বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটি ছাড়া সারা দেশের সব কমিটি স্থগিত ঘোষণা করেছে। রাজধানীতে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সভাপতি রিফাত রশীদ এ সিদ্ধান্তের কারণ ও পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।
জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সিদ্ধান্ত ঘোষণা
কেন্দ্রীয় কমিটি ছাড়া সকল কমিটি স্থগিত গতকাল, রবিবার সন্ধ্যায় ঢাকা শহরের শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশীদ ঘোষণা করেন, কেন্দ্রীয় কমিটি ছাড়া সংস্থার সারা দেশের সব কমিটি স্থগিত থাকবে। হঠাৎ এই সিদ্ধান্তে যুক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয় যে, সংগঠনের কমিটিগুলো দূর্নীতি ও অপকর্মে রাজনৈতিক শেল্টার লাভে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে সংশয় দেখা দিয়েছে। “সারা বিদেশে গত শনিবার ও এর আগে আমরা দেখেছি যে, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের’ ব্যানার নিয়ে অনেক ধরনের অপকর্ম চলছে,” — রিফাত রশীদ
ঘটনার প্রেক্ষিত ও চালু সিদ্ধান্তের কারণ
চাঁদাবাজি ও অপকর্মের অভিযোগ
গত শনিবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক নেতা গুলশানের এক সাবেক আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্যের বাড়িতে চাঁদাবাজি করতে গিয়েছিলেন এবং ধৃত হন। অভিযুক্তদের মধ্যে সংগঠনের প্রভাবশালী পরিচয়ধারী ও গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের নেতা ছিলেন। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রাজনৈতিক শেল্টার ও নিয়ন্ত্রণ হারানো কমিটি
রিফাত রশীদ বলেন, “যখন কমিটিগুলো গঠন করা হয়েছিল, তখন যারা দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তারা এখন নানা রাজনৈতিক দল‑মতের শেল্টারে চলে গিয়েছেন এবং অনেকেই বিপথগামী ও দুর্নীতির অভিযোগে জড়িত।” তিনি আরও জানান, কন্ট্রোল না করা পর্যন্ত তাদের কার্যক্রম কঠোর সিদ্ধান্তের আওতায় রাখা হলো।
সংস্থার গঠন ও পূর্ববর্তী উন্নয়ন
সংগঠনের তথ্য ও প্রথম কমিটি
জুলাই গণ‑অভ্যুত্থানের নেতৃত্বে কার্যকর ভূমিকা রেখেছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। গত বছরের অক্টোবর মাসে তাদের প্রথম আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। প্রথম আহ্বায়ক ছিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ।
নতুন দল ও কেন্দ্রীয় কমিটির গঠন
ফেব্রুয়ারি মাসে সংগঠনের শীর্ষ নেতারা নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর দৃশ্যমান কার্যক্রম নেই। সর্বশেষ, গত জুনে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়, যেখানে রশিদুল ইসলাম (রিফাত রশীদ) সভাপতি ও মো. ইনামুল হাসান সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন।
পরবর্তী পরিকল্পনা ও ভূমিকা
পরবর্তী কার্যক্রম আধিকারিক আলোচনা অনুযায়ী
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতি রিফাত রশীদ জানান, “পরবর্তী কার্যক্রম কীভাবে পরিচালনা করা হবে, সে বিষয়ে আলোচনা ও সম্মিলিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।”
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. ইনামুল হাসান বলেন, “যারা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারকে ব্যবহার করে অপকর্ম করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা কামনা করছি।”
স্ট্যাটাস সংক্ষিপ্তসারে
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| কমিটি স্থগিত | কেন্দ্রীয় কমিটি ব্যতিরেকে সব গ্রামীণ, জেলা, থানা, মহানগর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কমিটি |
| কারণ | চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, রাজনৈতিক শেল্টার ও নিয়ন্ত্রণ হারানো |
| গ্রেপ্তার | গুলশানে চাঁদাবাজি মামলায় ৫ জন গ্রেপ্তার |
| পরবর্তী সিদ্ধান্ত | আলোচনা ও সম্মিলিত নির্ধারণ সমন্বয়ে |
সারসংক্ষেপ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সারা দেশে তাদের কেন্দ্রীয় কমিটি ছাড়া সকল কমিটি স্থগিত করেছে। এর পেছনে মূল কারণ হিসেবে ধরা হয়েছে সংগঠনের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক শেল্টারে অপকর্ম চালানোর চেষ্টা। কেন্দ্রীয় কমিটি কার্যকর থাকায় পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। সংস্থাটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় ব্যানার অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
