সাফারি পার্কে ৯টি জেব্রার অস্বাভাবিক মৃত্যু, আতঙ্ক!

গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে গত বিশ দিনে অন্তত ৯টি বড় আকারের জেব্রা মারা গেছে। এ নিয়ে সাফারি পার্কে চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে। পার্কের একটি সূত্র জানায়, বছরের শুরুতেই একটি জেব্রা মারা যায়। পরে পর্যায়ক্রমে ২ জানুয়ারি থেকে হঠাৎ একেই একের পর এক জেব্রা মারা যাচ্ছে। এ নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

গতকাল সোমবার পর্যন্ত ৯টি জেব্রা মারা গেছে। আরও বেশ কটি জেব্রা অসুস্থ বলে জানা গেছে। পার্কে মোট জেব্রার সংখ্যা হয়েছিল ৩১টি। ৯টি জেব্রার মৃত্যুর পর এখন রয়েছে ২২টি।

পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. তবিবুর রহমান জানিয়েছেন, কি কারণে এতগুলো জেব্রা মারা গেল তা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। এটা কোনো ভাইরাস নাকি ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ তা নিয়ে পার্কে দফায় দফায় বিশেষজ্ঞদের বৈঠক চলছে। এখনো কোনো ফলাফল পাওয়া যায়নি বলেও পার্ক সূত্র জানিয়েছে।

পার্কের আফ্রিকান সাফারি জোনে অন্য সব প্রাণীর সঙ্গে জেব্রার পাল বাস করে। জেব্রাগুলোর এমন অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন পার্কের প্রকল্প পরিচালক মো. জাহিদুল কবির।

মৃত প্রাণীর মরদেহের নমুনা রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফল বিচ্ছিন্নভাবে এসেছে।

সূত্র জানায়, অন্যান্য প্রাণীর মৃত্যু হলেও একই ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়। তবে জেব্রার এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন আঙ্গিকে নমুনা পরীক্ষা করে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্প্রতি জেব্রার সংখ্যা দিন দিন বাড়ার কারণে এখান থেকে জাতীয় চিড়িয়াখানায় কিছু জেব্রা পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু হঠাৎ এমন মৃত্যু পার্ক সংশ্লিষ্ট সবাইকে ভাবিয়ে তুলছে। চিন্তায় পড়ে গেছেন বিশেষজ্ঞরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মচারী জানান, সাফারি পার্কে জেব্রাকে ঘাস সরবরাহ করে মাহবুব এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। চারণভূমির ঘাস খাওয়ানোর পাশাপাশি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ঘাস এনে জেব্রাসহ অন্য প্রাণীদের খাওয়ানো হচ্ছে। এসব ঘাসেও বিষক্রিয়া হতে পারে বলে অনেকেই সন্দেহ করছেন।

এ ব্যাপারে সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসিএফ) তবিবুর রহমান বলেন, সোমবার ঘাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক সিরাজুল ইসলামকে নিয়ে মানিকগঞ্জে গিয়েছি। চেষ্টা করছি বের করতে আসলে কেন জেব্রার এমন অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। ঘাসে কোনো বিষক্রিয়া হচ্ছে কিনা তাও ভাবছি। ঘাস উৎপাদন করা কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেছি। সেখান থেকে বিভিন্ন ধরনের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। সাফারি পার্কের চারণভূমির ঘাস ও মাটি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে পরীক্ষাগারে। কিছু পরীক্ষার মাধ্যমে নয়টি জেব্রার পাকস্থলীর বিভিন্ন নমুনা পরীক্ষা করে নাইট্রো ফসফরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তাছাড়াও বিভিন্ন ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি মিলেছে।

পার্কের প্রকল্প পরিচালক মো. জাহিদুল কবির বলেন, এক সঙ্গে এতগুলো জেব্রার এমন অস্বাভাবিক মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান চলছে। প্রত্যেকটির মরদেহ ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।

সাফারি পার্কের নিরাপত্তায় কোনো ঘাটতি নেই। বাইরে থেকে কেউ এসে বিষ প্রয়োগ করবে, এমন ঘটনা ঘটার কথা না। তবু আমরা এগুলো মাথায় রেখেই মঙ্গলবার বৈঠকে বসছি। সবকিছু রিপোর্টের উপর নির্ভর করছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা মতামত দেবেন। আমরা বৈঠকের পর সবকিছু জানতে পারবো ও জানাতে পারব বলেও জানান তিনি।