পেঁয়াজে’র বীজ চাষ করে আত্মনির্ভরশীল তো বটেই বরং অনন্য উদাহরণ স্থাপন ক’রেছেন বাংলাদেশের ফরিদপুর জে’লার সাহিদা বেগম। গণমাধ্যমের স’ঙ্গে আলাপকালে তিনি জা’নান, প্রায় ১৮-১৯ বছর ধ’রে পেঁয়াজে’র বীজে’র আবাদ করছেন। চলতি বছর প্রায় ২০০ মণ পেঁয়াজে’র বীজ বিক্রি ক’রেছেন। মৌসুমে এই বীজ মণ প্রতি ২ লাখ টাকা করে দাম পেয়েছেন।
সাহিদা বলেন, এ বছর এরই মধ্যে বীজ উৎপাদনের কাজ শুরু হয়ে গেছে। বাছাই করার পর পেঁয়াজে’র বাল্ব জমিতে লা’গাতে মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কাজ করছে ১২ জন শ্রমিক। তিনি উল্লেখ করেন, বীজ উৎপাদনের জন্য যে পেঁয়াজ এখন লা’গানো হচ্ছে তার ফলন আসবে আগামী এপ্রিল-মে মাসে।
সাহিদা বলেন, কৃষক পরিবারের বউ হওয়ার কারণে আগে থেকেই নানা কৃষিকাজে’র সাথে পরিচয় ছিল। আমা’র শ্বশুর মূলত পেঁয়াজে’র বীজ উৎপাদনের আগ্রহী ছিলেন। অনেকটা শখের বশেই এই চাষ শুরু করা।
তিনি জা’নান, ২০০৪ সালে দ্বিতীয় সন্তান জ’ন্মের আগে ২০ শতক জমিতে পেঁয়াজে’র বীজ চাষ করেন। সে বছর মাত্র দুই মন বীজ উৎপাদিত হয়েছিল। সেগুলো বিক্রি করে পেয়েছিলেন ৮০ হাজার টাকা। পরের বছর আরো বেশি পরিমাণ জমিতে পেয়াজে’র চাষ ক’রতে শুরু করেন। সে বছর পান ১৩ মণ বীজ।
সাহিদা বলেন, বীজ বিক্রি করে দেখলাম যে আমি ভালই লাভবান। পরের বছর আরো জমি বাড়াইলাম। ৩২ মণ বীজ উঠলো। এভাবেই আমা’র ওঠা। এর পর আর থেমে থাকেননি। গত বছর ১৫ একর আর চলতি বছর ৩০ একর জমিতে পেঁয়াজে’র বীজে’র চাষ করেছিলাম। ঘরে তুলেছিলাম ২০০ মন বীজ।
তিনি জা’নান, আগের তুলনায় এখন অনেক বেশি জমিতে পেঁয়াজে’র বীজে’র চাষ করলেও অনেক সময় চাহি’দা পূরণ ক’রতে পারেন না । ফরিদপুর জে’লার স্থানীয় কৃষক তো বটেই, পুরো বাংলাদেশে তারা বীজ সরবরাহ করে থাকেন।
কৃষি তথ্য সার্ভিসের তথ্য বলছে, চলতি মৌসুমে পেঁয়াজে’র বীজ বিক্রি হয়েছে ৫-৬ হাজার টাকা কেজি দরে। সূত্র: বিবিসি বাংলা
