আ’নন্দ উৎসবে বি’য়ে করে বেশ অস্ব’স্তিতেই পড়েছেন বর্তমান সময়ের আলোচিত ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও বিমানবালা তামিমা দ’ম্পতি। গেল বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) তার সদ্য বিবা’হিত স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মি ও নাসিরের বি’রুদ্ধে মা’মলা করেন তামিমার সাবেক স্বা’মী রাকিব।
মা’মলায় অভিযোগ করা হয়েছে, রাকিবের স’ঙ্গে বৈ’বাহিক সম্প’র্ক চলমান অবস্থাতেই তামিমা নাসিরকে বিয়ে করেছেন, যা ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ। এর প্র’তিবাদ জানিয়ে সংবাদমাধ্যমের স’ঙ্গে কথা বলেছেন নাসির হোসেন। জানিয়েছেন, বৈধভাবেই বিয়ে করেছেন তারা। আগের স্বা’মীকে তালাক দিয়েই নতুন সংসার শুরু করেছেন তামিমা।
তার সেই কথার সত্যতা মিলল সরেজমিন প্রতিবেদনে। তার সদ্য বিবা’হিত স্ত্রী তামিমা সুলতানার (পাসপোর্ট অনুযায়ী) বাবার বাড়ি টাঙ্গাইল সদর উপজে’লার লোকেরপাড়া, সিংগুড়িয়া উল্লেখ থাকলেও তার বাবার বাড়ি জে’লার ঘাটাইল উপজে’লার বড় লোকেরপাড়ার তালুকদার বাড়ি এলাকায়। পোস্ট অফিস সিংগুড়িয়া। ফলে তিনি পাসপোর্টে ভু’ল ঠিকানা ব্যবহার করেছেন।
জানা গেছে, তামিমা সুলতানা ঢাকা থেকে পাসপোর্ট গ্রহণ করেছেন। ডেপুটি ডিরেক্টর নাদিরা আক্তার স্বাক্ষরিত পাসপোর্টটি ইস্যু করা হয়।
সরেজমিনে তামিমার বাবার বাড়ি ঘাটাইল উপজে’লার বড় লোকেরপাড়া তালুকদার বাড়ি এলাকায় জানা গেছে, তামিমা সুলতানা ওরফে শবনমের বাবার নাম শহিদুর রহমান স্বপন। মায়ের নাম সুমী আক্তার গিনী। তামিমা ছোটকাল থেকেই এলাকাবিমুখ ছিলেন।
তিনি টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী স’রকারি বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও কুমুদিনী স’রকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। তামিমার মা সুমি আক্তারও একসময় জাতীয় পর্যায়ে হকি খেলতেন। তার বাবা ঢাকায় একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করতেন। ক্রিকেটার নাসিরের স’ঙ্গে তামিমার বিয়ে নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় হলেও এলাকার কেউ তামিমাকে চিনত না।
তামিমার চাচা বিপ্লব তালুকদার ওরফে বিপ্লব মাস্টার বলেন, তামিমার ডাকনাম শবনম। শবনম হিসেবেই তাকে ডাকি আমরা। সে সর্বশেষ সৌদি এয়ারলাইনসে চাকরি করেছে বিমানবালা হিসেবে। কয়েক বছর আগে রাকিব হাসানের স’ঙ্গে প্রেম করে বিয়ে হয় তামিমার।
কিন্তু পরিবার থেকে ওই বিয়ে মেনে নেওয়া হয়নি। তবু তারা দুজনে সংসার করে। তিনি আরও বলেন, রাকিব প্র’তারণার আশ্রয় নিয়ে তামিমাকে বিয়ে করেছিল। রাকিব ঢাকায় একটি দোকানের কর্মচারী ছিল। কিন্তু বিয়ের আগে রাকিব তামিমাকে বলেছে দোকানটা তার। বিয়ের পর তামিমা সত্যতা জানতে পারে। এর মধ্যেই তাদের ঘরে একটি কন্যাশি’শু জ’ন্মগ্রহণ করে।
