প্রতিটা উপলক্ষই আমাদের পরম পাওয়া। আম’রা নিজেদের মতো উদযাপন করি।’ আর এই ভ্যালেন্টাইন’স ডে তে আমা’র তাকে এটাই দেয়ার বলতে বলতে আপনের কপালে চুম্বন একে দেন আশিক।
আপন ঢাকার একটি এলাকার হিজড়াদের নেতা। তার স’ঙ্গে ব্যবসায়ী আশিক অব্বাসের প্রে’মের স’ম্পর্ক প্রায় ১৩ বছর ধ’রে।
আপন জা’নান, ‘আমাদের তৃতীয় লি’ঙ্গের মানুষ যেটা পায় না, সেটা আমি ওর কাছ থেকে পেয়েছি। এবং তার বিনিময়ে যে কোনও স্বার্থ থাকতে পারে, তাও আমি আজ পর্যন্ত দেখিনি।’
আশিক ও আপন দুজনের প্রথম দেখা পথের ধারে। প্রথম থেকেই আপনের প্রতি দু’র্বলতা তৈরি হয় ব্যবসায়ী আশিকের।
সেই অ’ভিজ্ঞতা তুলে ধ’রে আশিক জা’নান, ‘আমি দেখলাম দু’জন মানুষ আসতেছে। দুইটা মানুষ বলতে তারা, আমি দুর থেকে বুঝতে পারলাম যে, এরকম হিজড়া যে বলে যাদেরকে, এরকম কেউ আসতেছে। কোনও নারীও না কোনও পুরুষও না, এরকমটা মনে হলো দূ’র থেকে আরকি।’
তিনি আরও জা’নান, ‘সামনে আসার পর আমি কেন জানি, ওই ভাপা পিঠাটা খাচ্ছি যে ওইভাবে ভেঙ্গে ধ’রা ভাপা পিঠার একটি টুকরো। উনি আমা’র সামনাসামনি আসার পরে আমি ভাপা পিঠার টুকরোটা ভে’ঙে আমি উনার মুখের সামনে ধ’রলাম। উনি হা করে নিয়ে নিলেন। আমি নিজেও কিছু সময়ের জন্য হতভম্ব হয়ে গেলেও আমা’র কাছে জিনিসটা ফিলিংসই মনে হলো। খুব ভালো লাগলো। আমা’র অন্তরে জানি কেমন লাগলো।’
এরপর ব’ন্ধুত্ব থেকে প্রে’ম। শুরুর দিকে ওই স’ম্পর্ক নিয়ে দোটানা ছিল দু’জনের মধ্যেই।
‘এদের স’ম্পর্কে তো আমা’র কোনো ধ’রণের অ’ভিজ্ঞতা ছিল না। তো হিজড়ারা কেমন হয়, সে বিষয়ে আত’ঙ্ক ছিল আমা’র মধ্যে।’ কথাগুলো বলছিলেন আশিক।
এসময় আপন বলে উঠেন, ‘ভি’তর ভি’তর ভ’য় পাচ্ছিলাম আমিও। যে এত সুন্দর হিজড়া থাকতে, আমি তো দে’খতে এতটা ভালো ছিলাম না। তো আমি তো, এত সুন্দর একটা ছে’লে, ওর শিক্ষাগত যোগ্যতা ভালো, ও ভালো একটা ফ্যামিলির ছে’লে, তো ও কেন আমা’র পিছনে।’
পরে আশিক আব্বাসের পরিবারের সদস্যদের সাথে আপনের পরিচয় হয়। এরপর পারিবারিকভাবে বিয়ের অনুষ্ঠানও করেন তারা। এর কিছুদিন পর আ’ইনিভাবেও তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান হয়।
কয়েকজন হিজড়ার স’ঙ্গে পরিবারের সদস্যের মতো বসবাস করেন আশিক আর আপন। আপনের চাওয়া, আশিক যেন ভবিষ্যতে আবার বিয়ে করেন।
আপন বলেন, ‘আমা’র ধীরে ধীরে বয়স হচ্ছে। ওরও (স্বামী আশিক) বয়স হচ্ছে। ও আরেকটু স্বাবলম্বী হলে আমি ওকে বিয়ে করাবো, এটা আমা’র স্বপ্ন। আমি ওর কোলে একটা ফুটফুটে সন্তান দে’খতে চাই। এটা আমা’র স্বপ্ন।’
তবে আশিকের সকল চাওয়া পাওয়া তার জীবনসঙ্গী আপনকে ঘিরেই।
আশিক জা’নান, ‘আম’রা একটা বাচ্চা এরই মধ্যে পালক (দত্তক) নিয়েছি। তারপরেও আমা’র যদি ওই রকম প্রয়োজন হয়, (পদ্ধতি ব্যবহার করে) ওরও বাচ্চা ধারণ করা সম্ভব।’
সবশেষ আপন জা’নান, ‘এভাবে আমাদের জীবনটা শুরু হলো, এখনও আছে। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা, যদি কোনও বা’ধাবি’ঘ্ন তা না আছে একস’ঙ্গে ই থাকবো।’
