জাতীয় নির্বাচন ২০২৬: আগস্টে তারিখ ঘোষণার প্রস্তুতি

জাতীয় নির্বাচন ২০২৬জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে পারে। আগস্টের প্রথম সপ্তাহেই প্রধান উপদেষ্টা জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে তারিখ ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে।

নির্বাচন ২০২৬: আগস্টেই আসছে তারিখ ঘোষণার সম্ভাবনা

জাতীয় নির্বাচন নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত। সরকারের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, আগস্টের প্রথম সপ্তাহেই ঘোষণা আসতে পারে জাতীয় নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ। এই ঘোষণা আসতে পারে গণ–অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিকে ঘিরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের মাধ্যমে।

নির্বাচন কমিশনকে ভোটের প্রস্তুতির বার্তা পৌঁছাবে আগস্টেই

ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা

সরকার চাইছে, নির্বাচন কমিশন (ইসি) ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করুক। এ-সংক্রান্ত বার্তা আগস্টের প্রথম সপ্তাহেই কমিশনে পাঠানো হতে পারে।

প্রস্তুতির সময়সীমা ও নির্দেশনা চূড়ান্তের পথে

নির্বাচনের সময়সীমা ঘোষণার মাধ্যমে কমিশনকে সময়মতো প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এতে নির্বাচন পরিচালনার কাজ গতি পাবে।

৫ আগস্টের মধ্যে ঘোষণা হতে পারে রাজনৈতিক ঐকমত্যের “জুলাই সনদ”

ঐকমত্য সনদের খসড়া তৈরি, ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আলোচনা শেষ

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ইতোমধ্যে ‘জুলাই সনদ’-এর একটি খসড়া তৈরি করেছে।
রোববার সকালে কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, “সোমবারের মধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলোকে সনদের খসড়া পাঠানো হবে।”

সই প্রক্রিয়া ও আলোচনা সীমিত পর্যায়ে হবে

কমিশন জানিয়েছে, খসড়া সনদে মৌলিক আপত্তি না থাকলে তা নিয়েই সই প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হবে। এতে থাকবে দেশের রাজনৈতিক সংকটের পটভূমি এবং বিভিন্ন দলের সম্মিলিত অঙ্গীকার।

বিএনপি ও সরকারের বৈঠক: ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোটের ইঙ্গিত

লন্ডনে তারেক রহমান-ইউনূস বৈঠকে কি সিদ্ধান্ত হয়েছিল?

১৩ জুন লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস বৈঠক করেন।
যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়,

“প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে, ২০২৬ সালের রমজানের আগেই ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন হতে পারে।

বিএনপির মধ্যে দ্বিধা: নির্দেশনার ঘাটতি ও রাজনৈতিক সন্দেহ

বিএনপি বলছে, সরকারের পক্ষ থেকে এখনও নির্বাচন কমিশনকে কোনো স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়নি, যা সন্দেহ ও অনাস্থা বাড়িয়ে তুলছে।
অন্যদিকে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পিআর পদ্ধতি চালুর প্রস্তাবকে তারা সন্দেহজনক হিসেবেই দেখছে।

২৬ জুলাইয়ের বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার প্রতিশ্রুতি

নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হবে চার-পাঁচ দিনের মধ্যে

২৬ জুলাই, ১৪টি রাজনৈতিক দল–জোটের সঙ্গে বৈঠক শেষে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার জানান,

“প্রধান উপদেষ্টা স্পষ্টভাবে বলেছেন, চার-পাঁচ দিনের মধ্যেই নির্বাচনের সময়সীমা ও তারিখ ঘোষণা করা হবে।

প্রেস উইংয়ের বিবৃতি: নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ

তবে একই বৈঠকের পর প্রেস উইংয়ের বিবৃতিতে তারিখ নিয়ে কিছু বলা হয়নি। শুধু বলা হয়,

“কিছু পতিত শক্তি নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে।”

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিক্রিয়া: মিশ্র বার্তা

বিএনপির ইতিবাচক সাড়া

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন,

“প্রধান উপদেষ্টা দুই–চার দিনের মধ্যে যদি নির্বাচনের সময় ঘোষণা করেন, খুশিই হব। কারণ, এটাই তো আমাদের দাবি।”

জামায়াতের সতর্ক অবস্থান

জামায়াতে ইসলামীর নেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন,

“সংস্কার ও বিচার দৃশ্যমান না হলে তারিখ ঘোষণা অপরিপক্ব হবে। জুলাইয়ের চেতনার অবমূল্যায়ন হবে।”

অন্যান্য দলের মতামত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন,

“জুলাই সনদ যদি চূড়ান্ত হয়, তাহলে তারিখ ঘোষণায় আপত্তি থাকবে না।”

রাজনৈতিক সমঝোতা ও নির্বাচনের ভবিষ্যৎ

আগস্টের প্রথম সপ্তাহেই জাতীয় নির্বাচন ২০২৬-এর সময়সীমা ঘোষণার সম্ভাবনা প্রবল।
সরকার রাজনৈতিক দলগুলোকে আশ্বস্ত করে “জুলাই সনদ” ও ভোট তারিখ দুটোই কাছাকাছি সময়ের মধ্যে প্রকাশ করতে চায়। এতে রাজনৈতিক সংকট কাটিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার আশা করা হচ্ছে।