পদ্মা সেতুর ২ স্প্যানে রোডওয়ে স্ল্যাব বসানো বাকি

প্রমত্তা পদ্মার বুকে নির্মাণাধীন সেতুটি পুরোপুরি দৃশ্যমান হয়েছে গত বছরের ডিসেম্বরে। ইতোমধ্যে স্প্যানের উপরে রেলওয়ে স্ল্যাব বসানোর কাজও শেষ হয়েছে। শেষের দিকে রোডওয়ে স্ল্যাব বসানোর কাজ। আর মাত্র দুটি স্প্যানে রোডওয়ে স্ল্যাব বসানো বাকি আছে। ১১ ও ১২ নম্বর স্প্যানে স্ল্যাব বসানো হলে শেষ হবে পুরো সেতুতে স্ল্যাব বসানোর কাজ।

ইতিমধ্যে সেতুর ১১ নম্বর স্প্যানের উপরে প্রায় ২৫ শতাংশ জায়গায় রোডওয়ে স্ল্যাব বসানো হয়েছে। এই স্প্যানে ১৮টি রোডওয়ে স্ল্যাব বসানো হয়েছে। এখানে আরও ৫৪টি স্ল্যাব বসাতে হবে। এরপর বাকি থাকবে ১২ নম্বর স্প্যানে স্ল্যাব বসানোর কাজ। এই স্প্যানে ৭০টি স্ল্যাব বসবে। ১১ ও ১২ নম্বর স্প্যান মিলে ১২৪টি রোডওয়ে স্ল্যাব বসানো বাকি আছে। আগস্টের মধ্যেই স্প্যান দুটিতে স্ল্যাব বসানোর কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে পুরো সেতুতে স্প্যান লাগবে ২ দুই হাজার ৯১৭টি।

সেতুর সর্বশেষ স্প্যান দুইটিতে স্ল্যাব বসানোর কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। ২১ জুলাই পর্যন্ত টানা স্ল্যাব বসানো হয়েছে। তারপর কয়েকদিন স্ল্যাব বসানো কাজ বন্ধ রয়েছে। স্থাপন করা স্ল্যাবে গ্রাউটিং ও ওয়্যার প্রবেশের কাজ চলছে। আজ ২৪ জুলাই নতুন করে স্ল্যাব বসানোর কথা রয়েছে।

পদ্মা সেতু প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের মধ্যেই ১১ নম্বর স্প্যানে রোডওয়ে স্ল্যাব বসানোর কাজ শেষ হয়ে যাবে। আগস্ট মাসের মধ্যেই বাকি ২ স্প্যানে স্ল্যাব বসানোর কাজ শেষ হবে।

দ্বিতল সেতুর নিচের অংশে রেলওয়ে স্ল্যাব বসানোর কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। এছাড়া ১৩ জুলাই সেতুতে পরীক্ষামূলকভাবে পিচ ঢালাইয়ের কাজ করা হয়। সেতুর জাজিরা প্রান্তের ৪১ নম্বর স্প্যান থেকে ৩৭ নম্বর স্প্যান পর্যন্ত রোডওয়ে স্ল্যাব, প্যারাপেট ওয়াল এবং রোড ডিভাইডার বসানো হয়েছে। এই সড়কটুকুতে বাতি ছাড়া প্রায় সব কাজই শেষ।

এদিন সেতুর ৪০ নম্বর স্প্যানের উপরের সড়কে পিচ ঢালাইয়ের কাজ হয়। এর আগে এই স্প্যানের উপরের সড়কে ১০ মিটার প্রস্থ এবং ৬০ মিটার দৈর্ঘ্যের ওয়াটার প্রুফ মেমব্রেন বিছানো হয়েছিল। যেটি পানি নিরোধক একটি প্রলেপ। তার উপরের পিচ ঢালাই করা হয়।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটিতে প্রথম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় পদ্মা সেতু। এরপর একে একে ৪২টি পিলারে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪১টি স্প্যান বসিয়ে ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু পুরোপুরি দৃশ্যমান হয়েছে ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর। একইসঙ্গে চলতে থাকে রোডওয়ে, রেলওয়ে স্ল্যাব বসানোসহ অন্যান্য কাজ। সেতুর মূল আকৃতি দোতলা।

মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন।

দুটি সংযোগ সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ করেছে বাংলাদেশের আবদুল মোনেম লিমিটেড। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো। ২০২২ সালের জুন মাসের মধ্যেই এই সেতু যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার কথা রয়েছে।