বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের মধ্যে সব ম’সজিদে নিয়মিত আজান, ইকামত, জামাত ও জুমা’র নামাজ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ইস’লামিক ফাউন্ডেশন।
তবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আগে পুরো ম’সজিদ জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা এবং কার্পেট-কাপড় সরিয়ে ফেলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
একইসঙ্গে জামাত সংক্ষিপ্ত করার কথাও বলেছে ইস’লামিক ফাউন্ডেশন (ইফা)। দেশের খ্যাতনামা আলেম’দের সঙ্গে বৈঠক করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইফা। আজ সোমবার এক সংবাদ বি’জ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে গতকাল রবিবার আলেম’দের নিয়ে বৈঠক করে ইফা। বৈঠকে আরব দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মু’সল্লিদের ম’সজিদে নামাজ বন্ধের বিষয়গুলো সামনে রেখে বাংলাদেশেও পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে মতামত চায় ইফা। কোনও কোনও আলেম পরাম’র্শ দেন, ম’সজিদ খোলা থাকবে। শুধু ই’মাম-মুয়াজ্জিন ও খাদেম’রা জামাতে নামাজ আদায় করবেন, মু’সল্লিরা ম’সজিদে আসবেন না।
তবে বেশিরভাগ আলেমের বিরোধিতার কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি ইস’লামিক ফাউন্ডেশন। বরং পরিস্থিতির অবনতি ঘটলেও ম’সজিদে মু’সল্লিদের অংশগ্রহণে জামাতে নামাজ বন্ধ করার পক্ষে নন অধিকাংশ আলেম।
এদিকে ইফার সংবাদ বি’জ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ম’সজিদে নিয়মিত আজান, ইকামত, জামাত ও জুমা’র নামাজ অব্যাহত থাকবে। তবে জুমা ও জামাতে মু’সল্লিদের অংশগ্রহণ সীমিত থাকবে। ৮ ধরনের মু’সল্লিদের ম’সজিদে না যাওয়ার পরাম’র্শ দিয়েছে ইফা। সেগুলো হলো:-
১. যারা করোনাভাইরাসেআ,ক্রান্ত। ২. যাদের সর্দি, জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা ও শ্বা’সক’ষ্ট আছে। ৩. যারাআ,ক্রান্ত দেশ ও অঞ্চল থেকে এসেছেন। ৪. যারা উক্তরূপ মানুষের সংস্প’র্শে গেছেন। ৫. যারা বিভিন্ন রোগেআ,ক্রান্ত। ৬. বয়োবৃদ্ধ, দুর্বল, মহিলা ও শি’শু। ৭. যারা অ’সুস্থদের সেবায় নিয়োজিত। ৮. যারা ম’সজিদে গিয়েআ,ক্রান্ত হওয়ার আশ’ঙ্কা করেন তাদেরও ম’সজিদে না আসার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ সময় ইফা আরও বলেছে, যারা জুমা ও জামাতে যাবেন তারা যাবতীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা অবলম্বন করবেন। ওজু করে নিজ নিজ ঘরে সুন্নত ও নফল আদায় করবেন। শুধু জামাতের সময় ম’সজিদে যাবেন এবং ফরজ নামাজ শেষে দ্রুত ঘরে চলে আসবেন। সাবান দিয়ে বারবার হাত ধোয়া, মাস্ক পরা, জীবাণুনাশক দ্বারা ম’সজিদ ও ঘরের মেঝে পরিষ্কার রাখাসহ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সব নির্দেশনা মেনে চলবেন।
ম’সজিদের খতিব, ই’মাম, মুয়াজ্জিন ও ম’সজিদ কমিটিকেও করণীয় স’ম্পর্কে ৮টি পরাম’র্শ দেওয়া হয়েছে। পরাম’র্শগুলো হলো:-
১. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আগে সম্পূর্ণ ম’সজিদকে জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা এবং কার্পেট-কাপড় সরিয়ে ফেলা। ২. জামাত সংক্ষিপ্ত করা। ৩. জুমা’র বয়ান, খুতবা ও দোয়া সংক্ষিপ্ত করা।
৪. বর্তমান সংকট’কালে দরসে হাদিস, তাফসির ও তালিম স্থগিত রাখা। ৫. ওজুখানায় অবশ্যই সাবান ও পর্যাপ্ত টিস্যু রাখা। ৬. বর্তমান পরিস্থিতিতে জামাতের কাতারে ফাঁক ফাঁক হয়ে দাঁড়ানো।
৭. ইশরাক, তিলাওয়াত, জিকির ও অন্যান্য আমল ঘরে করা। ৮. ঢাকাসহ দেশের কোনও ম’সজিদে যদি কোনও বিদেশি অবস্থান করেন তাদের বিষয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করে সত্ত্বর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।
