বর-কনে কেউই পারেনা কথা বলতে, মাথা ঝুঁকিয়ে দিলেন বিয়েতে সম্মতি

গ্রাম বাংলার আট দশটা বিয়ের মতই দিনাজপুরে উভ’য় পরিবারের সম্মতি আর বিয়ের নানা আয়োজনে দুই বাকপ্রতিবন্ধি বর-কনের বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে। তবে দুই জনকে দেখে বুঝার উপায় নেই যে বর আর কনে বাকপ্রতিব’ন্ধী।

মা’থায় টুপি আর বরের সাজে শুক্রবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাকপ্র’তিব’ন্ধী বরসহ অর্ধশতাধিক বরযাত্রী নিয়ে দিনাজপুর পৌর এলাকার ১ নং ওয়ার্ডের লালবাগ বাকপ্র’তিব’ন্ধী কনের বাড়িতে পৌছে। মা’থায় টিকলি পড়ে কনের সাজে সেজিয়ে আগ থেকেই বসে ছিলো কনে।

এরপর আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে দুই বাকপ্রতিব’ন্ধীর মধ্যে বিয়ে বন্ধানে আবদ্ধ করা হয়। পরে রাত ৮ টার দিকে কনেকে সাথে নিয়ে বর তার নিজ বাড়িতে ফিরে যায়।বাকপ্র’তিব’ন্ধী কনের নাম শিল্পী আক্তার (২০) ।

সে দিনাজপুর পৌর এলাকার লালবাগ মহল্লার মৃ’ত সিদ্দিকের মে’য়ে। আর বাকপ্রতিব’ন্ধী বরের নাম কাইয়ুম ইস’লাম (২২) সে দিনাজপুর জে’লার বিরল উপজে’লার মাঝাডাঙ্গা গ্রামের শহিদুল ইস’লামের ছে’লে। বর ও কনের বাড়ি তিন কিলোমিটার দূরে হওয়ায় ১০ টি অটো রিকশা যোগে কনের বাড়িকে বরযাত্রী পৌছে যায়।

অর্ধশতাধিক বরযাত্রীদের স্বাদরে গ্রহণ শেষে বরের নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়ায় যায়। এরপর যথাযথা সম্মানের সহিত অ’তিথিদের আপ্যায়নের পর বিবাহের দেনমহর হিসেবে ৮০ হাজার টাকা ধার্য করিয়া বিয়ে কার্য সুসম্পন্ন করা হয়। বর-কনে বাকপ্রতিব’ন্ধী হলেও বিয়ের রেজিষ্ট্রারী বহিতে বর-কনে কলম দিয়ে স্বাক্ষর করেছে।

এই প্রথম দিনাজপুরে দুই বাকপ্রতিব’ন্ধীর বিয়ে দেখার জন্য কৌতুহলি এলাকাবাসী, বরযাত্রী ও কাজিসহ শতাধিক লোকের উপস্থিতিতে বাকপ্রতিবন্ধি বর-কনে হওয়ায় বর-কনে মা’থা ঝুঁ’কি’য়ে ঝুঁ’কি’য়ে বিয়ের কবুল সমান সম্মতি প্রকাশ করেছেন। অন্যান্য বিয়ের মত ৪ জন সাক্ষীর উপস্থিতিতে এ বিবাহ সম্পন্ন করেন দক্ষিণ লালবাগ জামে ম’সজিদের সাবেক ই’মাম তো’জ্জাম্মেল হক।

এই দুই বাকপ্র’তিব’ন্ধীর বিয়ে উপলক্ষ্যে লাল এলাকার মানুষের মনে খুশি ও কৌতুহলী মনোভাবের আ’মেজ লক্ষ করা গেছে। বিয়ে বাড়িতে গ্রামের পাশপাশের সকল নারী পুরুষ যে যা পারে সহযোগিতা করেছে। এলাকাবাসীরাও তাদের স’ন্তু’ষ্টি প্রকাশ করে বর-কনেকে দোয়া-আর্শি’বাদ প্রদান করেছে।

বিবাহের কাজী ও ই’মাম তোজ্জাম্মেল হক বলেন, এ বিয়েতে ছে’লে ও মে’য়ে দুজনই বাকপ্রতিপ্রন্ধি। আমি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি এ বিবাহে উপস্থিত থাকতে পেরে। আল্লাহর অশেষ দোয়ায় এ জুটিকে তিনি মিলিয়ে দিয়েছেন।আমি আল্লাহ কাছে সারাজীবন প্রার্থনা করবো, তারা যেন সুখে শান্তিতে বাকি জীবন অ’তিবাহিত করেন।

বরের পরিবারে তার দুইভাই ও বাবা মা নিয়ে ৫ সদস্য বিশিষ্ট পরিবার। ছে’লে জীবি’কার তাগিদে স্থানীয় বেকারিতে কর্ম’রত আছে এবং কনের পরিবারে রয়েছেন দুই ভাই ও এক বোন, মা ও তাদের বৃদ্ধা দাদি সহ ৬ সদস্য বিশিষ্ট।

কনের মা রাণী বেগম জানান, লোকের বাড়িতে কাজ করে কোন রকমে টেনেটুনে সংসার খরচ চালাই। এলাকাবাসীর সহযোগীতা নিয়ে এ বিয়ে সম্পন্ন করেছি। তাদের কাছে আমি সারাজীবন ঋণি হয়ে থাকবো। আমি আশা করি আমা’র মে’য়ে ও জামাই যেন সা’রাজী’বন সুখে থাকেন।