ফেসবুকে শুক্রাণু দাতা খুঁজছেন নারীরা!

টেস্টটিউব বেবির খরচ অনেক বেশি হওয়ায় শুক্রাণু দাতা ফেসবুক থেকে শু’ক্রাণু দাতা খুঁজছেন নারীরা। এমন ঘ’টনা ঘ’টেছে যুক্তরাজ্যে। স’ম্প্রতি বিবিসির প্র’তিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। ওই প্র’তিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, ব্রিটেনে যেসব দম্পতির সন্তান হচ্ছে না তাদের অনেকেই উপযুক্ত চিকিৎ’সা পান না জাতীয় স্বা’স্থ্য সেবা ব্যব’স্থায়। ফলে ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ থেকে শুক্রাণু দাতা খুঁজে নিচ্ছেন গর্ভধারণের জন্য।

বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে পরিচয় গো’পন করে এক দম্পতি জা’নিয়েছেন, এক বছর ধ’রে সন্তান নেয়ার চেষ্টা করেও গর্ভধারণ হচ্ছিল না তাদের। পারিবারিক চিকি’ৎসকের প’রামর্শে জাতীয় স্বা’স্থ্য সেবা ক্লিনিকে গিয়ে পরীক্ষা করে জানতে পারেন যে তাদের সঙ্গীর শুক্রাণুতে স’মস্যা আছে। এমনকি তাদের গর্ভধারণ ক’রতে হলে নিতে হবে কোন একজন দাতার শুক্রাণু।

ওই দম্পতিকে শুক্রাণু দাতার একটি তালিকা দেয়া হয় ক্লিনিক থেকেই। আর সেখান থেকেই ওই নারী পেয়ে গে’লেন নিজে’র জাতিগোষ্ঠীর একজন উপযুক্ত দাতা যিনি এখনও কাউকে শুক্রাণু দেননি। ওই দাতার শুক্রাণু ব্যবহার করে ২০১৭ সালে প্রথম আইভিএফ বা কৃত্রিম গর্ভ সঞ্চারের চেষ্টা করেও কোনো কাজ হয়নি।

অবশ্য ক্লিনিক থেকে অন্য আরেকটি পদ্ধতির কথা বলা হলেও তা ব্যয়বহুল হওয়ায় এড়িয়ে যান ওই দম্পতি। এরইমধ্যে তারা নিজে’রা বিয়ে ক’রেছেন। ওই নারীর স্বামীই প্রস্তাব দিলেন অনলাইনে শুক্রাণু দাতার খোঁজ করার। ব’ন্ধু বান্ধব ও পরিবারের লোকজন যাতে না জানতে পারেন সেজন্য ফেসবুকে ভুয়া একাউন্ট খোলেন তারা। কিছু গ্রুপে যুক্ত হয়ে পেয়েও যান কাঙ্ক্ষিত দাতার সন্ধান।

এরপর তারা ওই দাতার মেডিকেল পরীক্ষা, পারিবারিক ইতিহাস ও সু’স্থতার দলিলপত্র পরীক্ষা করলেন। স্বামীকে স’ঙ্গে নিয়েই দেখা করলেন পার্কে। ছয় বারের পর অবশ্য একবার গর্ভধারণ করলেও তা ন’ষ্ট হয়ে যায়। অবশ্য দাতা লোকটা প্রতিবার শুক্রাণু দেয়ার জন্য ৬০ পাউন্ড খরচ নিত।

এ ধ’রণের ক’র্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে ব্রিটেনের আ’ইনকানুনে কিছু অস্পষ্টতা আছে বলে বিবিসির প্র’তিবেদনে বলা হয়েছে। এরইমধ্যে শুরু হলো করো’না ম’হামা’রির লক’ডাউন। তখন তারা ভিন্ন একটি শু’ক্রাণু দাতা খুঁজে বের করলেন। এবং তারা বাড়িতে বসেই সেই কাজটা করলেন যেটা বাইরে টয়লেটে গিয়ে ক’রতে হয়েছিল। আর এবার তাদের কাছে ধ’রা দিল সাফল্য। সন্তান সম্ভবা হলেন ওই নারী।

সাক্ষাৎকারে ওই নারী বলেন, ‘আম’রা ভীষণ আনন্দিত। অনেক দিন চেষ্টার পর এখন আমাদের একটি সন্তান হতে যাচ্ছে, পরিবার হতে যাচ্ছে, যা আম’রা দু’জনে অনেকদিন ধ’রে চেয়ে আসছি।’ অবশ্য এসব গো’পনে ক’রেছেন ওই দম্পতি যাতে স্বামীর অক্ষ’মতা প্র’কাশ না পায়।

ওই দম্পতি ছাড়াও ফেসবুক মাধ্যমে যোগাযোগ হয়েছে এমন আরও তিনজন নারী ওই দাতার শু’ক্রাণু নিয়ে স’ন্তানের মা হয়েছেন। যার ফলে দান-করা শু’ক্রাণু থেকে জ’ন্ম হয়েছে এমন সন্তানের বয়স ১৮ হলে তারা তাদের আ’সল পিতার সাথে যোগাযোগ ক’রতে পারবে। ব্রিটেনে এমন একটি আ’ইন হয়েছে ২০০৫ সালে।

আর ওই নারীর মতো পদ্ধতি নিয়ে চলেছেন ব্রিটেনের অসংখ্য নারী। যুক্তরাজ্যের ফাটিলিটি বিষয়ক নিয়ন্ত্রক সংস্থা এইচএফইএ-র চেয়ারপারসন স্যালি চেশায়ার জা’নিয়েছেন, এ ধ’রনের চু’ক্তিতে যারা জড়িত হয়েছেন তাদের সুর’ক্ষার জন্য এখনো ব্রিটেনে কোনো আ’ইন নেই।।

তাছাড়া কোন ক্লিনিকের বাইরে শুক্রাণু বেচাকেনার ব্যাপারে গত পাঁচ বছরে কেউ পু’লিশের কাছে উদ্বেগ প্র’কাশ করেছে এমন কোনো নজিরও নেই। যা বিবিসি ওই দেশের পু’লিশের কাছে খোঁ’জ করে দেখেছে। আম’রা লোকজনকে শুক্রাণু দান নিয়ে আলোচনা ক’রতে দিয়ে থাকি ফেসবুকে। কিন্তু স্থানীয় আ’ইন ভঙ্গ করে এমন যে কোনও কনটেন্ট সরিয়ে ফেলতে আম’রা আ’ইন প্রয়োগকারী সংস্থার সাথে কাজ করি বলে জা’নিয়েছেন ফেসবুকের একজন মুখপাত্র।