বিপ্লব তালুকদার বলেন, নানা কারণে তাদের মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না। পারিবারিকভাবেই আমরা জানি তামিমা রাকিবকে তালাক দিয়েছে। তালাকনামা তার স্বা’মীর ঠিকানায় পাঠিয়েছে ঠিকই। হয়তো তার স্বা’মী সেটা স্বাক্ষর করেনি। সর্বশেষ ক্রিকেটার নাসিরের স’ঙ্গে বিয়ে হয়। এরপর থেকেই টেলিভিশন ও পত্রিকায় আমরা তাদের নিয়ে বিভিন্ন খবর দেখতে পাচ্ছি। অনেকেই আরও বেশি ভু’ল ত’থ্য দিয়ে মিথ্যা গুজব ছড়াচ্ছে।
তামিমার বাবা শহিদুর রহমান স্বপন মুঠোফোনে বলেন, তামিমার মা একজন হকি খেলোয়াড় ছিল। তামিমা এসএসসি এবং এইচএসসি টাঙ্গাইলেই সম্পন্ন করেছে। এরপর ঢাকায় অনার্স করেছে।
টাঙ্গাইলের কুমুদিনী ম’হিলা কলেজে এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার আগে তার এয়ারলাইনসে চাকরি হয়। এরপর থেকে ঢাকায় বসবাস শুরু করে সে। আমিও ঢাকায় একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করতাম। এ ছাড়া বিদেশেও থেকেছি কয়েক বছর। ছোটবেলা থেকেই তামিমা এলাকায় খুব বেশি আসত না। এ কারণে এলাকার মানুষ তাকে চেনে না। তবে ক্রিকেটার নাসিরের সাথে বিয়ে হওয়ার পর তামিমাকে নিয়ে মিথ্যা প্রচার-প্রচারণা চা’লানো হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যে পাসপোর্ট দেখানো হয়েছে, সেটা ২০১৮ সালের রি-ইস্যু করা পাসপোর্ট। রি-ইস্যু করা পাসপোর্টে কিছুই পরিবর্তন না হওয়ার কারণে তার পাসপোর্টে স্বা’মীর নাম রয়ে গেছে।
এর আগে তামিমা আমেরিকায় ফ্লাইট করার সুবাদে সেখানকার পাঁচ বছরের একটা ভিসা থাকায় সেটির মেয়াদ শেষ না হওয়ায় পাসপোর্ট পরিবর্তন করতে পারবে না। যে কারণে পাসপোর্টটা রি-ইস্যু করতে হয়েছে ২০১৮ সালে। তাই তার স্বা’মীর নাম রাকিব রয়ে গেছে।
তামিমার আমেরিকার ভিসার মেয়াদ রয়েছে ২০২১ সাল পর্যন্ত। এরপর নতুন স্বা’মী নাসির হোসেনের নাম বা বাবার নামে পাসপোর্ট করতে পারে সে (তামিমা)। এর আগে ২০১৬ সালে রাকিবকে তামিমা তালাক দিয়েছে।
তালাকের প্রমাণপত্রও রয়েছে আমাদের কাছে। তারপরও তাকে হে’নস্তা করা হচ্ছে। ২০১৯ সালে রাকিব ছোট মে’য়েটাকে খাওয়ার কথা বলে নিয়ে গেছে। এ ঘ’টনায় তার বি’রুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছিল।
এ বি’ষয়ে ঘাটাইল উপজে’লার লোকেরপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আকরাম হোসেন খান বলেন, ক্রিকেটার নাসির হোসেনের স’ঙ্গে তামিমার বিয়ে হয়েছে।
তামিমা আমাদের এলাকার স্বপন ওরফে শহিদুর রহমানের মে’য়ে। এর আগেও তামিমার বিয়ে হয়েছিল। পাসপোর্টের বি’ষয়ে জানতে চাইলে জে’লার বিশেষ শাখা (ডিএসবি) ডিআইও-১ মো. হারেচ আলী মিয়া বলেন, পাসপোর্টটির ভ্যারিফিকেশন টাঙ্গাইলে করা হয়েছে কি না, এ বি’ষয়ে আমাদের কাছে কোনো ত’থ্য নেই।
