শিমু হত্যাকাণ্ডে নোবেলের সঙ্গে ছিল আরেকজন

ঢাকাই সিনেমার নায়িকা রাইমা ইসলাম শিমু ‘নিখোঁজের’ পর তার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়। সোমবার (১৭ জানুয়ারি) তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার স্বামী নোবেল ও নোবেলের বন্ধু ফরহাদকে আটক করে র‍্যাব। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন তার স্বামী।

এদিকে শিমু হত্যায় তাঁর স্বামী সাখাওয়াত আলী নোবেলের সঙ্গে আরেকজন প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল বলেও জানতে পেরেছে পুলিশ। দুই আসামির জবানবন্দিতে ওই ব্যক্তির ব্যাপারে তথ্য পেয়ে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত তার পরিচয় জানাননি তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা। শিমু ও নোবেলের গ্রিন রোডের বাসার সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করে দেখেছে পুলিশ। রবিবার সকাল ১০টা ০৩ মিনিট থেকে ১০টা ১৭ মিনিট পর্যন্ত ১৪ মিনিটের ফুটেজ পাওয়া যায়নি। পুলিশের ভাষ্য, রবিবার সকালের ওই ১৪ মিনিটের ভিডিও পুরোপুরি অন্ধকার পাওয়া গেছে। বাসার লোকজন সে সময় বিদ্যুৎ না থাকার কথা জানায়।

তবে পুলিশ আশপাশের বাসা ও বিদ্যুৎ অফিসে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, ওই দিন এলাকায় বিদ্যুৎ যায়নি। পুলিশের সন্দেহ, ওই দিন পরিকল্পিতভাবেই ওই ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, গ্রিন রোডের বাসায় শিমুকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর রবিবার বন্ধু ফরহাদকে সঙ্গে নিয়ে কেরানীগঞ্জে লাশ ফেলে আসেন নোবেল। ফিরে এসে কলাবাগান থানায় নিখোঁজের জিডি করেন তিনি। সোমবার সকালে শিমুর লাশ উদ্ধারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই স্বামী নোবেল ও তার বন্ধু ফরহাদকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মঙ্গলবার তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের জন্য রিমান্ডে পায় পুলিশ।

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মারুফ হোসেন সরদার গণমাধ্যমকে বলেন, শিমুর স্বামী নোবেল ও তার বন্ধু ফরহাদ হত্যার দায় স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। তদন্তে কিছু বিষয় এসেছে। এগুলো বলা যাবে না। এগুলো নিয়ে কাজ চলছে। কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এসআই, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চুন্নু মিয়া বলেন, গতকাল রিমান্ডের দ্বিতীয় দিনে দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। শিমুকে হত্যায় নোবেলের সঙ্গে তার আরেক সহযোগী ছিল বলে আমরা জানতে পেরেছি। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই তার নাম বলতে পারছি না। বাসার ১৪ মিনিটের ভিডিওর ব্যাপারে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে নোবেল জানিয়েছেন, রবিবার ভোরে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এরপরই রাগের মাথায় স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। তাদের (শিমু ও নোবেল) মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। ভোরে শিমুকে হত্যার পর বন্ধু ফরহাদকে ফোন করেন নোবেল। পরে তারা দুজন মিলে লাশটি গুম করার চেষ্টা করেন।

শিমুর স্বজনরা জানান, নোবেল ভালোবেসে ১৮ বছর আগে বিয়ে করেছিলেন শিমুকে। তাদের দুই সন্তান রয়েছে। বড় মেয়ে (১৬) ও লেভেলে পড়েন। আর ছোট ছেলের বয়স চার বছর। নোবেল রাজধানীর গ্রীন রোডে নিজের একটি ফ্ল্যাটও লিখে দিয়েছিলেন স্ত্রীকে।

উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার সকাল ৯টায় কেরানীগঞ্জ হযরতপুর ব্রিজের পাশে বস্তাবন্দি অবস্থায় অজ্ঞাত হিসেবে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। পরে হাসপাতালের মর্গে গিয়ে নিহতের ভাই শহীদুল ইসলাম খোকন চিত্রনায়িকা রাইমা ইসলাম শিমুর লাশ সনাক্ত করেন। ১৯৯৮ সালে কাজী হায়াত পরিচালিত ‘ বর্তমান ’ সিনেমা দিয়ে রুপালি পর্দায় তার অভিষেক হয় শিমুর। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজক হিসেবেও তার পরিচিতি ছিল শিল্পী সমাজে।রাইমা ইসলাম শিমু চলচ্চিত্র ও নাটকের ক্যারিয়ার দুই দশকেরও বেশি সময় পার করেছেন । তিনি বাংলাদেশের অনেক গুনী পরিচালকের সাথে কাজ করেছে । মরহুম চাষী নজরুল ইসলাম , পরিচালক দেলোয়ার জাহান ঝন্টু , এ জে রানা , শরিফুদ্দিন খান দ্বীপু , এনায়েত করিম , শবনম পারভীন ছাড়াও বহু গুনী লোকের সাথে কাজ করেছেন তিনি।