২০২১ সালে যাদের হারিয়েছে শোবিজ

শোবিজের জন্য সুখের বছর ছিল না ২০২১। সংস্কৃতির বিভিন্ন অঙ্গনের গুণীজনদের বিদায় দিতে হয়েছে ২০২১ সালে। কেউ করোনায়, কেউ বার্ধক্যজনিত কারণে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। তাদের শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়।

এটিএম শামসুজ্জামান
গুণী অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান চলতি বছর ২০ ফেব্রুয়ারি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। রাজধানীর সূত্রাপুরের নিজ বাসভবনে মারা যান তিনি। এ অভিনেতা স্ত্রী, তিন মেয়ে ও দুই ছেলে রেখে গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। বেশ কয়েক বছর ধরে নানান শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন এটিএম শামসুজ্জামান। সিনেমার পাশাপাশি অসংখ্য নাটক ও ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন তিনি। পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, একুশে পদকসহ অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন এটিএম শামসুজ্জামান।

সারাহ বেগম কবরী
কিংবদন্তি অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী মারা যান ১৭ এপ্রিল। রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ৫ এপ্রিল তার করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর আসে। ওই রাতে হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। অবস্থার অবনতি হলে ৮ এপ্রিল আইসিইউতে নেওয়া হয় কবরীকে। লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয় ১৫ এপ্রিল। তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান মিষ্টি মেয়েখ্যাত অভিনেত্রী ও রাজনীতিবিদ কবরী।

ফকির আলমগীর
গণসংগীত শিল্পী ফকির আলমগীর চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ২৩ জুলাই। করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। ১৪ জুলাই তার করোনা পজিটিভ আসে, ১৫ জুলাই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১৮ জুলাই থেকে ভেন্টিলেশনে ছিলেন এ শিল্পী। ২৩ জুলাই রাতে স্ট্রোক করেন। এরপর তাকে মৃত ঘোষণা করেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা।

ড. ইনামুল হক
একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য অভিনেতা, নাট্যকার, নির্দেশক ড. ইনামুল হক নিজ বাসায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ১১ অক্টোবর। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তিনি বার্থক্যজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন।

জানে আলম
সংগীতশিল্পী জানে আলম মারা গেছেন ২ মার্চ। করোনামুক্ত হলেও তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন জানে আলম।

শাহীন আলম
বাংলা সিনেমার এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা শাহীন আলম। রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৮ মার্চ। তিনি কিডনির বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন।

ফরিদ আহমেদ
করোনা আক্রান্ত হয়ে ১৩ এপ্রিলে সকালে মারা যান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত সংগীত পরিচালক ফরিদ আহমেদ। ২০ মার্চ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পুনরায় করোনা আক্রান্ত হন ২৫ মার্চ। সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় ১১ এপ্রিল ফরিদ আহমেদকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। সেখান থেকেই না ফেরার দেশে চলে পাড়ি জমান।

চিত্রনায়ক ওয়াসিম
ঢাকাই সিনেমার আলোচিত অভিনেতা ওয়াসিম মারা গেছেন ৭৪ বছর বয়সে। ১৮ এপ্রিল দিবাগত রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। এ অভিনেতা বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন। বেশ কিছুদিন বাসায় শয্যাশয়ীও ছিলেন।

এস এম মহসীন
একুশে পদকপ্রাপ্ত অভিনেতা এস এম মহসীন প্রাণ হারিয়েছে করোনায় আক্রান্ত হয়ে। ২০২১ সালের ১৮ এপ্রিল সকালে রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার অভিনীত শেষ সিনেমা ‘অন্তরাত্মা’। এ সিনেমার শুটিং শেষ করে ২ এপ্রিল ঢাকায় ফিরেছিলেন এস এম মহসীন।

মাহমুদ সাজ্জাদ
চলতি বছরের ২৪ অক্টোবর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান অভিনেতা মাহমুদ সাজ্জাদ। তিনি করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। ১ সেপ্টেম্বর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে নেওয়া হয়। করোনা মুক্ত হলেও শারীরিক জটিলতায় না ফেরার দেশে চলে যান এ অভিনেতা।

আশা চৌধুরী
ছোটপর্দার অভিনেত্রী আশা চৌধুরী না ফেরার দেশে চলে গেছেন ৪ জানুয়ারি। সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যু হয় তার। ৪ জানুয়ারি মধ্যরাতে মিরপুরের দারুস সালাম এলাকায় ট্রাক চাপায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। আশা বাংলাদেশ টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত শিল্পী ছিলেন। নাটকে নিয়মিত অভিনয় করতেন।