এগিয়ে চলেছে পদ্মা সেতুর শেষ পর্যায়ের নির্মাণ কাজ। ইতিমধ্যে বসানো হয়েছে রোডওয়ে স্ল্যাব, রেলওয়ে স্ল্যাব। এখন চলছে সেতুর লাইটিং আর প্যারাপেট ওয়াল ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন স্থাপনের কাজ। প্রকল্প পরিচালক জানান, অক্টোবর থেকে সড়কে শুরু হবে পিচ ঢালাই।
দিন যত যাচ্ছে সেতুর অবকাঠামো ততই পূর্ণাঙ্গ হচ্ছে। দিনরাত তুমুল ব্যস্ততা শ্রমিকদের। আগস্ট মাসে শেষ হয়েছে সেতুর সবগুলো স্প্যানে রোডওয়ে স্ল্যাব বসানোর কাজ। যার মধ্য দিয়ে সেতুর মাওয়া ও জাজিরা প্রান্ত এক হয়েছে। এরপর থেকে সেতুজুড়ে চলছে বিচ্ছিন্নভাবে নানা কাজ। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে প্যারাপেট ওয়াল বা সেতুর নিরাপত্তা দেয়াল। যা বসানো এখন শেষের পথে। ইতিমধ্যে রোডওয়ে স্ল্যাবের সবগুলো শেয়ার পকেট পূরণ করা হয়েছে।
এখন পদ্মা সেতুতে চলছে লাইটিং ব্লিস্টার বসানোর কাজ। সেতুর প্যারাপেট ওয়ালে নির্দিষ্ট দূরত্বে ঢালাই করে বসানো হচ্ছে লাইটিং ব্লিস্টার। এখানেই বসবে সেতু আলোকিত করার জন্য ল্যাম্পপোস্ট। এছাড়াও ল্যাম্পপোস্টে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার কাজটিও চলছে পুরোদমে।
পদ্মা সেতু প্রকল্প ঘুরে দেখা গেছে, সেতুতে ৩০ মিটার পরপর লাইটিং ব্লিস্টার বসানো হচ্ছে। লাইটিং ব্লিস্টারের উপরে বসছে ল্যাম্পপোস্ট। পদ্মা সেতুর প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম জানান, পদ্মা সেতুতে এখন রোড ডিভাইডার বা মিডিয়ান বসানো হচ্ছে। প্যারাপেট ওয়াল বসানোর কাজ শেষের পথে। অক্টোবর মাস থেকে শুরু হবে পিচ ঢালাইয়ের কাজ।
তিনি আরো জানান, পিচ ঢালাইয়ের জন্য রোডওয়ে স্ল্যাব প্রস্তুত হলে প্রথমে ওয়াটার প্রুফ মেমব্রেন বিছানো হবে। এরপর অ্যাসফল্টের দুটি লেয়ার দেয়া হবে। পিচ ঢালাইয়ের পর রোড মার্কিং করা হবে। প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা সেতুতে যানবাহন চলাচলের জন্য স্ট্রিট লাইটিং ও বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে স্থায়ী আর্কিটেকচারাল লাইটিং করা হবে।
পদ্মা সেতুতে থাকবে দুই ধরনের আলোকসজ্জার ব্যবস্থা। একটি যানবাহনের চলার পথ আলোকিত করতে স্ট্রিট লাইটিং, অন্যটি কোনো উৎসব কিংবা জাতীয় কোনো দিবসে পুরো সেতু নানা রঙে আলোকসজ্জা করার স্থায়ী ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থাকে আর্কিটেকচারাল লাইটিং বলা হচ্ছে।
২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটিতে প্রথম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় পদ্মা সেতু। এরপর একে একে ৪২টি পিলারে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪১টি স্প্যান বসিয়ে ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু পুরোপুরি দৃশ্যমান হয়েছে ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর। একইসঙ্গে চলতে থাকে রোডওয়ে, রেলওয়ে স্ল্যাব বসানোসহ অন্যান্য কাজ। সেতুর মূল আকৃতি দোতলা।
মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন।
দুটি সংযোগ সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ করেছে বাংলাদেশের আবদুল মোনেম লিমিটেড। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো। ২০২২ সালের জুন মাসের মধ্যেই এই সেতু যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র : ঢাকাটাইমস
