শৈত্যপ্রবাহ ফের শুরু

দেশে আবারও শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বৃহস্পতি ও শুক্রবার টানা বৃষ্টির পর চলতি মৌসুমের চতুর্থ শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়। এ পরিস্থিতি ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত থাকতে পারে। আর ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শীত পরিস্থিতির অনেকটা উন্নতি ঘটবে। ১৫ ফেব্রুয়ারির দিকে বসন্তের আগমনে প্রাকমৌসুমি সমীরণ শুরু হতে পারে। আর এর মাধ্যমে এবারের শীত বিদায় নিতে পারে।

আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক যুগান্তরকে জানান, পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ও দেশের ভেতরে থাকা গুচ্ছ গুচ্ছ মেঘপুঞ্জের ফলে কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি হয়। অঞ্চলভেদে বুধবার থেকে এ বৃষ্টি শুরু হয়ে শনিবার পর্যন্ত চলে। বৃষ্টির পর আসা এ শীত তিন-চার দিন স্থায়ী হতে পারে। বিশেষ করে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের কোনো কোনো স্থানে তা ইতোমধ্যে শৈত্যপ্রবাহে রূপ নিয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি) জানায়, পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। ইতোমধ্যে নীলফামারী, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, পাবনা, মৌলভীবাজার জেলাসমূহ এবং সীতাকুণ্ড উপজেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। রোববার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তেঁতুলিয়ায় ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।।

সাধারণত তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে নামলে এবং ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলে। এছাড়া ৬ থেকে ৮ ডিগ্রিতে নেমে এলে তা মাঝারি আকারের এবং এর নিচে নামলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহে পরিণত হয়।

বিএমডির ৪২টি স্টেশনের তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে রোববার দেখা গেছে-২১টি স্টেশনে তাপমাত্রা সাড়ে ১০ ডিগ্রির মধ্যে। এছাড়া সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্যও এদিন কমে আসে।

হাকিমপুর (দিনাজপুর) : উত্তরের হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশায় হিলিতে শীত জেঁকে বসেছে। তীব্র শীতে খেটে-খাওয়া মানুষ বিপাকে পড়েছেন। দিনাজপুর আবহাওয়া অফিস জানায়, রোববার দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি।

এছাড়া সৈয়দপুরে ৯ দশমিক ৫, রংপুরে ১০ দশমিক ৪, কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৯ দশমিক ৪, ডিমলায় ৯ দশমিক ২, নওগাঁয় ১১ দশমিক ৩, রাজশাহীতে ১০ দশমিক ২, চুয়াডাঙ্গায় ১৪ দশমিক ৪ এবং যশোরে ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল। দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তেঁতুলিয়ায় ৭ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।

সূত্র : যুগান্তর