গাজায় এক চামচ ভাত এখন ‘হাসির কারণ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে, ভিক্ষুক সময় পার করছে মানুষ। রিলিফ এন্ড ওয়ার্কস এজেন্সির কর্মী ডাহলিয়ার বর্ণনায় জানা যায় কিভাবে ক্ষুধা প্রতিটি সকালে নতুন দুঃসহতা নিয়ে আসে এবং ত্রাণ না গেলে পুরো অঞ্চল বিপদের মুখে।

গাজায় ক্ষুধার্ত দূর্যোগ: এক চামচ ভাতের হাস্যকর অবস্থান

ডাহলিয়ার কথায় রোগা-ক্ষুধিত দিনের শুরু

জাতিসংঘের সংস্থা UNRWA‑র (United Nations Relief and Works Agency) স্থানীয় কর্মী ডাহলিয়া বলছেন, “গাজায় এখন এক চামচ ভাতই হাসির কারণ”। তিনি আরও তুলে ধরেছেন, “একটি ছোট রুটির টুকরো এখন সম্পদ, আর এক চামচ ভাত হয়ে উঠেছে হাসির বিষয়”। Al Jazeera‑র এ প্রতিবেদনে বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) এই করুণ সত্য উঠে এসেছে।

প্রতিটি সকাল একটি প্রশ্ন: আজ কি খাবার পাবে?

ডাহলিয়ার এক্স (সাবেক টুইটার) বার্তায় বর্ণিত ছবিটি হৃদয় ঝলসে দেয়:

“গাজার ক্ষুধা এখন কেবল ছায়া নয়, এটি আমাদের নিত্যসঙ্গী। প্রতিটি সকালে আমি জেগে উঠি একই প্রশ্ন নিয়ে: আজ কি আমি এবং আমার বাচ্চাদের খাওয়াতে পারবো?”

শিশুর ক্ষুধার্ত চেয়ে থাকা—বোমার শব্দ থেকেও বেশি ভয়ঙ্কর নীরবতা

তিনি লিখেছেন:

“আমার বাচ্চারা যখন খাবার চায়, তারপর যে নীরবতা নেমে আসে তা যেকোনো বোমার শব্দের চেয়েও প্রচণ্ড।” শিশুদের ভূখণ্ডে বেদনাময় অপেক্ষার ছবি তুলে ধরে।

আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে, তবে ত্রাণ প্রবেশ বন্ধই আছে

  • আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় চাপ সৃষ্টি করলেও এখনও ইসরাইল কোনো ইতিবাচক ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দেয়নি।

  • UNRWA জানিয়েছে, তাদের গুদামে ত্রাণ মজুত রয়েছে যা গাজার পুরো জনসংখ্যাকে তিন মাসের জন্য খাওয়াতে পারত, কিন্তু এই সমর্থন প্রবেশে বাধা রয়েছে এবং বাজারে দামে অসামান্য বৃদ্ধি হয়েছে—মৌলিক খাদ্যদ্রব্যের দাম এখন প্রায় ৪০ গুণ বেড়ে গেছে।

খাদ্য সংকটের অভিশাপ — এক চামচ ভাত হয়ে যায় বিপদসংকেত

  • বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজার খাদ্যশস্য ভ্যানাগন প্রায় এক‑চতুর্থাংশ চাষযোগ্য জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মৎস্য ও কৃষিক্ষেত্রে কার্যক্রম প্রায় স্তব্ধ। এর ফলে খাদ্য ও পুষ্টির উভয় অভাব সূচক সংকটকর পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।

  • ইউনিসেফ ও স্বাস্থ্যসেবা সংস্থার রিপোর্ট থেকে জানা যায়, ৬‑৫৯ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে তীব্র অপুষ্টি দোয়েক গুণ বেড়েছে। উদাহরণস্বরূপ, Deir al‑Balah‑এ হার ২.৮‑গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এগিয়ে আসা প্রয়োজন: দ্রুত ত্রাণ ও আন্তর্জাতিক সহায়তা

  • অন্যান্য ত্রাণদাতা সংস্থা তুলে ধরছে, খাদ্য ও জ্বালানি সহজে প্রবেশের অনুমতি দিলে গাজা দুর্ভিক্ষের চরম ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাবে।

  • বিশেষ করে, তেল, গ্যাস, রান্নার জ্বালানি ও বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ অবিলম্বে শুরু করতে হবে যাতে স্বাস্থ্য ও WASH (Water, Sanitation, Hygiene) সেবা কার্যকর থাকে — নইলে সম্পূর্ণ একটি মানবিক বিপর্যয় নেমে আসবে।

সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ

  • গাজায় এক চামচ ভাত কিংবা একটি ছোট রুটির টুকরো আজকের মানুষের জন্য ‘সম্পদ’ হয়েছে।

  • প্রতিটি সকালে জন্ম নেয় এক প্রশ্ন: পরিবারকে খাওয়াতে পারব কি না?

  • শিশুদের ক্ষুধার্ত চেয়ে থাকা নিষ্প্রাপ্য নীরবতায় রূপ নিয়েছে আশঙ্কা।

  • আন্তর্জাতিক চাপ ও ত্রাণ চেষ্টার পরেও কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।

  • প্রযুক্তিগতভাবে প্রস্তুত থাকা খাদ্য ও সাপ্লাই গুদাম থাকলেও প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় তা কাজে আসছে না।

এই ভয়াবহ মানবিক বাস্তবতা থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় হল নিরাপদ ও পর্যাপ্ত হারে ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি ও অবাধ বিতরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। যদি ত্রাণ সহায়তা দ্রুত চালু না হয়, গাজার দুর্ভিক্ষ মানবাধিকার বিপর্যয়ের মাপকাঠিতে পৌঁছে যেতে পারে।