ইনিই মীমের বিশেষ মানুষ, সেরেছেন বাগদান

হালের অন্যতম জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা বিদ্যা সিনহা সাহা মীমের আজ জন্মদিন। বিশেষ এ দিন উপলক্ষে সকালেই একটা সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, সন্ধ্যায় বিশেষ মানুষকে নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা আছে তার। এও বলেছিলেন, তার সঙ্গে পরিচয় করিয়েও দেবেন। কথা রাখলেন নায়িকা। জন্মদিনের সন্ধ্যায় জানিয়ে দিলেন তার বিশেষ মানুষের কথা। জানালেন তার সঙ্গে বাগদান সারার কথাও।

বুধবার সন্ধ্যায় হবু স্বামীর সঙ্গে তোলা একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে মীম লিখেছেন, ‘আমার সব হাসি তোমার সাথে শুরু হয়েছিল ছয় বছর আগে। আজ খুব বিশেষ দিন, আজ চিরকালের শুরু। এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। অবশেষে এনগেজড।’

অভিনেত্রীর এই স্ট্যাটাসই বলে দিচ্ছে, বিশেষ এ মানুষের সঙ্গে তার চেনাজানা দীর্ঘ ছয় বছর ধরে। অর্থাৎ, এতদিন ধরে তারা সম্পর্কে রয়েছেন। এও ইঙ্গিত দিয়েছেন, জন্মদিনেই বিশেষ মানুষের সঙ্গে বাগদান সেরেছেন তিনি। যদিও সেটা অবশ্য পরিষ্কার করে জানাননি মীম। তবে তার সহকারী জানিয়েছেন, নায়িকার হবু স্বামীর নাম সনি পোদ্দার। এও জানান, জীবনসঙ্গীর পুরো পরিচয় সময় হলে মীমই প্রকাশ করবেন।

ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই এই নায়িকার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব চর্চা হয়েছে। ১৪ বছরের অভিনয় জীবনে একাধিক অভিনেতার সঙ্গে নাম জড়িয়েছে তার। শুরুর দিকে যখন তিনি নাটকে অভিনয় করতেন, তখন অভিনেতা আব্দুন নূর সজলের সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন ছড়িয়েছিল মীমের। এরপর অভিনেতা ও গায়ক তাহসান রহমান খানের সঙ্গে কাজ করলে তার সঙ্গেও নাম জড়িয়েছে মীমের।

পরবর্তীতে বড় পর্দায় পথচলা শুরু করেন ৫ ফুট ৮.৫ ইঞ্চি উচ্চতার এই দীর্ঘাদেহী অভিনেত্রী। সেখানে চিত্রনায়ক বাপ্পী চৌধুরীর সঙ্গে পরপর তিনটা সিনেমায় অভিনয়ের পর সবাই তো এ জুটিকে বিয়ে দিয়ে হানিমুনে পর্যন্ত পাঠিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু মীমকে নিয়ে ছড়ানো কোনো গুঞ্জনেরই সত্যতা কখনোই মেলেনি। বুধবার বাগদানের খবর প্রকাশ করে তো সে সব গুঞ্জনে পুরোপুরি ফুলস্টপ মেরে দিলেন নায়িকা।

প্রসঙ্গত, ১৯৯২ সালের ১০ নভেম্বর মীমের জন্ম হয়েছিল রাজশাহীর বাঘা উপজেলায়। বুধবার ২৯ পেরিয়ে ৩০ বসন্তে পা দিয়েছেন এই নায়িকা। বাবা বীরেন্দ্র নাথ সাহা এবং মা ছবি সাহার বড় মেয়ে মীম। অভিনেত্রীর ছোট বোনের নাম প্রজ্ঞা সিনহা সাহা মমি। জন্মদিন বরাবরই মীমের কাছে স্পেশাল। তবে কখনোই বড়সড় করে উদযাপন করেন না। ছোটবেলায় বাবার চাকরিসূত্রে দীর্ঘদিন ভোলা জেলায় ছিলেন তারা। সে সময় বড় আয়োজনে জন্মদিন পালন করতেন মীম। তবে অভিনয়ের আসার পর পরিবারের সদস্যদের নিয়েই বিশেষ দিনটি উদযাপন করেন।

২০০৭ সালে ‘লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার’ সুন্দরী প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হন মীম। একই বছর হুমায়ুন আহমেদ পরিচালিত ‘আমার আছে জল’ সিনেমার মাধ্যমে তার চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়। ২০১৪ সালে ‘জোনাকির আলো’ সিনেমায় অভিনয় করে ৩৯তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে মৌসুমীর সঙ্গে যৌথভাবে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার অর্জন করেন মীম।

দীর্ঘ ১৪ বছরের ক্যারিয়ারে বেশ কয়েকটি দর্শকপ্রিয় সিনেমা উপহার দিয়েছেন এই নায়িকা। দেশের পাশাপাশি কাজ করেছেন কলকাতার সিনেমায়ও। বর্তমানে মুক্তির অপেক্ষায় আছে মীমের ‘পরাণ’ ও ‘দামাল’নামে দুটি সিনেমা। শুটিং চলছে ‘ইত্তেফাক’ ও ‘অন্তর্জাল’ নামে আরও দুটির। এছাড়া আলোচনার পর্যায়ে আছে আরও কয়েকটি সিনেমা।

সূত্র : ঢাকাটাইমস