এইচএসসির খাতায় রেজিস্ট্রেশন নম্বর ভুল লিখে হতাশায় পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা

এইচএসসির খাতায় রেজিস্ট্রেশন নম্বর ভুল লিখে হতাশায় পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা
এইচএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা

ভোলার তজুমদ্দিনে চলমান এইচএসসি পরীক্ষার জীববিজ্ঞান বিষয়ের খাতায় রেজিস্ট্রেশন নম্বর ভুল লেখার কারণে মানসিক চাপে পড়ে তনু চন্দ্র দাস (১৮) আত্মহত্যা করেছেন। বিস্তারিত জানুন এই মর্মান্তিক ঘটনার পেছনের গল্প।

ঘটনাস্থল ও পরিচিতি

তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের শায়েস্তাকান্দি গ্রামে ঘটে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা। তনু চন্দ্র দাস (১৮), স্থানীয় তজুমদ্দিন মহিলা কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক বিতিস চন্দ্র দাস ও গৃহিণী উজ্জলা রানী দাস দম্পতির একমাত্র সন্তান ছিলেন। তিনি চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন।

রেজিস্ট্রেশন নম্বর ভুল, তারপর…

সোমবার, ২৮ জুলাই ২০২৫ – এই দিনে ছিল জীববিজ্ঞান প্রথম পত্রের পরীক্ষা। পরীক্ষার শেষে বাসায় ফিরে তনু তার মাকে জানান, তিনি খাতায় রেজিস্ট্রেশন নম্বর ভুল লিখেছেন। এই ভুলের জন্য বারবার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি আর পাস করব না।”

তার মা সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তনুর মানসিক অস্থিরতা কমেনি।

আত্মহত্যা ও হাসপাতালে নেওয়া

সন্ধ্যার পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক মনে হলেও রাত ৯টার দিকে হঠাৎ তনুর চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা তার রুমে গিয়ে দেখেন সে কীটনাশক পান করেছে।

তাৎক্ষণিকভাবে তাকে তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ভোলার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তনুকে মৃত ঘোষণা করেন।

চিকিৎসকের ভাষ্য

ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. জুনায়েদ হোসেন বলেন:

“তনুকে মৃত অবস্থায় আমাদের কাছে আনা হয়েছিল। কীটনাশক পান করায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।”

পরিবারের প্রতিক্রিয়া

তনুর মা উজ্জলা রানী বলেন,

“সে বাসায় এসে অস্থির হয়ে পড়ে। খাতায় রেজিস্ট্রেশন নম্বর ভুল করায় সে নিজেকে খুব অপরাধী মনে করছিল। ও বলছিল, ও আর পরীক্ষায় পাস করতে পারবে না। আমি অনেক বুঝিয়েছি। কিন্তু সে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেনি।”

শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ ও সমাজের দায়

এই ঘটনা আমাদের সমাজের এক ভয়াবহ বাস্তবতা সামনে নিয়ে এসেছে—পরীক্ষা কেন্দ্রিক চাপে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। একটি ছোট ভুলের কারণে একজন মেধাবী শিক্ষার্থী নিজের জীবন হারালো, যা পুরো সমাজের জন্য একটি বড় সতর্ক সংকেত।

সমাধান ও করণীয়

  • স্কুলে কাউন্সেলিং সার্ভিস চালু করা

  • পরীক্ষা চলাকালীন মানসিক স্বাস্থ্য হেল্পলাইন

  • পিতা-মাতার সাথে নিয়মিত ওয়ার্কশপ

  • একাডেমিক ভুল সংশোধনের নিয়ম সহজ ও দ্রুত করা

ভুল রেজিস্ট্রেশন নম্বরের মতো একটি সাধারণ ত্রুটি একজন শিক্ষার্থীকে এমন জায়গায় ঠেলে দিয়েছে যেখান থেকে আর ফিরে আসা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনা শিক্ষা ব্যবস্থায় মানসিক স্বাস্থ্যকে অধিক গুরুত্ব দেওয়ার জোর দাবি তুলে ধরে।