ঘরে বাইরে চাপের মুখে পড়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা, হল খোলা ইত্যাদি নিয়ে ছাত্র আন্দোলনের আশঙ্কা করছে সরকার। আর এই আশঙ্কায় আওয়ামী লীগের নেতারা সমালোচনার তীর ছুঁড়ছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির দিকে। আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন, শিক্ষা নিয়ে এরকম দৈত সিদ্ধান্ত, সিদ্ধান্তহীনতা, স্থবীরতা সরকারকে সমালোচিত করবে এবং এটি সঠিক হচ্ছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নেতা বলছেন যে, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় এতদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে নি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার একটি উপায় বা উদ্ভাবনী চিন্তা থাকা দরকার। এ ব্যাপারে যে রকম উদ্যোগ নেয়া উচিৎ ছিলো শিক্ষামন্ত্রী সেটা নিতে পারেন নি। অবশ্য আওয়ামী লীগের কোনো কোনো নেতা মনে করছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়টি শুধু শিক্ষামন্ত্রীর একক বিষয় নয়। প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে জেনে বুঝেই শিক্ষামন্ত্রীকে নির্দেশনা দিচ্ছেন। আর সেই জন্যই হয়ত শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে বিলম্ব করছেন।
আওয়ামী লীগের নেতারা ডা. দীপু মনির ভূমিকা এবং কার্যক্রম নিয়ে বিভক্ত মতামত দিলেও দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা সমালোচনা করছেন শিক্ষামন্ত্রীর। তারা মনে করছেন যে, একজন মন্ত্রীকে কেনো সব সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে এবং তিনি কেনো মাঠের বাস্তবতা প্রধানমন্ত্রীকে বোঝাবেন না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু হবে কিনা এই নিয়ে ডা. দীপু মনি দৃশ্যমান কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন সেটি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আওয়ামী লীগের নেতারা।
করোনার প্রকোপ বাংলাদেশে এখন প্রায় কমে এসেছে। এখন বাংলাদেশের সবকিছুই খুলে দেয়া হয়েছে। ডিস্কো, বার, জনসভা, পথসভা, বিয়ের অনুষ্ঠান, বাজার, হাট ইত্যাদি সবকিছু যখন খুলে দেয়া হয়েছে। কোথাও যখন সামাজিক দুরুত্বের বালাই নেই তখন কেনো শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে এমন প্রশ্ন তুলেছেন দেশের শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তারা বলছেন যে, বাচ্চাদের স্কুল সপ্তাহে অন্তত একদিন হলেও খুলে দেয়া উচিৎ। একজন শিক্ষাবিদ বলেছেন, শিশুরা এখন বাজারে যাচ্ছেন, পার্কে যাচ্ছেন, বিয়ের অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন সেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গেলে অসুবিধা কোথায় ?
একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা যারা শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে কাজ করে তাদের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, গত এক বছরে যে শিক্ষার কার্যক্রম পিছিয়ে গেছে সেটি পুরো দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ২৫ বছর পিছিয়ে দিয়েছে। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এই সময়ে যেভাবে উদ্যোগী এবং সাহসী ভূমিকা নেয়া উচিৎ ছিলো সেটি নিতে পারেন নি বলেই অনেকে মনে করেন। এমনকি আওয়ামী লীগের মন্ত্রীসভার অনেক সদস্য মনে করেন, শিক্ষামন্ত্রীর কাজ স্ববিরোধী এবং দ্বিমুখী। কারণ তিনি প্রথমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পরীক্ষা নেয়ার জন্য অনুমোদন দিলেন। আবার সেই পরীক্ষাগুলো স্থগীত করা হলো। এখন আবার চাপের মুখে তিনি পরীক্ষা নিতে চেয়েছেন কিন্তু হল বন্ধ রাখার কথা বলা হচ্ছে।
এ রকম একের পর এক স্ববিরোধী সিদ্ধান্ত সরকারকে একটি বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে ফেলছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। আর এই অবস্থায় শিক্ষামন্ত্রী কি ফর্মুলা নিয়ে আসেন এবং সাম্ভাব্য একটি নতুন আন্দোলন মোকাবিলার জন্য সরকারকে তিনি কি সিদ্ধান্ত দেন সেটি দেখার অপেক্ষায় আছে আওয়ামী লীগ এবং সরকার। কারণ আওয়ামী লীগ সব সময় মনে করে যে, ছাত্র আন্দোলন একটি স্পর্শকাতর বিষয় এবং বাংলাদেশে যতগুলো সরকারের নাজুক পরিস্থিতি হয়েছিল তার পেছনে ছাত্র আন্দোলনের একটি বড় ভূমিকা ছিলো। এবং সরকার আর কিছু চাইলেও কখনো একটি সংঘবদ্ধ ছাত্র আন্দোলন গড়ে উঠুক এটা চায় না। আর এরকম একটি পরিস্থিতিতে সমালোচনার কাঠগড়ায় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
