আর মাত্র ছয়দিন পর কোরবানি ঈদ হলেও এখনো জমেনি নওগাঁর ধামইরহাটের পশুর হাট। ক্রেতা সমাগম কম থাকায় গরুর কাঙ্ক্ষিত দাম উঠছে না। ফলে হতাশ খামারি ও স্থানীয় ব্যাপারিরা। তবে হাটে আসা ক্রেতারা বলছেন গরুর দাম তাদের নাগালের মধ্যেই রয়েছে। হাটে বেচাকেনা তুলনামূলক কম থাকায় লোকসানের শংকায় ভুগছেন ইজারাদাররা।
প্রতি সপ্তাহে রবিবার ধামইরহাট উপজেলার প্রাণ কেন্দ্রে বসে উপজেলার সর্ববৃহৎ পশুর হাট। কোরবানি ঈদের আগে বিভিন্ন জেলার ব্যাপারিসহ কোরবানি দিতে ইচ্ছুক ক্রেতাদের সমাগমে জমজমাট হয়ে ওঠে এ হাট। কিন্তু করোনার কারণে এ বছর হাটের চিত্র ঠিক উল্টো। হাটে যেসব খামারী ও স্থানীয় ব্যাপারী গরু নিয়ে আসছেন তারা গরুর কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না। ফলে হতাশায় ভুগছেন তারা।
এবার গরুর দাম নাগালের মধ্যে থাকায় গরু কিনতে আসা ক্রেতারা খুশি। গরু কিনতে আসা আব্দুল গফুর বলেন, গরু কিনতে এসে হাটে দালালদের অত্যাচারে ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছি। তবুও আর কী করার। দামে দরে হলে একটা গরু কিনবো।
স্থানীয় গরু খামারি আবু মুসা বলেন, লোকবল দিয়ে গরুর পরিচর্চা ও প্রতিদিন খাবারের যেভাবে দাম বাড়ছে। সেই অনুপাতে বাজারে গরুর দাম অনেক কম। বাজারে বড় কোনো ক্রেতা নেই। ঢাকা চিটাগাং থেকে যেসব ক্রেতা আসে করোনার জন্য এবার তারাও আসেনি। ফলে গরুর দাম পাবো কিনা তা নিয়ে চিন্তায় আছি।
অন্য খামারি মোছাদ্দেকুর রহমান পিন্টু বলেন, এবার ২০টি মহিস ও তিনটি বিদেশি গরু কোরবানির জন্য মোটাতাজা করেছি। কিন্তু বাজারে এসে দেখি কোরবানি করার মতো লোক খুব কম। বাইরের তেমন ক্রেতা আসেনি। গরুর যে দাম বলছে আগামীতে আর কেউ গরু মোটাতাজা করবে না। এবার দেশের বাইরে থেকে গরু এলে আমাদের পথে বসতে হবে।
এ বিষয়ে হাট ইজারাদার মেহেদী হাসান বলেন, এবার করোনাকালে হাটে গরুর আমদানি ও ক্রেতা দুটোই কম। আশা করি কিছুক্ষণের মধ্যে ক্রেতা বিক্রেতার সমাগম ঘটবে বেচাকেনাও বারবে।
ওসি আব্দুল মমিন বলেন, করোনাকালে কোরবানির হাটে নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো ছাড় নেই। হাটের তিনটি প্রবেশ মুখে অমাদের টিম কাজ করছে। মাস্ক ছাড়া আমরা ক্রেতা বিক্রেতাদের কাউকেই ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছি না। যাদের মাস্ক নেই তাদেরকে একটিকরে মাস্ক ফ্রী দিচ্ছি। একটি ওয়াচ টাওয়ার করে দিয়েছি সেখানে হাত ধোয়া বাধ্যতা মুলক করা হয়েছে। জাল টাকা ধরার জন্য এটি স্ক্যানার মেশিন বসিয়েছি। জনগণের নিরাপত্তার কথা ভেবে যা যা করা দরকার আমরা তার সব ব্যবস্থা নিয়েছি।
