সৌদি আরবের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী মোহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ আল জাদাদ জানান, সৌদি সরকার ইতিমধ্যেই সকল নাগরিক ও সকলের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এছাড়াও চাকুরীর ক্ষেত্রে বা বিভিন্ন প্রাইভেট সেক্টরে, সকল মাঝারি ও ছোট কোম্পানি ও ব্যবসায়ীরা যারা এই ভাইরাস এবং লকডাউনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তাদের কাজ যাতে চলমান থাকে সেজন্য বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছে সরকার। এসকল পদক্ষেপের মোট খরচ হতে যাচ্ছে ৭০ বিলিয়ন সৌদি রিয়াল। এছাড়াও প্রাইভেট সেক্টরের সকল ব্যাংক এর জন্য প্রয়োজনীয় ফান্ড রাখা হয়েছে ৫০ বিলিয়ন সৌদি রিয়াল।
>> এই পদক্ষেপগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে :যেসকল প্রবাসীদের ইকামা এখন থেকে ২০ জুন, ২০২০ এর মধ্যে মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে, তারা কোনপ্রকার জরিমানা চার্জ ছাড়াই ৩ মাসের জন্য ইকামা নবায়ন করে নিতে পারবেন।
>> যারা ওয়ার্ক ভিসা নিয়েছেন বা ওয়ার্ক ভিসার ফি জমা দিয়েছেন কিন্তু বর্তমানে দেশে প্রবেশ বা বের হওয়া নিষেধ বলে ভিসাটি ব্যবহার করা হয়নি, এমনকি যদি ভিসা পাসপোর্টে লাগানোও থাকে, তারা ভিসা ফি এর সম্পূর্ণ টাকা রিফান্ড নিতে পারবেন বা কোন চার্জ ছাড়াই ভিসার মেয়াদ আরো ৩ মাস বৃদ্ধি করে নিতে পারবেন।
>> এক্সিট এবং রিএন্ট্রি ভিসা, যেগুলো বর্তমানে চলা নিষেধাজ্ঞার কারণে ব্যবহার করা হয়নি, সেগুলোর মেয়াদ ৩ মাসের জন্য বৃদ্ধি করা যাবে কোন চার্জ ছাড়াই!
>> ব্যবসায়ীরা ভ্যাট, ট্যাক্স, ইনকাম ট্যাক্স, যাকাত ডিক্লেয়ারেশন, এগুলো আপাতত না দিয়ে ৩ মাস পরে দিতে পারবেন। এছাড়াও এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা কোনপ্রকার বাধা ছাড়াই যাকাত সার্টিফিকেট পাবেন।
>> আগামী ৩ মাস ধরে ব্যাংক গ্যারান্টি দিয়ে কাস্টম শুল্ক দিতে ৩০ দিনের মতো দেরী করা যাবে।
>> আগামী ৩ মাসের জন্য প্রাইভেট সেক্টরের জন্য সকল সরকারি ফি এবং মিউনিসিপ্যাল ফি দেরী করে পরিশোধ করা যাবে। এবং, প্রয়োজন হলে এই বিলম্বের মেয়াদ আরো বাড়ানোর ব্যাপারে আবেদন করা যাবে।
>> অর্থমন্ত্রীর অনুমতি সাপেক্ষে যেকোন লোন, ফাইন্যান্স, ইত্যাদি পরিশোধের জন্য ২০২০ সালের শেষ সময় পর্যন্ত অব্যহতি দেয়া হয়েছে।
এছাড়াও অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি কমিটি বর্তমান সময়ের অর্থনৈতিক দুর্যোগ এড়াতে আরো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন, এবং এসকল পদক্ষেপ কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় ফান্ড রেডি করবেন। এবং, প্রাইভেট সেক্টরের মাঝারী ও ছোট এন্টারপ্রাইজগুলোকে সাহায্য করার জন্য ব্যবস্থা নেবে এই কমিটি।
এছাড়াও অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমানে করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সমগ্র জাতি, এবং সারাদেশের সকল প্রাইভেট সেক্টর এর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্ত নিতে ৪টি কমিটি তৈরী করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছেঃ
সৌদি আরবে ইতিমধ্যেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৯২ জন, এবং দেশে যেকারো প্রবেশ ও বের হওয়াইয় নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি সকল শপিং মল, জনসমাবেশ, এমনকি মসজিদও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন সৌদিতে বসবাসকারী সকল নাগরিক এবং প্রবাসী, এবং তাদের সকলের অর্থনৈতিক ক্ষতি এড়ানোর জন্যই সরকারের এসকল ব্যবস্থা নেয়া।
