২৪ ঘণ্টায় রাজশাহীতে আরো ৮ জনের মৃত্যু

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাজশাহীতে করোনা শনাক্ত অনেক রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন বাসায় থেকে। কিন্তু তাদের বেশিরভাগই মানছেন না আইসোলেশনের বিধিনিষেধ। এতে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি সংক্রমণ ঝুঁকিতে পড়েছেন প্রতিবেশিরাও। শুধু তাই নয়, নমুনা সংগ্রহের বুথগুলোতেও মানা হচ্ছে না নূন্যতম সামাজিক দূরত্ব।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নমুনা সংগ্রহ বুথের চিত্র এটি। সবার মুখে মাস্ক থাকলেও নেই সামাজিক দূরত্ব মানার বালাই। এজন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দূষছেন অনেকে। আর স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, লোকবল ও স্থান সংকটের কারনে এই অবস্থা।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাব অ্যাসিস্টেন্ট আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, করোনা উপসর্গ নিয়ে যারা বাসায় রয়েছেন, তাদের বেশিরভাগই মানছেন না আইসোলেশনের বিধি নিষেধ। এতে পরিবারের অন্য সদস্যদের পাশাপাশি সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন প্রতিবেশিরাও।

সংক্রমণরোধে লকডাউনের চেয়ে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মানার ওপর জোর দিয়েছেন রামেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ধ্যাপক ডা. খলিলুর রহমান। করোনার ভারতীয় ধরন শনাক্তের পর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিনই বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। বর্তমানে শনাক্তের হার পঞ্চাশের ওপর। আর দুই সপ্তাহে মৃত্যুর সংখ্যা শতাধিক। এমন পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন চিকিৎসকরা।

২৫ মে রাজশাহীতে করোনা শনাক্তের হার ছিলো ১৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ। ২৭ মে এই হার বেড়ে দাঁড়ায় ৫২ দশমিক ৫৩ শতাংশে। এরপর রোগী শনাক্তের হার ৩০ শতাংশের মধ্যে থাকলেও পয়লা জুন বেড়ে হয় ৪২ দশমিক ৫৮ শতাংশ। ওই সপ্তাহে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত হয়ে ৩০ জন, আর উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৪৯ রোগী।

এর পর গত ৪ জুন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত হয়ে সর্বোচ্চ মারা যায় ১৬ জন। পরের দিন মৃত্যু হয় আরো ৯ জনের। গতকালোও মৃত্যু হয় ৭ জনের। প্রতিদিনই রোগী বাড়তে থাকায় হাসপাতালগুলোতে দেখা দিয়েছে শয্যা সংকট, ফাঁকা নেই আইসিইউ।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জনসচেতনতার পাশাপাশি প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।