রিয়ালেই থাকছেন জিদান

লা লিগা নিশ্চিত করেও নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিশ্চিত বার্তা দিতে চাননি। তা নিয়ে সাময়িক জলঘোলা হচ্ছিল। তা হলে কি ট্রফি জিতেও বিদায় নিতে পারেন?

অবশেষে জ়িনেদিন জ়িদানকে নিয়ে জল্পনায় জল ঢেলে দিল রিয়াল মাদ্রিদ। লিগ শেষেই ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেসের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন রিয়াল চাণক্য। দু’পক্ষই রাজি হয়েছে, চুক্তি নবীকরণের জন্য। অর্থাৎ, সামনের বছরেও রামোস-বেনজেমাদের ম্যানেজার হিসেবে জিুজুকেই দেখা যাবে।

রিয়ালে এমনিতে ম্যানেজারদের স্থায়িত্ব বা ভরসা খুব একটা নেই। পেরেসের আমলে একাধিক ম্যানেজার স্বল্প সময় থেকে বিলীন হয়ে গিয়েছেন। জিদানেরও এটি দ্বিতীয় মেয়াদ। প্রথম বার যথেষ্ট সফল হওয়ার পরেও তিনি দায়িত্ব ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। শোনা যায়, দল পরিচালনা নিয়ে একাধিক শর্ত আরোপ করে তবেই তিনি ফেরত এসেছেন। অবশ্যই তিনি জিদান- অন্য কারও অঙ্গুলিহেলনে দল চালাবেন না।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের খবর, এখনও রিয়ালে সকলেই যে জিদানের বন্ধু, এমন নয়। তবে যেভাবে পিছন থেকে এসে লিওনেল মেসিদের বার্সেলোনার মুখের সামনে থেকে তিনি লা লিগা ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছেন, তার পরে পরিবর্তনের ধ্বনি তোলার সাহস কে দেখাবে! মেসিদের বার্সায় কিকে সেতিয়েন যেমন ফুটবলারদের আস্থা হারিয়েছেন, রিয়ালে ঠিক তার উল্টো দৃশ্য। ক্লাবের কর্তাদের যদি অস্বস্তি থাকেও, রিয়ালের ফুটবলারদের একচেটিয়া সমর্থন জিদানের দিকে।

কাঁটা হয়ে বিঁধছেন শুধু গ্যারেথ বেল এবং হামেজ রদ্রিগেস। এই দু’জনকে নিয়মিত ভাবে প্রথম একাদশের বাইরে রেখেছেন রিয়াল ম্যানেজার। ওয়েলসের বেল বা কলম্বিয়ার হামেজ কেউ যে খুব একটা প্রসন্ন নন, তা তাদের অভিব্যক্তিতে পরিষ্কার। তবু ড্রেসিংরুমের নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতা জ়িদানের দিকে। সে সব দেখেই সম্ভবত অধিনায়ক রার্জিও রামোস লা লিগা ট্রফি হাতে তোলার পরেই পেরেস নিজে বলে দেন, ‘জিদান রিয়ালের জন্য বড় আশীর্বাদ।’

৩৪তম লিগ খেতাব জেতার দিনেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল, চুক্তি নবীকরণ হচ্ছে। জ়িজ়ুর নিজের সাবধানি কথাবার্তায় জল্পনার ইঙ্গিত ছিল। তা এখন অতীত। বাকি রয়েছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পরীক্ষা। রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে এখনও দু’বছরের চুক্তি রয়েছে তাঁর। তবে চুক্তি অনুযায়ী কখনওই চলেন না জ়িদানের মতো কিংবদন্তিরা।