টাঙ্গাইলের মাহমুদা নাসরিন। থাকতেন গাজীপুরে। সুখের ভবিষ্যৎ গড়ার স্ব’প্ন বু’নেছিলেন ২০, ৫০, ১০০ টাকার নোটে।আর সেই স্ব’প্ন জমা রেখেছিলেন ব্যাংকে। ২৫ বছরের জমানো সেই স্বপ্ন ব্যাংক থেকে উ;ধা;ও হয়ে গেছে। আকাশ নামে
কেউ একজন চে’ক জা’ল করে তুলে নিয়ে গেছে মাহমুদার জমানো সব টা’কা।মাসখানেক আগে ঘ;টনাটি ঘ’টেছে সাভা’রের আশুলিয়ার প্রাইম ব্যাংকের আশুলিয়ার গণকবাড়ি শাখায়।টাকার পরিমাণ দুই লাখ। তবে মাহমুদার কাছে এর
অংক বিশাল। ১০ বছর পোশাক কারখানায় চাকরি জীবনের উ’দ্বৃত্ত,সবজি বিক্রি করে পাওয়া টাকা, আর শখ পূরণের জন্য স্বামীর দেয়া টাকা খরচ না করে রেখেছিলেন ব্যাংক;টিতে। গত মাসে চেক বই খুঁ’জে না পেয়ে ব্যাংকে যান মাহমুদা।
গিয়ে দেখেন তার অ্যাকাউন্ট থেকে দুই লাখ টাকা ‘আকাশ’ নামে এক ব্য’ক্তি স্বাক্ষর জা;ল করে তুলে নিয়ে গেছেন। তবে তাকে চেনেন না মাহমুদা, কোনো চে’কও দেননি।মাহমুদা বলেন, গ্রাহক নিজে উপস্থিত না থাকলে ৩০ হাজার টাকা তুললেও ব্যাংক থেকে কল দেয়া হয়। আর দুই
লাখ টাকা তুলতে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দিতে হয়। কিন্তু প্রাইম ব্যাংক কিছুই করেনি। ব্যাংকের ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অফিসার আনোয়ার হোসেনের কাছে এর জবাব চাইলে তিনি উল্টো আমাকে অ;পমা;ন ক’রেছেন।প্রাইম
ব্যাংক থেকে চে’ক জা;ল করে টাকা তুলে নেয়ার ঘ’টনায় আশুলিয়া থা’নায় অ;ভিযো;গ করেন ভু’ক্তভো’গী মাহমুদা নাসরিনতিনি আরো বলেন, ১৪ বছর বয়সে আমা’র বি’য়ে হয়।
১৯৯৬ সালে টাঙ্গাইল থেকে স্বামী রেজাউল করিমের স’ঙ্গে ঢাকায় আসি। আমি ই’পিজে’ডের গার্মেন্টসে চাকরি নেই। আর স্বামী ছোট্ট একটা কসমেটিকসের দোকান দেয়।
তখন থেকেই অনেক ক;ষ্ট করেছি। শ্রীপুরের খান কলোনি থেকে ৪০-৪৫ মিনিটের পথ হেটে গার্মেন্টসে এসেছি। গাড়ি ভাড়া, টিফিনের টাকা, অফিসের ই’নক্রি’মেন্ট, ওভা’রটাইমের টাকা খরচ না করে জমিয়েছি। স্বামী কিছু কিনতে দিলে
সেটাও জমিয়ে রেখেছি।মাহমুদা বলেন, প্রতি মাসে ২০০-৫০০ টাকা স্বামীকে না জা’নিয়ে পোস্ট অফিসে রেখেছি। আমা’র দুই মে’য়ে ও এক ছে’লে।
ওদের দেখাশোনা করার জন্য ১০ বছর পর চাকরি করার পর ছে’ড়ে দেই। ২০১২ সালে পোস্ট অফিসে জমানো ৫০ হাজার টাকা তুলে গ্রামে মায়ের কাছে পাঠাই।মা কিছু জমি বর্গা নিয়ে চাষ করতো। ছাগল কিনে দিয়েছিলাম সেগুলা মা-ই পালতো। চাকরি ছাড়ার পর বাড়ির পাশে
মানুষের জমিতে সবজি চাষ করতাম, দর্জির কাজ করতাম। সবজি বিক্রি করা টাকা মাসে মাসে নিজে’র কাছেরেখেছি। ৩-৪ বছর আগে একজনের পরাম’র্শে প্রাইম ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খু’লে ছি।
তখন থেকে বছরে ৮০ হাজার, ৫০ হাজার, ২০ হাজার, ১০ হাজার টাকা করে জমা রাখি। এভাবে সাড়ে তিন লাখ টাকা আমা’র একাউন্টে জমা হয়।তিনি আরো বলেন, ব্যাংকের অফিসার শাহিন ও আনোয়ারের কাছে জানতে চাইলাম- এতগুলো টা’কা দিয়ে দিলেন অথচ আমাকে একবারও কল দিলেন না।
ভোটার আইডি কার্ডও রাখেন নাই। এসব কথা শুনে তারা আমাকে যাচ্ছেতাই বলে। ব্যাংকে উপস্থিত সবার সামনে আমাকে পা;গল প্র’মাণ ক’রতে চায়। যে চেক দিয়ে টাকা তোলা হয়েছে সেটিও আমাকে
দেখাতে পারেনি। পরে ম্যা’নেজা’রের কাছে গিয়ে ওই চেকের ছবি তুলে আনি।এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ব’লিভ’দ্র শাখার প্রাইম ব্যাংকের অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব ব্রাঞ্চ শাহতাব রিজভী ফোনে কথা বলতে রা’জি হননি।
আশুলিয়া থা’না’র প’রিদ’র্শক (ত’দ’ন্ত) জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, অ;ভি;যো’গপত্র পেয়েছি। বিষয়টি সে’নসি’টি’ভ। তাই অধিকতর ত’দ’ন্ত প্রয়োজন। ত’দ’ন্ত করে এ বিষয়ে আ’ই’নি ব্য’ব’স্থা নেয়া হবে। তথ্যসূত্র: বিডি২৪লাইভ
