২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশে শতভাগ বিদ্যুতায়ন হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মুজিববর্ষে গৃহহীণদের জন্য গৃহনি’র্মাণ প্রকল্পে অ’তিরিক্ত ৫০ হাজার ঘর করে দেয়ার জন্য তিনি আরো ১ হাজার কোটি টাকা ছাড় করিয়েছেন। খবর বাসসের।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আজকে এই মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে আরো অ’তিরিক্ত ৫০ হাজার ঘর নি’র্মাণ করার জন্য ১ হাজার কোটি টাকা ছাড় করেছি। আম’রা আরো এক লাখ ঘর তৈরী করে দিচ্ছি।’

পিএমও সূত্র মতে, ৮ লাখ পরিবারকে ঘর নি’র্মাণ করে দেয়ার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ৭০ হাজার পরিবারকে ঘর-বাড়ি নি’র্মাণ করে দেয়া হয়েছে। আজ আরো এক লাখ পরিবারকে জমিসহ ঘর করে দেয়ার জন্য এক হাজার কোটি টাকা ছাড় করা হলো।

তাঁর এই পদক্ষে’প স’ম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আম’রা সার্ভে করে দেখেছি একটা মানুষও যাতে দেশে গৃহহীন না থাকে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ অ’পরাহ্ণে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (সিসিসি) নবনির্বাচিত মেয়র ও কউন্সিলরদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান অ’তিথির ভাষণে একথা বলেন।

এদিন রাজধানীর ওসমানী স্মৃ’তি মি’লনায়তনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং কাউন্সিলরদের শপথ অনুষ্ঠান হয়। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যু’ক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী নিজ নিজ এলাকায় গৃহহীনদের তালিকা প্রণয়নের আহবান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘এলাকায় দেখবেন কোন লোক গৃহহীণ আছে কিনা, আপনারা স’ঙ্গে স’ঙ্গে পদক্ষে’প নেবেন, আম’রা কিন্তু ঘর করে দেব। একটি মানুষ গৃহহীণ থাকবেনা, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ আম’রা গড়ে তুলবো ইনশাল্লাহ।’

তিনি বলেন, ‘২০২০ সালে মুজিববর্ষ থেকে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ২০২১, ডিসেম্বর পর্যন্ত আম’রা সময় নিয়েছি এবং সেই সময়ের মধ্যে আম’রা চাই বাংলাদেশের প্রতিটি গৃহহীন-ভূমিহীন মানুষ ঘর পাবে, তাঁদের ঠিকানা পাবে। বাংলাদেশে শতভাগ বিদ্যুতায়ন হবে।’

যেসব জায়গায় গ্রীড লাইন রয়েছে সেখানে শতভাগ বিদ্যুতায়ন ইতোমধ্যে শেষ হলেও যেসব জায়গা দুর্গম হওয়ায় গ্রীড লাইন নেয়া সম্ভব নয় সেসব জায়গা সোলার প্যানেল এবং সাবমেরিন কেবলের সহায়তায় তাঁর সরকার বিদ্যুৎ পৌঁছে দিচ্ছে, বলেন তিনি।

জনপ্রতিনিধিদেরকে কোভিড ভ্যাকসিন প্রদানে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার আহবান জা’নানোর পাশাপাশি স্বা’স্থ্যবিধি মেনে চলার আহবান পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভ্যাকসিন নিলেও মাস্ক পরে থাকতে হবে, হাত ধুতে হবে এবং স্বা’স্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। নিজে’র পাশাপাশি অন্যের সুর’ক্ষা নি’শ্চিত করার জন্যই এটা ক’রতে হবে।’

নিয়ম অনুযায়ী মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীর শপথ পড়ান প্রধানমন্ত্রী। এরপর কাউন্সিলরদের শপথ পড়ান স্থা’নীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইস’লাম। স্থা’নীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলালুদ্দীন আহম’দ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

গত ২৭ জানুয়ারী চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (সিসিসি) নির্বাচনে নির্বাচিত চট্টলার মেয়র, ৫৫ জন কাউন্সিলর এবং সংরক্ষিত ১৪ আসনের মহিলা কাউন্সিলরগণ এদিন শপথ গ্রহণ করেন।

শেখ হাসিনা নবনির্বাচিত মেয়র এবং কমি’শনারদের অ’ভিনন্দন জা’নিয়ে বলেন, ‘জনপ্রতিনিধি হিসেবে দেশের মানুষের ক’ল্যাণ করা, তাঁদের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করা-এটাই যেন লক্ষ্য হয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহান মু’ক্তিযু’দ্ধে লাখো শহীদের র’ক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতার সুফল যেন বাংলাদেশের ঘরে ঘরে পেতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আপনারা কাজ করবেন, এটাই প্রত্যাশা।’

তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের কাছে আপনারা যে ওয়াদা দিয়ে এসেছেন আর আজকে যে শপথ নিলেন সেটা মা’থায় রেখেই আপনারা মানুষের জন্য কাজ করবেন।

শেখ হাসিনা বলেন,‘নির্বাচন একবারেই শেষ হয়ে যায়না। মানুষের আস্থা ও বিশ^াস অর্জন ক’রতে পারলে বারবার নির্বাচিত হওয়া যায়, অন্য কিছু লাগেনা-এটাই আম’রা বিশ^াস করি।’

তিনি আরো বলেন, আপনারা আজকে শপথ নিয়ে নিজ নিজ এলাকার মানুষের কাছে যাবেন এবং সার্বিকভাবে যেসব উন্নয়নের ক’র্মসূচিগুলো আম’রা হাতে নিয়েছি যথাযথভাবে সেগুলো যেন বাস্তবায়িত হয়। এখানে কোনরকম ঘাটতি যেন দেখা না দেয় এবং যেন দ্রুত হয়- সেটাই আম’রা চাই।

প্রধানমন্ত্রী করো’নার মধ্যে সাহস করে ভোট’কে’ন্দ্রে আসায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভোটারদের অ’ভিনন্দন জা’নান এবং বলেন তাঁর সরকার চট্টগ্রমের উন্নয়নে যেসব প’রিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে তার সুফল ইতোমধ্যে মানুষ পেতে শুরু করেছে।

তিনি মেয়র ও কাউন্সিলরদের অ’ভিনন্দন জা’নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন, তাঁরা যেহেতু জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন, তাই জনগণের সেবাতেই নিজেদেরকে নিয়োজিত রাখবেন।

এই করো’নাভাই’রাসের সময়ও যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে সেখানে ভোটাররা যারা ভোট দিতে গেছেন এবং যারা নির্বাচন পরিচালনায় সম্পৃক্ত ছিলেন তাঁদের সকলকে প্রধানমন্ত্রী ধন্যবাদ জা’নান।

তিনি বলেন, নিজে’রা খালি চোখে দেখলেই বুঝবেন পারবেন ’৯৬ সালের আগে বা ২০০৯ সালের আগে চট্টগ্রাম কেমন ছিল, আর এখন কেমন। কেবল চট্টগ্রাম নয় সারা বাংলাদেশেই তাঁর সরকার উন্নয়নের কাজ করে যাচ্ছে।

‘দেশের ক’ল্যাণে কাজ করলে করা যায়, সেটা আম’রা মনেপ্রা’ণে বিশ^াস করি,’ বলেন তিনি।

কোন দেশের উন্নয়নে সবথেকে গু’রুত্ব পূর্ণ যে জনসম’র্থন সেটা জনগণের কাছ থেকে পাওয়ায় তিনি দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, এখানে জনগণের সম’র্থনটা হচ্ছে সবথেকে গু’রুত্ব পূর্ণ, যেটা আম’রা পাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকারের পঞ্চবার্ষিক, ১০ ও ২০ বছর মেয়াদি প্রেক্ষিত এবং ডেল্টা মহাপ’রিকল্পনা ২১০০ বাস্তবায়নের মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশ হবে উন্নত, সমৃদ্ধ এক দেশ এবং সেই প’রিকল্পনাটাই দিয়ে গে’লেন।

করো’নাকালিন অর্থনীতির স্থবিরতা কা’টাতে তাঁর সরকারের দেয়া ২৩ দ’ফা প্রণোদনার প্রসংগ টেনে তিনি বলেন, ‘অর্থনীতি যেন স্থবির না হয়ে যায় সেজন্য আমি প্রণোদনা দিয়েছি। যেখানে কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষ, শিক্ষক থেকে শুরু করে সকলকে দিয়েছি, যতটুক সাধে কুলিয়েছে। কাউকেই আমি বাদ দেইনি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের জীবনের স্থবিরতা দূ’র ক’রতেই তাঁর সরকারের এহেন পদক্ষে’প। সেইস’ঙ্গে প্রণোদণা ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল সহ অন্যান্য খাত থেকেও তিনি করো’নাকালিন জনগণকে সহযোগিতা ক’রেছেন।

তিনি আরো জা’নান, ম’সজিদ, মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা সহ সকল ধ’র্মীয় উপসনালয়, মাদ্রাসায় এমনকি নন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরাও সহযোগিতা পেয়েছেন।