পুরো ভারত ২১ দিনের জন্য লকডাউন

দেশ জুড়ে নোভেল করোনাভাইরাসেআ,ক্রান্তের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে। তার জেরে এ বার সারা দেশে আগামী তিন সপ্তাহের জন্য লকডাউন ঘোষণা করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মঙ্গলবার (২৪ মা’র্চ) মধ্যরাত থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত এই লকডাউন জারি থাকবে। ওই সময়ে দেশের কোনও নাগরিকের বাড়ির বাইরে পা রাখা উচিত নয় বলে জানিয়ে দিলেন তিনি।

মোদী বলেন, আপনাদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিচ্ছেন সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা। পরিবার-পরিজনদের ফেলে রাস্তায় নেমে কাজ করছে পু’লিশ। আপনাদের রাগ-অ’ভিমান সহ্য করছেন। তাঁদের কথা ভাবুন। যাঁরা সাফআইয়ের কাজে যুক্ত, তাঁদের জন্য প্রার্থনা করুন। আপনাদের কাছে হাতজোড় করে প্রার্থনা করছি, জীবন বাজি রেখে যাঁরা কাজ করে চলেছেন, সেই ডাক্তার, নার্স, প্যারামে*ডিক্যা*ল কর্মী, হা*সপা*তাল কর্মী, অ্যাম্বুলেন্স চালকদের জন্য প্রার্থনা করুন।

তিনি আরও বলেন, যত দিন দেশ লকডাউন থাকবে তত দিন এই সঙ্কলপ নিয়ে চলতে হবে। ভারত এখন এমন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে রয়েছে যেখানে আমাদের সকলকে সংযম বজায় রাখার সঙ্কল্প নিতে হবে। প্রাণ থাকলে তবেই দেশ থাকবে। করোনা থেকে বাঁ’চার একটাই উপায়, লক্ষ্মণরেখা পার করবেন না।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিন, রাশিয়া, ফ্রান্স, ইটালি- সহ এই দেশগু’লির স্বাস্থ্য পরিষেবা অ’ত্যন্ত উন্নত। তা সত্ত্বেও করোনার মোকাবিলা করতে পারেনি তারা। এই পরিস্থিতিতে উপায় কি? একটাই উপায়, যাঁরা করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে পেরেছেন তাঁদের থেকে শিক্ষা নেওয়া। ওই সব দেশে সরকারের কথা শুনে বাড়ির বাইরে বেরোননি সাধারণ মানুষ। আমাদেরও তা মেনে চলতে হবে।

তিনি বলেন, সারা বিশ্বেআ,ক্রান্তের সংখ্যা ১ লক্ষ্যে পৌঁছতে ৬৬ দিন লেগেছিল। তার পর ১১ দিনে সংখ্যাটা বেড়ে ২ লক্ষ দাঁড়ায়। করোনাআ,ক্রান্ত ব্যক্তিকে শুরুতে দেখলে বোঝাই যায় না। তাই বাড়িতে থাকুন। কেউ রাস্তায় বেরোবেন না। আপনাদের বাড়ির দরজার বাইরে লক্ষ্ণণরেখা টানা হল। মনে রাখবেন, তার বাইরে পা রাখলেই করোনার মতো মহামা’রিকে বাড়িতে ডেকে আনবেন। এই ক’দিন বাইরের বাইরের জীবন ভুলে যান। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নয়, আপনাদের পরিবারের এক জন সদস্য হিসাবে এমন ঘোষণা করছি।

মোদী বলেন, এটা না করলে দেশ আরও ২১ বছর পিছনে চলে যাবে। আগামী তিন সপ্তাহ এই লকডাউন জারি থাকবে। আপনাদের কাছে অনুরোধ, এই সময় যে যেখানে রয়েছেন, সেখানেই থাকুন। প্রত্যেক ভারতীয়, প্রত্যেক পরিবারকে বাঁ’চানোই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। দেশের যা পরিস্থিতি, তাতে এই পদক্ষেপ অ’ত্যন্ত প্রয়োজনীয়। দেশের প্রতিটি রাজ্য, জে’লায় এই নির্দেশ কার্যকর হবে।

আজ রাত ১২টা থেকে গোটা দেশে সম্পূর্ণ ভাবে লকডাউন জারি হতে চলেছে। গত দু’দিনে দেশের অনেক রাজ্য লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারগু’লির এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দিতে হবে। এমন দায়িত্বহীনতা চলতে থাকলে, ভারতকে এর চরম মূল্য চোকাতে হবে। কী’ ক্ষতি হবে তা অনুমানও করতে পারবেন না। কিছু মানুষের ভুল সিদ্ধান্তের ফলে‌ বহু মানুষের জীবনে বিপদ ডেকে আনতে পারে। এ খবর দিয়েছে আন্দবাজার পত্রিকা।

তিনি আরও বলেন, কিছু মানুষ ভাবছেন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা শুধুমাত্রআ,ক্রান্তদের জন্যই প্রয়োজন। এই ধারণা ভুল। প্রত্যেক পরিবারের জন্য এই দূর্তব প্রয়োজন। করোনার থেকে বাঁ’চার আর কোনও উপায় নেই।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বৈশ্বিক মহামা’রি থেকে রক্ষা পাওয়ার একটাই উপায়, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। করোনাভাইরাস এত দ্রুত হারে বাড়ছে, যে সবরকম ব্যবস্থা সত্ত্বেও পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে না বিশ্বের তাবড় দেশ।

এর জন্য সকলের প্রশংসা প্রাপ্য। ভারতবাসী দেখিয়েছেন যখন দেশ এবং মানবতার পর সঙ্কট আসে, তখন কী’ ভাবে একজোট হয়ে পরিস্থিতির মোকাবিলা করা যায়। ২২ মা’র্চ জনতা কার্ফুতে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে সারা দিয়েছেন ভারতবাসী।