বাদ পড়ে কত টাকা ক্ষতি হল বার্সেলোনার

আনসু ফাতি, পেদ্রি ও গাভির কাছে এই বিপর্যয় একেবারেই অচেনা। চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সেলোনা গ্রুপপর্ব পাড়ি দিতে সর্বশেষ ব্যর্থ হয়েছিল ২০০০–০১ মৌসুমে। দুই দশকের মধ্যে এই প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নিল বার্সা। ক্লাবটির পতনের ধারাটা স্পস্ট-দুটি ‘ট্রেবল’ জয়ের চূড়া থেকে বার্সা নেমে গেছে ইউরোপে দ্বিতীয় সারির টুর্নামেন্ট ইউরোপা লিগে। মহাদেশের অভিজাত ক্লাবগুলোর কাতারে আর নেই বার্সা!

২০২০-২১ মৌসুমে ৪৮ কোটি ১০ লাখ ইউরো ক্ষতির মুখে পড়েছিল বার্সেলোনা। এর আগের মৌসুমে নেওয়া বিভিন্ন ভুল সিদ্ধান্তও দলটির ঘাড়ে ১২০ কোটি ইউরোর বেশি দায় চাপিয়েছে। এর প্রভাবে দলবদলের বাজারে চাইলেও পছন্দের খেলোয়াড় নিতে পারছে না ক্লাবটি। এর মধ্যেই আরও বড় ধাক্কা হয়ে এল বায়ার্ন মিউনিখের কাছে হার। যে হারে চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে ছিটকে গেছে বার্সেলোনা।

সে সঙ্গে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি তো আছেই। এমনিতেই আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত ক্লাবটি। এই অবস্থায় চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে ছিটকে পড়া মানেই বিপুল অর্থ আয়ের সুযোগ হাতছাড়া করা। হ্যাঁ, ইউরোপা লিগেও অর্থ পাবে বার্সেলোনা। কিন্তু চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে প্রাপ্ত অর্থের ধারেকাছে নেই ইউরোপা লিগ।

চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রতিটি জয়ের জন্য ২৮ লাখ ইউরো পায় দলগুলো। আর প্রতিটি ড্রয়ের জন্য ৯ লাখ ৩০ হাজার ইউরো। এবার চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সেলোনা দুটি ম্যাচ জিতেছে আর ড্র করেছে একটি। অর্থাৎ চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে এ মৌসুমে বার্সেলোনার আয় ৬৫ লাখ ৩০ হাজার ইউরো।

কিন্তু এটা গ্রুপ পর্ব পার হওয়ার আয়ের তুলনায় কিছুই না। কাল যদি বার্সেলোনা জিততে পারত, তাহলে শেষ ষোলোতে ওঠার পুরস্কার হিসেবেই ৯৬ লাখ ইউরো পেত। আর শেষ ষোলো টপকে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারলেই বাড়তি ১ কোটি ৬ লাখ ইউরো পেত বার্সেলোনা।

এ ছাড়া চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে ছিটকে পড়ায় আরেকটি দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বার্সেলোনা। চ্যাম্পিয়নস লিগের অর্থ দুই খাত থেকে পায় দলগুলো। একটি ম্যাচের ফল ও কোন দল কোন ধাপ পার হলো, এর ওপর নির্ভর করে। আরেকটি খাতের অর্থ আসে টিভি স্বত্ব থেকে। প্রতিটি দেশের জন্য টিভি স্বত্বের একটি নির্দিষ্ট অর্থ বরাদ্দ থাকে।

নকআউট পর্বে একটি দেশের দল যত কম থাকে, টিকে থাকা দলগুলো তত বেশি অর্থ পায়। অর্থাৎ চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বার্সেলোনা, সেভিয়া বাদ পড়ে যাওয়ায় এখন টিভি স্বত্বের টাকা বেশি পাবে রিয়াল মাদ্রিদ ও অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ।