দুর্ঘটনা নিয়ে ‘মিথ্যা বলেছেন’ নোবেল

বৃহস্পতিবার রাতে সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত হন আলোচিত ও বিতর্কিত কণ্ঠশিল্পী মাঈনুল আহসান নোবেল। তার চোখের উপরে ও মাথার তালুতে মোট ৩০টি সেলাই দিতে হয়। ওই দুর্ঘটনা সম্পর্কে পরের দিন শুক্রবার একটি স্ট্যাটাস দিয়ে জানান, এক বৃদ্ধ লোক অসতর্কভাবে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। তাকে বাঁচাতে গিয়েই নাকি আহত হন।

কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতের দুর্ঘটনা সচোক্ষে দেখেছিলেন সোয়াইব বিন আহসান নামে এক যুবক। তিনি জানালেন ভিন্ন কথা। তার দাবি, কোনো বৃদ্ধ লোককে বাঁচাতে নয়, বরং নোবেল উল্টো দিক থেকে বাইক চালিয়ে আনুমানিক ২৬ বছর বয়সী এক সাইকেল আরোহীকে ধাক্কা মারেন। এতে নোবেলের থেকে ওই যুবক বেশি আহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনার পরদিন নোবেল তার ফেসবুকে যে স্ট্যাটাসটি দিয়েছিলেন সেটি শেয়ার করে প্রত্যক্ষদর্শী যুবক সোয়াইব বিন আহসান ফেসবুকে লেখেন, ‘রং সাইডে বাইক চালিয়ে সাইকেল আরোহীর ওপর দিয়ে এভাবেই বাইকটা চালাইয়া দিলা। যেখানে লোকটা সারাদিন রোজা থাকার পর ইফতার করে তার ক্ষুধা নিবারণের কথা, সেখানে লোকটা মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে। আর তুমি একজন রোজাদারকে মৃত্যুর পথযাত্রী বানাইয়া আরেকজন বৃদ্ধকে জীবনদানের গল্প শুনাও!’

ওই রাতের দুর্ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সোয়াইব পরে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা গুলশান আজাদ মসজিদের পাশে ৩৫ নম্বর রোডে কয়েকজন ক্রিকেট খেলছিলাম। হঠাৎ দেখি উল্টো দিক থেকে আসা একটি বাইক একটি সাইকেলকে ধাক্কা দিল। এতে দুজনেই পড়ে যান। আমরা সাইকেল আরোহীকে ল্যাবএইড হাসপাতালে পাঠাই। পরে অবশ্য তিনি অন্য হাসপাতালে যান।’

তিনি আরও জানান, ‘আমরা নোবেল ভাইকেও বলি, আপনি হাসপাতালে যান। তার বাইকটা পাশে পড়া ছিল। আমরা তাকে একটি রিকশায় তুলেও দিয়েছিলাম। কিন্তু কিছু দূর যাওয়ার পর উনি রিকশা ঘুরিয়ে চলে আসেন। এরপর নিজের বাইক চালিয়ে চলে যান। তারপর তো দেখি ফেসবুকে তিনি মিথ্যাচার করছেন। দুর্ঘটনা যেখানে ঘটেছে, সেখানকার সিসি ক্যামেরা চেক করলেও আমার কথার প্রমাণ পাওয়া যাবে।’

যদিও এসব কথা বেমালুম অস্বীকার করেছেন ‘বিতর্কের রাজা’ নোবেল। তিনি বলেন, ‘আমি রং সাইড দিয়ে যাচ্ছিলাম না। সাইকেল আরোহীর সঙ্গে ধাক্কা লাগছে কি না, তাও জানি না। ওই লোকটাকে সাইড দিতে গিয়ে আমার বাইক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এরপর সেটি কোথায় গিয়ে লাগছে, তা আমি জানি না। কারণ, কিছুক্ষণের জন্য আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। এরপর তো আমি স্বাভাবিক অবস্থায় ছিলাম না। তারপর আমি নিজেই হাসপাতালে ভর্তি হই।’

তাহলে লোকটি যে বৃদ্ধ ছিলেন, ফেসবুক স্ট্যাটাসে সে কথা কেন লিখলেন গোপালগঞ্জের ছেলে নোবেল? এমন প্রশ্নের অবশ্য কোনো জবাব দেননি ‘সারেগামাপা’ খ্যাত বিতর্কিত এই গায়ক। এছাড়া তার বাইকের ধাক্কায় আহত ওই সাইকেল আরোহীর এখন কী অবস্থা, তাও জানা যায়নি। ওই দিনের দুর্ঘটনা নিয়ে থানা পুলিশ হলে হয়তো ফেঁসে যেতে পারেন এই গায়ক।

নোবেলের ক্যারিয়ারের পুরোটাই বিতর্কে মোড়া। যার শুরু হয়েছিল ‘সারাগামাপা’-এর মঞ্চ থেকে। গাস বিষয়ক এই প্রতিযোগিতা থেকেই মূলত তিনি গায়ক হিসেবে পরিচিতি পান। এর আগে নোবেল তেমন কেউই চিনতেন না। তিনি গান গেয়ে যতটা না জনপ্রিয়তা পেয়েছেন, তার চেয়ে বহুগুণে হয়েছেন বিতর্কিত।

‘সারেগামাপা’-এর মঞ্চে দেশের বিশিষ্ট গীতিকার ও সুরকার প্রিন্স মাহমুদের বিখ্যাত কয়েকটি গান গেয়ে বিচারকদের বাহবা পান। কিন্তু একটি গানের বেলায়ও তিনি সেগুলোর স্রষ্টা প্রিন্স মাহমুদের নাম বলেননি। এ নিয়ে প্রিন্স মাহমুদ ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করলে ক্ষমা চেয়ে নেন নোবেল। যে ‘সারেগামাপা’ অনুষ্ঠান তাকে এত পরিচিতি দিল, সেই অনুষ্ঠানের এক বিচারককে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন নোবেল। বলেন, তার গান বিচার ক্ষমতা নাকি ওই বিচারকের নেই।

এরপর কলকাতার একটি পত্রিকাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন নোবেল। বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আমার সোনার বাংলা’র চেয়ে প্রিন্স মাহমুদের লেখা এবং জেমসের গাওয়া ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে ভালো। এ নিয়ে ভারতীয়দেরও রোষের মুখে পড়েন নোবেল।

গত বছর দেশের জনপ্রিয় এক ইউটিউবারের সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপত্তিকর তর্কে জড়িয়ে পড়েন এই গায়ক। সে সময় ওই ইউটিউবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে নোবেলকে রাজধানীর মগবাজারে র‌্যাব অফিসে গিয়ে হাজিরাও দিয়ে আসতে হয়। সেবার তাকে শাসিয়ে ছেড়ে দেন র‌্যাব সদস্যরা। জানিয়ে দেন, আচরণ ঠিক না করলে ভবিষ্যতে তাকে বড় মাশুল দিতে হবে।

এছাড়া নোবেলের বিরুদ্ধে একাধিক নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন এবং পরে তাদের ঠকানোর মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। এমন গুঞ্জনও রয়েছে, তিনি একাধিক বিয়ে করেছেন আবার তালাকও দিয়েছেন। জানা গেছে, গত বছরের মে মাসে মেহরুবা সালসাবিল নামে এক তরুণীকে বিয়ে করে বর্তমানে রাজধানীর নিকেতনে বসবাস করছেন। এটি নোবেলের তৃতীয় বিয়ে।

সূত্র : ঢাকাটাইমস