মাদারীপুরের কালকিনিতে গত দুই মাসে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার পথেঘাটে কয়েকটি বানরের কামড়ে শিশু, নারী ও শিক্ষার্থীসহ কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছেন।
আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। খাবার সংকটে পড়ে লোকালয়ে ঢুকে বানরের দল তাদের হিংস্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সোমবার সকালে স্কুলগামী এক শিক্ষার্থীসহ তিনজনকে কামড়ে গুরুতর আহত করেছে। এ ঘটনার পরে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের ঘরের বাইরে খেলতে ও স্কুলে পাঠিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। এ ছাড়া শিক্ষার্থীরাও ভয়ে স্কুলে যেতে চাচ্ছে না বলে দাবি অভিভাবকদের।
হিংস্র বানরের জন্য এমন আতঙ্কগ্রস্ত অবস্থা থেকে পরিত্রাণে প্রশাসন ও প্রাণিসম্পাদক অধিদপ্তরের সহায়তা চেয়েছেন এলাকাবাসী। হিংস্র বানরের কামড়ে আহতদের কালকিনি হাসপাতালে নিলে সঠিক চিকিৎসা না পাওয়ার কথা জানান অনেকেই।
এলাকাবাসী ও সরেজমিন জানা গেছে, বানরের বাসস্থান নামে খ্যাত মাদারীপুরের চরমুগরিয়া থেকে খাবার সন্ধানে বের হয়ে আসা কালকিনি পৌর এলাকার ঝাউতলা, চরঝাউতলা, কৃষ্ণনগর ও পালপারার অলিগলিতে বেশ কিছু বানরের দল ঢুকে পড়েছে। তারা মিলে প্রতিনিয়ত খাবারের সন্ধানে রাস্তাঘাটে ও হাটবাজারে বের হয়ে পড়ে। এ সময় তারা খাবার পাওয়ার আসায় বিভিন্ন বাড়িতে গিয়েও হানা দিচ্ছে। তাদের বাধা দিলে বা তাদের সামনে পড়লে শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সি মানুষের ওপর প্রায় সময় হামলা চালায়। এ হামলায় গত দুই মাসে ৫০ জন মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের বেশিরভাগই শিশু।
ঝাউতলা গ্রামের বাসিন্দা সুমন, জুয়েল, আজিজ ও কাষ্টগরের তুলু তালুকদারসহ বেশ কয়েকজন বলেন, আমরা কতগুলো বন্য বানরের কারণে অতীষ্ঠ হয়ে উঠেছি। আমাদের সন্তানদের ওপর হামলা করছে বানরগুলো। তাই শিশুদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছি। আমরা এর থেকে মুক্তি চাই।
মানবাধিকার নেতা ও প্রধান শিক্ষক বিএম হেমায়েত হোসেন বলেন, বানরগুলো ক্ষুধার জ্বালায় হয়তো এমন আচরণ করছে। কর্তৃপক্ষ তাদের সুন্দরভাবে বনে পাঠানোর ব্যবস্থা করলে ভালো হতো।
কালকিনি পৌরসভার মেয়র এসএম হানিফ জানান, খাবারের অভাবে বানরগুলো লোকালয়ে ঢুকে মানুষের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে। তাদের বনে পাঠানোর চেষ্টা অব্যাহত আছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিংকি সাহা জানান, উপজেলা বন বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
