বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে সার্বিয়ার বিপক্ষে স্রেফ ড্র করলেই চলতো পর্তুগালের। তাহলেই মিলত সরাসরি কাতার বিশ্বকাপে খেলার টিকিট। কিন্তু পর্তুগিজদের হৃদয় ভেঙে ফল হলো উল্টো। শুরুতে এগিয়ে যাওয়া রোনালদোরা ৮৯ মিনিট পর্যন্ত ছিলেন নিজেদের ট্রাকে। কিন্তু শেষ সময়ে পর্তুগিজদের স্বপ্ন গুড়িয়ে দিলেন মিটরোভিক। নাটকীয় জয় ছাপিয়ে সরাসরি বিশ্বকাপ খেলার আনন্দে মাতলেন সার্বিয়ানরা।
রবিবার লিসবনে বেনফিকা স্টেডিয়ামে ইউরোপ অঞ্চলের বাছাইয়ে ‘এ’ গ্রুপের শেষ রাউন্ডে ২-১ গোলে জিতেছে সফরকারী দলটি। এর আগের দেখায় মার্চে ২-২ গোলে ড্র করেছিল পর্তুগাল। এবার ঘরের মাঠে কাঙ্ক্ষিত ড্র করার বিপরীতে হেরেই গেলো ফার্নান্দো সান্তোজের দল।
তাতেই গ্রুপের শীর্ষে থেকে সার্বিয়া সরাসরি ২০২২ বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে। আট ম্যাচে ৬ জয় আর ২ ড্রয়ে অপরাজিত সার্বিয়ার পয়েন্ট ২০। ১৭ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে থাকা পর্তুগালের আশা এখনই শেষ হয়ে যাচ্ছে না। তবে বিশ্ব মঞ্চে খেলতে হলে তাদের পার হতে হবে প্লে-অফের কঠিন ধাপ।
ইউরোপ অঞ্চলের বাছাইয়ে ১০ গ্রুপের শীর্ষ ১০ দল সরাসরি পাবে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের টিকিট। সেখানের রানার্সআপ ও নেশন্স লিগের সেরা দুই গ্রুপ জয়ী মিলে ১২ দলের প্লে-অফে ইউরোপ থেকে আরও তিনটি দল সুযোগ পাবে বিশ্বকাপে খেলার। তবে এখনও কাতার বিশ্বকাপে খেলার আশা দেখছেন পর্তুগিজ বস সান্তোজ।
ম্যাচ হারার পর তিনি বলেছেন, ‘আমরা কাতারে থাকব। আমরা জানি আমাদের যা করা উচিত ছিল তা আমরা করিনি, কিন্তু আমরা সেখানে থাকব।’
ঘরের মাঠে এদিন বল দখলে সার্বিয়ার কাছে পিছিয়ে থেকে ৭টি শট নিয়েছে পর্তুগিজরা, লক্ষ্যে ছিলো তিনটি শট। বিপরীতে ৫৭ শতাংশ বল দখলে রাখা সার্বিয়া শট নিয়েছে ১০টি লক্ষ্যে ছিল তিনটি, গোল হয়েছে দুটি।
এদিন দ্বিতীয় মিনিটেই এগিয়ে যায় পর্তুগিজরা। ডি-বক্সের বাইরে বের্নার্দো সিলভা পাস দেন রেনাতো সানচেসকে। ভেতরে ঢুকে ডান পায়ের শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন সানচেস।
ম্যাচের ১৩তম মিনিটে সমতায় ফিরতে পারত সার্বিয়া, কিন্তু বাধ সাধে গোল পোস্ট। স্ট্রাইকার দুসান ভ্লাহোভিচের শট দূরের পোস্ট্ লাগে। পরের মিনিটে প্রথম সুযোগ পান রোনালদো। দূর থেকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ফরোয়ার্ডের শট ঠেকান গোলরক্ষক।
৩৩তম মিনিটে সমতায় ফেরে সার্বিয়া। অবশ্য সার্বিয়ানদের সমতায় আসার দায়ও আছে পর্তুগিজ গোলরক্ষক রুই পাত্রিসিওর। ডি-বক্সের মাথা থেকে দুসান তাদিচের শট দানিলো পেরেইরার গায়ে লেগে পাত্রিসিওর হাত ছুঁয়ে গোললাইন পেরিয়ে যায়।
বিরতির আগে পর্তুগালের জালে বল পাঠান ভ্লাহোভিচ। তবে অফসাইডের পতাকা তোলেন লাইন্সম্যান। দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে পর্তুগালের ওপর চাপ বাড়ায় সার্বিয়া। ৮৩তম মিনিটে আলেক্সান্দার মিত্রোভিচের হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যে থাকেনি।
নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে তিনিই সর্বিয়াকে এনে দেন আনন্দের উপলক্ষ। সতীর্থের ক্রসে দূরের পোস্টে হেডেই মহামূল্যবান গোলটি করেন দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নামা এই স্ট্রাইকার। হতাশায় নুয়ে পড়েন রোনালদোরা। আর সরাসরি কাতার বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলার টিকিট নিয়ে আনন্দে মাতে সার্বিয়ানরা।
