কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়নসহ ছয়টি প্রস্তাবনা দিয়েছেন। দলটির পক্ষ থেকে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচন পরিচালনার প্রস্তাব দেওয়া হয়। রোববার (৯ জানুয়ারি) বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটের দিকে বঙ্গভবনে প্রবেশ করেন কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে দলটির একটি প্রতিনিধিদল। সংলাপ শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন এক ব্রিফিংয়ে বলেন, দীর্ঘ এক ঘণ্টাব্যাপী আলোচনায় ৯ সদস্যের প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতিকে আইন প্রণয়নসহ ছয় দফা প্রস্তাব করেন। নির্বাচনকালীন সরকারকে নিরপেক্ষ রাখার উপায় বের করতে রাষ্ট্রপতির কাছে ছয় দফা প্রস্তাবও তুলে ধরেন কাদের সিদ্দিকী। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে-
১. নির্বাচন কমিশন আইন অবিলম্বে প্রণয়ণ করার প্রস্তাব করছি। এই মুহূর্তে আইন প্রণয়ণ সম্ভব না হলে সার্চ কমিটি নয়, দেশের অভিভাবক ও প্রবীণ রাজনীতিক হিসেবে আপনার চিন্তা-চেতনা, বিবেক-বিবেচনায় ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন দেশপ্রেমিক মানুষদের নিয়ে দেশের মানুষের আস্থাভাজন গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন। পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট কমিশনে কমপক্ষে দুইজন নারী সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
২. দেশের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচন অন্যতম নিয়ামক। কিন্তু প্রহসনমূলক নির্বাচন হওয়ায় দেশ যেমন ক্ষতিগ্রস্ত, সরকারও তেমনই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আন্তর্জাতিক অঙ্গণে ক্ষুন্ন হয়েছে দেশের মর্যাদা। তাই নির্বাচন কমিশন এবং নির্ভেজাল নির্বাচন জাতির জন্যে খুবই জরুরি। অতএব, সংবিধানের নির্দেশমতো প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ থেকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়কে সম্পূর্ণ স্বাধীন-মুক্ত করার প্রস্তাব করছি।
৩. মাছ যেমন পানি ছাড়া বাঁচে না, তেমনি নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ছাড়া চলার কথা না। কিন্তু বর্তমান নির্বাচন কমিশন কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের মতামতের তোয়াক্কা করেনি। প্রতিবছর অন্তত চারবার নির্বাচন কমিশন নিবন্ধিত দলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করার বিধান থাকা উচিত। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মতামত না নিয়ে নির্বাচন কমিশন নতুন কোনো নির্বাচনী বিধি-বিধান প্রণয়ণ করতে পারবে না।
৪. গণতন্ত্রের প্রধান স্তম্ভ হচ্ছে রাজনৈতিক দল। প্রধানমন্ত্রী যেমন বিদেশ সফর শেষে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন, ঠিক তেমনি নিবন্ধিত দলের সঙ্গে বছরে অন্তত দুইবার নির্বাচন কমিশন দেশের পরিস্থিতি, অগ্রগতি, শান্তি-শৃঙ্খলা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দলগুলোর মতামত নেবেন এবং তিনিও তার মতামত ব্যক্ত করবেন।
৫. রাষ্ট্রপতি দেশের প্রধান অভিভাবক। তাই আপনিও একইভাবে বছরে দুইবার, সম্ভব না হলে অন্তত একবার সব রাজনৈতিক দলের মতামত নেবেন এবং আপনিও আপনার অভিমত ব্যক্ত করবেন।
৬. নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা করতে হবে।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম সালাহ উদ্দিন ইসলাম, রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন এবং সচিব (সংযুক্ত) মো. ওয়াহিদুল ইসলাম খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন। প্রেস সচিব জানান, রাষ্ট্রপতি এখন পর্যন্ত ১৭টি রাজনৈতিক দলের সাথে ১২ দিনের পৃথক পৃথকভাবে বৈঠক করেছেন। প্রসঙ্গত, গত দুই বারের মতো এবারও সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের উদ্যোগ নেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সে অনুযায়ী গত ২০ ডিসেম্বর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করেন তিনি। সূত্র: বাসস
