গায়িকা মিলার বিচার শুরু

জনপ্রিয় পপ তারকা মিলা ইসলাম। সাবেক স্বামী পারভেজ সানজারিকে অ্যাসিড ছুঁড়ে মারা ও হত্যাচেষ্টার মামলায় মিলার বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার (১৪ নভেম্বর) বিচারক এ এইচ এম হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া জিন্না এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আনোয়ার উল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, ২০১৯ সালের ৫ জুন সংগীতশিল্পী মিলার বিরুদ্ধে অ্যাসিড হামলার অভিযোগে মামলা করেন তার সাবেক স্বামী পারভেজ সানজারির বাবা এস এম নাসির উদ্দিন। মামলায় মিলা ছাড়া অন্য আসামি হলেন-পিস জন পিটার হালদার কিম। পারভেজ সানজারি ২ জুন অ্যাসিডে দগ্ধ হন। এতে তার শরীরের ৮ থেকে ১০ শতাংশ পুড়ে যায়।

এর আগে চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি সাবেক স্বামীকে হত্যাচেষ্টার মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে স্থায়ী জামিন পেয়েছেন গায়িকা মিলা। ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে শুনানি শেষে বিচারক দিলারা আলো চন্দনা দশ হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেছেন। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, আমার জামিন পাওয়াটা বড় কথা না। কারণ, আমাকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত এই মিথ্যা মামলা নিয়ে আমাকে সবার কাছে জবাবদিহি করতে হচ্ছে। এর চেয়ে দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না। সবাই যেন আমার নামটা বেঁচে খাচ্ছে। আপনাদের লাভ কি আমাকে এভাবে অসম্মান করে। আমাকে নিয়ে এভাবে খেলার তো কোনো মানে নেই। আমাকে নিয়ে কেন এভাবে গেম হচ্ছে। এখন থেকে আমি আর কাউকে আমাকে নিয়ে খেলতে দেব না।

মিলা দাবি করেছিলেন, আদালতে বসা অবস্থায় তিনি তার সাবেক স্বামী পারভেজ সানজারির কাছ থেকে হুমকি পেয়েছেন। কিন্তু এতে তিনি মোটেও বিচলিত হননি। তবে যতই হুমকি দেওয়া হোক কোনো অবস্থাতেই স্বামীর বিরুদ্ধে দায়ের করা নির্যাতন ও যৌতুকের মামলা প্রত্যাহার করবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন এই পপ গায়িকা। তিনি বলেন, আমি বারবার বলেছি, আমার মামলা সত্য, আমি এই মামলা তুলে নেব না। দরকার হয় আমি জেলে যাব, তারপরও নত হব না। কারণ, আমিই সত্য। আর এই সত্যের বিচার একদিন হবেই।

এর আগে যৌতুক ও নির্যাতনের অভিযোগে ২০১৭ সালের ৫ অক্টোবর সংগীতশিল্পী মিলা তার সাবেক স্বামী পারভেজ সানজারির বিরুদ্ধে মামলা করেন। সেই মামলায় গ্রেফতার হন সানজারি। পরে তিনি জামিনে ছাড়া পান। গত বছরের ১১ জুলাই মিলা সানজারির বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। ২০১৭ সালের মে মাসে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন মিলা-পারভেজ। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে তাদের ডিভোর্স হয়।