মিরপুরে পুরুষ দল পাকিস্তানের কাছে একের পর এক ধরাশয়ী হলেও জিম্বাবুয়ের রাজধানী হারারেতে শক্তিশালী পাকিস্তানকে ৩ উইকেটে হারিয়েছে বাংলার বাঘিনীরা।
পাকিস্তানি নারীদের দেয়া ২০২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রুমানা আহমেদ এবং ফারজানা হকের দুর্দান্ত ব্যাটিং নৈপুণ্যে ২ বল হাতে থাকতেই জয় পায় নিগার সুলতানার দল। ৬ বাউন্ডারিতে ৪৪ বল খেলে ৫০ রানে অপরাজিত থাকেন রুমানা আহমেদ। ৯০ বল খেলে ৪৫ রান করেন ফারজানা হক।
রবিবার (২১ নভেম্বর) হারারের ওল্ড হারারিয়ান মাঠে টস হেরে ব্যাট করতে নামার পর শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ের শিকার হয় পাকিস্তান। ১৪ রানের মাথায় রানআউট হন আয়েশা জাফর। আরেক ওপেনার মুনিবা আলি আউট হন ২২ রান করে। ১২ রান করে বিদায় নেন অধিনায়ক জাভেরিয়া খান।
মিডল অর্ডারে ওমাইমা সোহাইলকে শূন্য রানেই ফিরিয়ে দেন বাংলাদেশের বোলার রিতু মনি। ইরাম জাভেদকে ৩ রানে সাজঘরের পথ দেখান নাহিদা আকতার। ৪৯ রানে ৫ উইকেট পড়ার পর বাংলাদেশ যখন আশায় ছিল খুব দ্রুত বাকিদেরও প্যাভিলিয়নে পাঠাবেন, তখনই দৃঢ়তার সঙ্গে দাঁড়িয়ে যান নিদা দার এবং আলিয়া রিয়াজ। এ দু’জন ১৩৭ রানের জুটি গড়েন।
১১১ বল খেলে ৮৭ রান করেন নিদা দার। আলিয়া রিয়াজ তো আউটই হননি। ৮২ বল খেলে ৬১ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান করে ২০১ রান।
জবাবে ১০ রানের মাথায় ওপেনার মুর্শিদা খাতুনকে হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। ৯ রান করেন তিনি। এরপর ৭০ রানের জুটি গড়েন শারমিন আক্তার এবং ফারজানা হক। ৬৭ বলে ৩১ রান করে আউট হন শারমিন আক্তার।
অধিনায়ক নিগার সুলতানা মাঠে নেমে কিছুই করতে পারেননি। ২৬ বল খেলে করেন মাত্র ৪ রান। ৯৮ রানের মাথায় ৪র্থ উইকেট পড়ার পর ঘুরে দাঁড়ান রুমানা আহমেদ এবং রিতু মনি। এ দু’জনের ব্যাটে গড়ে ওঠে ৬১ রানের জুটি। ৩৭ বলে ৩৩ রান করে আউট হন রিতু।
লতা মন্ডল এবং ফাহিমা খাতুন পরপর গোল্ডেন ডাক মারায় কিছুটা শঙ্কা জেগেছিল বৈকি। একই সঙ্গে পাকিস্তানি ওমাইম সোহাইলের হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও তৈরি হয়। কিন্তু সালমা খাতুন তার হ্যাটট্রিক ঠেকিয়েই দেননি শুধু। রোমানা আহমেদের সঙ্গে ৪২ রানের জুটি বেঁধে বাংলাদেশকে নিয়ে যান জয়ের বন্দরে।
৪৮তম ওভারে পাকিস্তানি বোলার ওমাইমা সোহাইলের কাছ থেকে ১৮ রান নেন বাংলাদেশের দুই ব্যাটার। সালমা একটি এবং রুমানা মারেন ৩টি বাউন্ডারির মার। ৪৯ তম ওভারে নেন ১২ রান। শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল কেবল ৫ রান। ২ বল বাকি থাকতেই সেই ৫ রান তুলে নেন রুমানা-সালমা। ফলে ৩ উইকেটের জয় পায় বাংলাদেশ।
নারী বিশ্বকাপ ক্রিকেট বাছাই পর্বের প্রথম ম্যাচ ছিল এটি। বাংলাদেশ রয়েছে ‘বি’ গ্রুপে। বাংলাদেশ, পাকিস্তান ছাড়াও এই গ্রুপের বাকি দলগুলো হলো জিম্বাবুয়ে এবং থাইল্যান্ড। বাছাই পর্ব শুরুর আগেই নারী ক্রিকেট দল জিম্বাবুয়েকে ৩ ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করেছিল।
