১৬০ দিন পর কুয়েটে ক্লাস শুরু, উচ্ছ্বাসিত শিক্ষার্থীরা

১৬০ দিন পর কুয়েটে ক্লাস শুরু, উচ্ছ্বাসিত শিক্ষার্থীরা
১৬০ দিন পর কুয়েটে ক্লাস শুরু

১৬০ দিন বন্ধ থাকার পর কুয়েটে ক্লাস শুরু হয়েছে। নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মাকসুদ হেলালীর নেতৃত্বে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণে প্রাণ ফিরে পেয়েছে ক্যাম্পাস। জানুন বিস্তারিত এই রিপোর্টে।

১৬০ দিন পর কুয়েট খুলল, শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর ক্যাম্পাস

২৯ জুলাইয়ের সকাল: বৃষ্টির মধ্যেও ক্লাসে ফিরলেন শিক্ষার্থীরা

দীর্ঘ ১৬০ দিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) আবারও শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। আজ মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) সকাল থেকে পুরোদমে শুরু হয়েছে নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম।

ভোর থেকেই শ্রাবণের বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা দলে দলে ক্যাম্পাসে ফিরে আসেন। একটানা পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর বন্ধুরা একে অপরকে দেখে আবেগে আপ্লুত হন। কুয়েট যেন ফিরে পেয়েছে তার হারানো প্রাণ।

শিক্ষার্থীদের অনুভূতি: “প্রথম ক্লাসের অনুভূতি স্কুল জীবনের মতো”

২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী আসলাম হোসেন বলেন,

“ক্লাস শুরুর খবর পেয়েই আগের দিন খুলনায় চলে এসেছি। দীর্ঘদিন পর বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে দেখা হয়ে খুব ভালো লাগছে। অনেকে আবার নতুন করে রুম ভাড়া নিচ্ছে, এটা যেন এক নতুন শুরুর অনুভূতি।”

১৯ ব্যাচের তানিম আহমেদ জানান,

“বিশ্ববিদ্যালয় খোলার খবরটাই সবচেয়ে বড় স্বস্তির। যদিও প্রথম দিকে সব কিছু পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে না, তবে আমরা ধীরে ধীরে আগের ছন্দে ফিরবো। শিক্ষকদের প্রতিও কৃতজ্ঞ, কারণ তাঁরাও ফিরে এসেছেন শ্রেণিকক্ষে।”

২২ ব্যাচের শিক্ষার্থী দীপ্ত বলেন,

“পাঁচ মাস পর ক্লাস শুরু হওয়া আমাদের জন্য বিশাল স্বস্তির বিষয়। আমরা ইতোমধ্যেই এক সেমিস্টার পিছিয়ে গেছি, এখন আশাবাদী যে নতুন উপাচার্যের নেতৃত্বে নিয়মিত কার্যক্রম চলবে।”

আম্মান, ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী, বলেন,

“আজকের দিনটা আমার কাছে স্পেশাল। অনেকটা স্কুল জীবনের প্রথম ক্লাসের মতো লাগছে।”

শিক্ষকদের প্রত্যাবর্তন ও নেতৃত্বে নতুন অধ্যায়

অধ্যাপক ফারুক হোসেন, সাধারণ সম্পাদক, কুয়েট শিক্ষক সমিতি, বলেন,

“নবনিযুক্ত উপাচার্যের আশ্বাসে শিক্ষকরা তিন সপ্তাহের জন্য কর্মবিরতি স্থগিত করেছেন। শিক্ষা পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আমরা শ্রেণিকক্ষে ফিরেছি।”

নবনিযুক্ত উপাচার্য ড. মো. মাকসুদ হেলালী বিভাগ পরিদর্শন করে বলেন,

“আমি সবার সহযোগিতা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও একাডেমিক পরিবেশ বজায় রাখতে কাজ করব। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় যেন কোনো বিঘ্ন না ঘটে, তা নিশ্চিত করবো।”

পেছনের গল্প: আন্দোলন থেকে উত্তরণ

  • ১৮ ফেব্রুয়ারি: কুয়েট শিক্ষার্থীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা ঘটে।

  • এরপর: শিক্ষার্থীরা তৎকালীন উপাচার্য, প্রো-ভিসি ও ছাত্রকল্যাণ পরিচালকের অপসারণ দাবি করে আন্দোলনে নামে।

  • পরিস্থিতির উত্তাপ: শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক উপাচার্য ও প্রো-ভিসিকে অপসারণ করা হয়।

  • তবুও উত্তেজনা: শিক্ষক সমিতি লাঞ্ছনার ঘটনার বিচার না হওয়ায় কর্মবিরতিতে যায়।

  • ২৪ জুলাই: ড. মাকসুদ হেলালীকে কুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

  • ২৫ জুলাই: তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং আলোচনার মাধ্যমে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়।

ছাত্রজীবনের স্বাভাবিকতায় প্রত্যাবর্তন: আশার আলো

বৃষ্টিস্নাত ক্যাম্পাসে মঙ্গলবার যেসব শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন, তারা ফিরে পেয়েছেন হারিয়ে যাওয়া ক্লাসঘরের গন্ধ, প্রিয় মুখগুলোর হাসি এবং পরিচিত পরিবেশের উষ্ণতা।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে যে, সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রেখে নিয়মিত পাঠদান চলবে এবং শিক্ষার্থীরা পূর্বের ক্ষতি দ্রুতই কাটিয়ে উঠবে।