করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত সারাবিশ্বের জনজীবন। যে কোনো সময় অসাবধানতায় মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে ফুসফুসে সংক্রমণ হতে পারে। শ্বাসনালির মাধ্যমে গলা থেকে কারোনাভাইরাস ফুসফুসে প্রবেশ করে ধীরে ধীরে এর কার্যক্ষমতা নষ্ট করে ফেলে। ফলে দেখা দেয় মারাত্মক শ্বাসকষ্ট, কাশি, ক্লান্তিবোধ। যে কোনো হতে পারে ফুসফুসে ক্যানসারের মতো জটিল রোগ।
ফুসফুস ক্যানসারের ৮৫% এর জন্য দায়ী দীর্ঘমেয়াদি তামাক সেবন। বাকি ১০-১৫% যারা কখনো ধূমপান করেননি তারাও আক্রান্ত হন। জেনেটিক ফ্যাক্টর, বায়ু দূষণ ইত্যাদি ফুসফুস ক্যানসারের অন্যতম প্রভাবক।
ফুসফুস ক্যানসারে ফুসফুসের টিস্যুগুলোতে অনিয়ন্ত্রিত কোষবৃদ্ধি ঘটে। এই বৃদ্ধির ফলে মেটাস্ট্যাসিস, প্রতিবেশী টিস্যু আক্রমণ এবং ফুসফুসের বাইরে সংক্রমণ ঘটতে পারে। প্রাথমিক ফুসুফুসের ক্যানসার অধিকাংশই ফুসফুসের কার্সিনোমা, যা ফুসফুসের এপিথেলিয়াল কোষগুলোতে ধরা পড়ে। ফুসফুসের ক্যানসারের কারণে প্রতি বছর বিশ্বে ১৩ লাখ লোক মারা যান।
ফুসফুসে ক্যানসারের মতো রোগের ক্ষেত্রে সঙ্কেত চেনা কিছুটা কঠিন। কারণ, শরীরের কোন অংশে ক্যানসার বাড়তে শুরু করেছে, তার উপর নির্ভর করে কোন উপসর্গ সবের আগে দেখা দেবে। ফুসফুসের ক্যানসার বেশ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে তার পূর্ব লক্ষণগুলো চিনে নেওয়া দরকার। যেভাবে চিনবেন ফুসফুসে ক্যানসারের লক্ষণ-
শ্বাসকষ্ট হলে
শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ার সমস্যা বাড়ে ফুসফুসে ক্যানসার বাড়তে থাকলে। কারণ, এই রোগের দাপটে বন্ধ হয়ে যেতে শুরু করে শ্বাস নেওয়ার পথটিও।
কাশি
দীর্ঘ দিন ধরে কাশি হয়েই যাচ্ছে? এমন অনেক সময়ে ঠান্ডা লেগে হয়। কিন্তু ফুসফুসের ক্যানসারের ক্ষেত্রে কোনও কারণ ছাড়াই কাশি হতে দেখা যায়। প্রায় বছরভর লেগেই থাকে কাশির সমস্যা।
গলা ভেঙে যাওয়া
অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায় এই সমস্যা। ফুসফুসে ক্যানসার বাড়তে থাকলে তার প্রভাব গিয়ে পড়ে নানা স্তরে। যার কারণে গলার স্বর বদলে যায়। সব সময়েই গলা ভাঙা থাকে।
ক্লান্তি
ক্যানসারের অন্যতম উপসর্গ হল ক্লান্তি। কিন্তু ফুসফুসের ক্যানসারের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও বাড়ে। যেহেতু শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, তাই শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কিছুটা নীচের দিকে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর সে কারণেই ক্লান্তিও বাড়ে।
গায়ে ব্যথা
যে কোনও ধরনের ক্যানসারের ক্ষেত্রেই গায়ে ব্যথা একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। ফুসফুসের ক্যানসারের ক্ষেত্রে বিশেষ করে বুক, পিঠ ও কাঁধের আশপাশে বেশি ব্যথা হতে থাকে।
হঠাৎ শরীরের ওজন কমে যাওয়া
আচমকা ওজন কমে যাওয়া ফুসফুসে ক্যানসারেরও লক্ষণ। তাই এই ধরনের কোনও লক্ষণ দেখলে একেবারে অবহেলা না করে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন।
বুকের এক্স-রে পরীক্ষা এবং কম্পিউটার টমোগ্রাফির মাধ্যমে ফুসফুসের ক্যানসার নির্ণয় করা হয়। পরবর্তীতে একটি বায়োপসির মাধ্যমে এটি নিশ্চিত করা সম্ভব। সার্জারি, কেমোথেরাপি এবং রেডিওথেরাপির মাধ্যমে এর চিকিৎসা করা হয়। ৫ বছর চিকিৎসার পর রোগীর বেঁচে যাওয়ার হার ১৪% মাত্র। ফুসফুসের ক্যানসার শনাক্ত করার সময় রোগ অনেক দূর ছড়িয়ে পড়লে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কমে যায়। ওষুধ খেয়ে এই মারণ রোগের প্রতিকার না করে প্রাকৃতিক উপায়ও এই মারণ রোগ রোধ করা সম্ভব।
ফুসফুস ক্যানসার প্রতিরোধে সক্ষম খাবার যেমন আপেল, রসুন, ব্রকোলি, লাল বেলপেপার, পালং শাক বেশি পরিমাণে খাওয়া দরকার। ধূমপান ও মদ্যপান না করা। অতিরিক্ত চর্বি জাতীয় খাদ্য কম খাওয়া। নিয়মিত ব্যায়াম করা। পরিমাণমতো শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুললে ফুসফুসের ক্যানসার থেকে দূরে থাকা যায়।
