ভূমি দিবসে ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভ : এখনো থামেনি ইসরাইলি ভূমিদস্যুতা

ভূমি দিবস উপলক্ষে হাজার-হাজার ফিলিস্তিনি অবরু’দ্ধ গাজা উপত্যকা, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও ইসরাইলের অভ্যন্তরে বিক্ষোভ করেছে। মঙ্গলবার ভূমি দিবসের ৪৫তম বার্ষিকীর স্মরণে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

ফিলিস্তিনিরা ১৯৭৬ সাল থেকে ৩০ মা’র্চকে ভূমি দিবস হিসেবে পা’লন করে আ’সছে। এ দিনে ইসরাইলের অভ্যন্তরে অব’স্থানরত ফিলিস্তিনি নাগরিকরা ইসরাইলের ভূমি-দখল নীতি ও বৈষম্যের বি’রুদ্ধে বিক্ষোভ করেছিলেন। ওই দিন ইসরাইলের নি’রাপত্তা বা’হিনী ছয়জন ফিলিস্তিনিকে হ’ত্যা করেছিল।

ইসরাইলের অভ্যন্তরে বসবাস করা ফিলিস্তিনিরা দেশটির ২০ শতাংশ জনগণ। এ ফিলিস্তিনিরা ১৯৪৮ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত ইসরাইলের নি’রাপত্তা বা’হিনীর সামরিক আ’ইনের মধ্যে ছিলেন। তারা ফিলিস্তিনি জাতীয়তাবাদের চেতনার কথা বলা জন্য কারফিউ ও গ্রেফতারসহ বিভিন্ন ধ’রনের শা’স্তি ভোগ করেছিলেন।

এ মঙ্গলবারের ভূমি দিবসে ফিলিস্তিনিরা ১৯৭৬ সালে নি’হতদের ক’বরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। স্থা’নীয় সংবাদ মাধ্যমের প্র’তিবেদন অনুসারে এ বিক্ষোভের সময় পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শহর থেকে ১০ ফিলিস্তিনিকে গ্রেফতার করে ইসরাইলি সৈ’ন্যরা। তাদেরকে রামাল্লাহ, হেবরন, জেনিন, সালফিট, নিলিন, নাবলুস ও সেবাসটিয়া থেকে গ্রেফতার করা হয়।

গত বছর করো’না সংক্র’মণ ছ’ড়িয়ে পড়ায় ভূমি দিবসের বিক্ষোভ বা’তিল করা হয়েছিল।

২০১৮ সালে গাজা উপত্যকায় ভূমি দিবসে একটি লং মা’র্চ বা দীর্ঘ পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এ দীর্ঘ পদযাত্রার মূল লক্ষ্য ছিল ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের তাদের নিজেদের পরিবারের শহর ও ভূমিতে প্রত্যাবর্তণ। এই ভূমি থেকে ১৯৪৮ সালে তাদেরকে জো’র করে উচ্ছেদ করেছিল ইসরাইলি সৈ’ন্যরা। বছরজুড়ে চলা এ দীর্ঘ পদযাত্রার সময় ইসরাইলি বা’হিনী বহু ফিলিস্তিনিকে হ’ত্যা করে। এদের মধ্যে ৪৬ জনই ছিল শি’শু।

এখনো থামেনি ইসরাইলি ভূমিদস্যুতা :

নাকাব মরুভূমির অখ্যাত এক গ্রামের একজন মানকাধিক ক’র্মী সিলিমান আবু জায়েদ। এ মরুভূমিটি নিগেভ নামেও পরিচিত যা ইসরাইলের দক্ষিণে অবস্থিত। তিনি সংবাদ মাধ্যম মিডল ইস্ট আইকে বলেন, ১৯৪৮ সাল থেকেই ইসরাইল সরকার ফিলিস্তিনি বেদুইনদের ভূমি দখল করে যাচ্ছে।

সিক্কুই নামের একটি সংস্থা যারা ইসরাইলের ফিলিস্তিনি আরব ও ইহুদি নাগরিকদের মাঝে সমতা নি’শ্চিত ক’রতে চায়। তাদের মতে, দু’লাখ ৭০ হাজারের মতো বেদুইন নাকাব মরুভূমিতে বাস করে। এদের মধ্যে এক লাখ বেদুইন বাস করে ৩৫টি অচি’হ্নিত গ্রামে। এ গ্রামগুলোকে ইসরাইলের সরকার স্বীকৃতি দেয় না। এখানকার বাসিন্দাদের পানি, বিদ্যুৎ, সরকারি পরিবহন, রাস্তা ও স্কুলের মতো মৌলিক সেবাও দেয় না।

মানকাধিক ক’র্মী সিলিমান আবু জায়েদ বলেন, নাকাব মরুভূমিতেও ইসরাইলিরা ভূমি দখল করছে, তারা জলপাই গাছ উপ’ড়ে ফেলছে, যেমনটা তারা করেছিল খিরবিট আল-ওয়াটান নামের গ্রামে।

তিনি আরো বলেন, ২০২০ সালে নাকাব মরুভূমির এ অঞ্চলে ইসরাইলি ক’র্তৃপক্ষ ছয়টি ফিলিস্তিনি গ্রামের ঘর-বাড়ি ধ্বং’স করেছে। তারা গম ও অন্যান্য শস্য ক্ষেত বিন’ষ্ট করেছে। শত শত মহিলা ও শি’শু ঘর হারিয়েছে। শি’শুদের বই, জামা-কাপড় ও খেলনা তাদের বাড়ির ধ্বং’সস্তুপের নিচে চা’পা প’ড়েছে।

পশ্চিম তীরের হেবরন শহরের ফিলিস্তিনি মানবাধিকার ক’র্মী ইসা আমরো বলেন, ইসরাইলের বর্ণবৈষম্য নীতির অবসান হবে না তত দিন পর্যন্ত যত দিন না ভূমির প্রকৃত মালিরকদের (ফিলিস্তিনিরা) কাছে তাদের জমি ফেরত দেয়া হবে।

সূত্র : মিডল ইস্ট আই