নাইকোর বিরুদ্ধে মামলা জয়, ক্ষতিপূরণও পাবে বাংলাদেশ

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে বিস্ফোরণের ঘটনায় কানাডিয়ান বহুজাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানি নাইকোর বিরুদ্ধে করা মামলায় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। এ সংক্রান্ত এক রায়ে বাংলাদেশকে ক্ষতিপূরণ দিতে নাইকোকে নির্দেশ দিয়েছে লন্ডনভিত্তিক সালিশি আদালত ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউট বা ইকসিড।

রবিবার (৩ মে) দুপুরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ নিজ বাসভবন থেকে ডিজিটাল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন। নসরুল হামিদ বলেন, ‘ইকসিডের রায়ের ফলে নাইকোর দাবি করা পাওনা পরিশোধ করতে হবে না বাংলাদেশকে। এছাড়া ব্লক ৯ বা কুমিল্লা বাঙ্গুরায় নাইকোর সম্পতিও বাংলাদেশ নিয়ে নিতে পারবে।’

ছাতকের টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়নে ২০০৩ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি নাইকোর সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান কূপ খননকালে ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন দুই দফায় প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ওই গ্যাসক্ষেত্র ও আশপাশের পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হয় বলে সরকারের প্রাথমিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

এ ঘটনায় কানাডিয়ান কোম্পানিটির কাছে ৭৪৬ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে পেট্রোবাংলা, যা দিতে নাইকো অস্বীকৃতি জানায়। ক্ষতিপূরণ আদায়ে পেট্রোবাংলা নাইকোর বিরুদ্ধে ২০০৭ সালে স্থানীয় নিম্ন আদালতে মামলা করে।

নাইকোর আটকে রাখা অর্থ আদায় এবং ক্ষতিপূরণ না দেয়ার জন্য ২০১০ সালে ইকসিডে দুটি মামলা করে। ২০১৪ সালে এক রায়ে ইকসিড পেট্রোবাংলাকে ফেনী গ্যাসক্ষেত্রের পাওনা পরিশোধ করতে বলে। ২০০৭ সালের নভেম্বর থেকে ২০১০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সরবরাহ করা গ্যাসের দাম হিসেবে ২১৬ কোটি টাকা পাবে নাইকো। এর সঙ্গে ২০০৭ সালের ১৪ মের পরবর্তী সময়ের জন্য নির্ধারিত হারে সুদ পরিশোধ করার নির্দেশও দেয় ইকসিড।

চুক্তি সম্পাদনে দুর্নীতির বিষয়ে ২০১৬ সালের ২৫ মার্চ ইকসিডে একটি অভিযোগ দাখিল করে পেট্রোবাংলা। ২৬ মে ইকসিড নাইকোর দুর্নীতির আরও তথ্য এবং নাইকো-বাপেক্স যৌথ চুক্তি (জেভিএ) ও গ্যাস ক্রয় চুক্তি প্রক্রিয়ায় যুক্ত সবার নামের তালিকা চায়।

গ্যাসক্ষেত্র ইজারা প্রক্রিয়ায় জড়িত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ২৬ জনের তালিকা পেট্রোবাংলা ওই বছরের ১৪ জুন ইকসিডে পাঠায়। এরপর আন্তর্জাতিক আদালত দুর্নীতির আরও তথ্য চেয়ে ২৯ জুলাই আরেকটি নির্দেশনা জারি করলে শুরু হয় বিচার প্রক্রিয়া।