করোনা আক্রান্ত হয়ে সৌদি আরবের মদিনায় মারা গেছেন এক প্রবাসী বাংলাদেশী। গত ২৪ মার্চ তিনি মদিনার আল জাহরা হাসপাতালে মারা যান। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় একটি চিঠি পেয়েছে জেদ্দা কনস্যুলেট উইং থেকে।
সেই চিঠিতে বিস্তারিত সব উল্লেখ আছে। করোনা আক্রান্ত হয়ে সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশীর মৃত্যু ! জানা যায় তাঁর নাম কোরবান । তিনি ঢাকা জেলার সাভারের নাগরকান্দা গ্রামের সাদাপুর পোস্ট অফিসের জনাব রেজাউল করিম ও জনাবা হালিমা বেগমের পুত্র।
সাভার নিবাসী রেজাউল করিমের পুত্র মৃত কুরবান দীর্ঘদিন যাবৎ সৌদি আরব কর্মরত ছিলেন। মৃত্যুর খবরের পর তার দেশের পরিবার পরিজনরা এখন পর্যন্ত জেদ্দা কনস্যুলেটের সঙ্গে কোনরকম যোগাযোগ করেনি বলে কনস্যুলেট জেদ্দা সূত্রে জানা গেছে। কনস্যুল জেনারেল তাই প্রবাসীর মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
Advertisement আশংকার বিষয় হল সৌদি আরবে দিন দিন করোনা রোগী চক্র বৃদ্ধি হারে বেড়েই চলেছে। গত ২৫ মার্চ সৌদি স্বাস্থ্যমন্ত্রনালয়ের মুখপাত্র ডাক্তার মুহাম্মদ আল আবেদ আলী জানান নতুন ১৩৩ জন নতুন রোগী শনাক্ত হবার কথা বলেছিলেন। গতকাল বেশীর ভাগই রিয়াদের ছিল । কেবল রিয়াদ থেকেই ৮৩ জন করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। এছাড়া ১৩ জন হচ্ছে দাম্মামের। ১০ জন জেদ্দার, কাতিফ এবং মদিনাতে ৬ জন করে। ৪ জন পাওয়া গেছে নাজরানে, দুজন করে পাওয়া গেছে আভা এবং আরারে এবং একজন পাওয়া গেছে দাহারান এবং জুহাইলে।
এগুলি ছিল গত ২৫ মার্চ ২০২০ এর হিসাব। এদিকে করোনা বিস্তারে সমগ্র সৌদি আরব জুড়ে কারফিউয়ের হুকুম জাড়ি করেছেন রাজা সালমান। সেই কারফিউয়ের সময়েও এসেছে পরিবর্তন। তবে তা শুধু রিয়াদ, মক্কা ও মদিনায় ক্ষেত্রে। নতুন ঘোষনা অনুযায়ী এই অঞ্চলগুলিতে সন্ধ্যা ৭টা থেকে ভোর ৬টা এর পরিবর্তে এখন দুপুর ৩টা থেকেই কারফিউ শুরু হবে। তবে এই অঞ্চলগুলি বাদে অন্যান্য অঞ্চলে আগের সময় বহাল থাকবে । অর্থাৎ সন্ধ্যা ৭টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত ঐ অঞ্চলগুলিতে কার্ফিউ থাকবে। গত ২৩শে মার্চ থেকে সৌদি আরবে কারফিউ জারি করেন বাদশাহ সালমান।
এই কারফিউ অনুসারে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত ফার্মেসী, সুপারমার্কেট বা বাকালা এবং খাবারের দোকান ছাড়া অন্যান্য সকল দোকানপাট ও অফিস-প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। তবে, আজ ২৫শে মার্চ, বুধবারে এক ঘোষনায় রিয়াদ, মক্কা ও মদিনা শহরের জন্য কারফিউ এর সময়ে পরিবর্তন আনা হয়। নতুন সময় অনুযায়ী এই ৩ শহরে দুপুর ৩টা থেকে চালু হবে এই বিশেষ কারফিউ, এবং চলবে ভোর ৬টা পর্যন্ত।
কারফিউ চলাকালীন সময়ে সবাইকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সৌদি আরবে সকল প্রকার গনজমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে, এমনকি মসজিদে নামাজ পড়ানোও সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়াও রেস্টুরেন্টে বসে খাওয়া নিষেধ করা হয়েছে, এবং সকল প্রতিষ্ঠানকে কর্মচারীদের ঘরে বসে অনলাইনে কাজ করার সুযোগ দেবার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
