পায়ে লিখেই স্বপ্নপূরণের পথে রাবির বিউটি

জীবনে নানা বা’ধা, ঘাত-প্রতিঘাত পেরুতে হয় সব মানুষকেই। কেউ অল্পতে হাল ছে’ড়ে দেন, থেমে যান। কেউ থামেন না। কোনো বা’ধাই দমিয়ে রাখতে পারে না তাদের। সব বা’ধা পেরিয়ে যারা সফল হন, তারাই অদম্য মেধাবী। আর এই সফলতার গল্পগুলো মানুষকে স্বপ্ন দেখায়, হয়ে ওঠে অনেকের অনুপ্রেরণা। তাদেরই একজন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আ’ইন বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী বাসিরাতুন জান্নাত বিউটি।

জ’ন্ম থেকে দুটো হাত নেই তার। আছে শুধু দুটো পা। দুই হাত না থাকায় জ’ন্মের পর দেখেছেন জীবনের ক’ঠিন বাস্তবতা। তারপরও থেমে যাননি তিনি। ইচ্ছে ছিলো ভালোভাবে লেখাপড়া করে মানুষের মতো মানুষ হবেন। ক’ঠিন মনোবল, অদম্য উৎসাহ, প্রবল ইচ্ছাশ’ক্তি আর একনিষ্ঠতা থাকার কারণে তার কাছে কোনো প্রতিব’ন্ধকতা বা’ধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। কেউ তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। পা দিয়ে লিখেই নিজে’র যোগ্যতায় জায়গা করে নিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে।

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজে’লার শিবপুর গ্রামের বায়েজিদ ও রহিমা দম্পতির গরিব ঘরের মেধাবী বিউটি। তার বাবা কৃষক, মা গৃহিণী। পরিবারের পাঁচ সদস্যদের মধ্যে বিউটি সবার ছোট। ছোটোবেলা থেকেই লেখাপড়ার প্রতি প্রচ’ণ্ড আগ্রহী ছিলেন। হাত না থাকলেও দুই পায়ের জো’রে (পা দিয়ে লিখে) পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি পরীক্ষায় পেয়েছেন জিপিএ-৫। এইচএসসিতে পেয়েছেন ‘এ’ গ্রেড। এখন পড়ছেন দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে বিনোদপুরের মির্জাপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকেন বিউটি ও তার মা। করো’না ভা’ইরাসের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ব’ন্ধ থাকায় এখন বাড়িতে অবস্থা করছেন তারা। বিউটির মা রহিমা বেগম বলেন, আমা’র মেয়ের স’মস্যা থাকার কারণে সব সময় মেয়ের সাথেই থাকতে হয়। সকালে মেয়েকে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে যাই স’ঙ্গে করে আবার নিয়ে আসি। বিশ্ববিদ্যালয় ব’ন্ধ থাকায় এখন বাসা ছে’ড়ে দিয়ে নিজ বাড়িতেই থাকছি। প্রথমে মেয়েকে নিয়ে অনেক চিন্তিত ছিলাম। এখন স্বপ্ন দেখছি, আমা’র মেয়ে একদিন জজ হবে।

ছোটোবেলায় শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও বিউটি এখন স্বপ্ন দেখেন আ’ইনজীবী হওয়ার। তিনি বলেন, এসএসসি শেষ করার পর স্বপ্ন দেখতাম শিক্ষক হবো। এখন যেহেতু আ’ইন বিভাগে পড়ছি সে সুবাধে দেশের স্বনামধন্য একজন আ’ইনজীবী হওয়ার ইচ্ছেতো রয়েছেই। ভবিষ্যতে কি করবো বা কি হবো এখনও সেভাবে ভাবিনি। এখনো মনে হয় জজ হবো, কখনোতো অন্যকিছু। তবে এমন কিছু করবো যার মাধ্যমে মানুষের সেবা ক’রতে পারবো।

বিউটি আরো বলেন, আমা’র এতদূ’র আসার পেছনে সব সময় পরিবার সাপোর্ট দিয়েছে। তারা যদি আমাকে সহযোগিতা না করতো তাহলে আজকের অব’স্থানে আসতে পারতাম না। সেই ছোটোবেলায় স্কুলজীবন থেকেই শিক্ষক, ব’ন্ধুদের অনেক সাহায্য পেয়েছি। পরিবার, প্রতিবেশী সবাই আমাকে অনেক সাপোর্ট করছে। সবার ভালোবাসা ও সহযোগিতায় আমি এতোদূ’র আসতে পেরেছি।

যদি থাকে অদম্য সাধনা আর দৃঢ় ইচ্ছে শ’ক্তি তবে কোনো বা’ধায় বা’ধা নয়। অসম্ভবকেই সম্ভব করা যায় মনের শ’ক্তি আর অধ্যাবসায় দ্বারা। তাই করে দেখিয়েছেন রাবির এই অদম্য মেধাবী। দুই হাত ছাড়া বিউটি কখনো হননি কারো দয়ার পাত্র। নিত্যদিনের কাজক’র্মও করেন আট-দশজনের মতোই। তরকারি কাটা, পেঁয়াজ কাটা, রান্না করা, গৃহস্থালীর প্রায় সব কাজই ক’রতে পারে অনায়াসে।

তার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আ’ইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক হাসিবুল আলম প্রধান ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, সাংবাদিক ও বিভাগের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে তার স’স্পর্কে জে’নেছি। করো’না র কারণে বিশ্ববিদ্যালয় ব’ন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরাসরি তাকে দেখার সুযোগ হয়নি। সে আমাদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। হাজার প্রতিব’ন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও সে পিছিয়ে যায়নি। প্রতিব’ন্ধী হলেই যে কিছু করা যায় না, সে প্রথাকে সে ভে’ঙে দিয়েছে। আমাদের বিভাগে ভর্তি হয়েছে তার জন্য আম’রা গর্বিত। বিভাগের পক্ষ থেকে তার জন্য অবশ্যই অনেক কিছু করার আছে। বিভাগের পক্ষ থেকে যতটুকু সহযোগিতা করা যায় সে চেষ্টা আম’রা সব সময় করবো।