সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও হা’না দিয়েছে ক’রোনাভা’ইরাসে। খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এই মরণঘাতি ভাই’রাস। আর তাই সমন্বিতভাবে ক’রোনাভা’ইরাসে মো’কাবিলায় ১৩ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে স’রকার। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে সংশ্লিষ্ট ম’ন্ত্রণালয় ও বিভাগকে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে স’রকারের পক্ষ থেকে। এ ছাড়া সব ম’ন্ত্রণালয়কে নিজ নিজ করণীয় চিহ্নিত করে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি স’চিবালয়ে ক’রোনাভা’ইরাসে প্রতিরোধ ও মো’কাবিলায় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ এবং দিকনির্দেশনা প্রদানের জন্য আয়োজিত এক সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতামতের ভিত্তিতে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেকের সভাপতিত্বে সভায় সংশ্লিষ্ট ম’ন্ত্রণালয় ও বিভাগের ১৪ স’চিব উপস্থিত ছিলেন। ক’রোনা মো’কাবিলায় গৃহীত সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ম’ন্ত্রণালয় ও বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তবে ক’রোনা প্রতিরোধে স’রকার যেসব উদ্যোগ নিয়েছে তার মধ্যে কয়েকটির এখনও বাস্তবায়ন শুরু হয়নি। এ ব্যাপারে স’রকারও তেমন নজরদারি করছে না। ফলে মানুষের মধ্যে ক’রোনাভা’ইরাসেসহ অন্যান্য রো’গজী’বাণু সং’ক্র’মণের ঝুঁ’কি বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। স’রকারের সিদ্ধান্তগুলো হলো- গার্মেন্টসহ সব শিল্পকারখানায় কর্মীদের হ্যান্ড থার্মাল ডিটেক্টর দিয়ে পরীক্ষা করে কর্মস্থলে প্রবেশের ব্যবস্থা। রো’হিঙ্গা ক্যাম্পে বহিরাগতদের চলাফেরা নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান। প্রবাসীদের দেশে আসা নিরুৎসাহিত করে ব্যাপক প্রচারণা। বাস ও রেলস্টেশন, নদীবন্দর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নকরণসহ স্থলপথ ও নৌপথে যাতায়াতের ক্ষেত্রে যাত্রীরা যাতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং মাস্ক ব্যবহার করে, সে বি’ষয়টি নিশ্চিত করা।
গণপরিবহনের ক্ষেত্রে সিট, হাতল, মেঝে নিয়মিত পরিষ্কার ও জী’বাণুমুক্ত রাখা। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা সাবান ও মাস্ক ব্যবহারে উৎসাহিত করতে হবে। ক্লাসরুম পরিষ্কার- পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করতে হবে। অবশ্য ইতোমধ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ওয়াজ মাহফিল ও কীর্তনসহ বেশি জনসমাগম হয় এমন ধর্মীয় অনুষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হবে এবং সব ধর্মাবলম্বীর মধ্যে ক’রোনা বি’ষয়ক সচেতনতা সৃষ্টি করা। এ বি’ষয়েও স’রকার নিদের্শনা জারি করেছে। আন্তর্জাতিক সব ফ্লাইট নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এ সিদ্ধান্তও মোটামুটি বাস্তবায়িত হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ক’রোনা প্রতিরোধ ও মো’কাবিলায় সক্রিয় ভূমিকা পালনের জন্য সংশ্লিষ্ট সব ম’ন্ত্রণালয় নির্দেশ প্রদান করবে। প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় ক’রোনাভা’ইরাসে প্রতিরোধ ও মো’কাবিলায় সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং গুজব প্রতিরোধে ব্যাপক প্রচারের কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।
এ ছাড়া সারাদেশে ক’রোনা বি’ষয় পোস্টার, লিফলেট, ব্যানার ও ফেস্টুন বিতরণের মাধ্যমে সচেতনতা বৃ’দ্ধি করতে হবে। সব ধরনের জনসমাগম ও সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজন সীমিতকরণে উৎসাহিত করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে জে’লা ও উপজে’লা পর্যায়ে সেলফ কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের চলাফেরা নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করতে হবে। জানা গেছে, বাস ও রেলস্টেশন, নদীবন্দর এবং গণপরিবহনসহ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স’রকারের নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। দেশের প্রায় ১৪ হাজার বস্তির ২৪ লাখ বাসিন্দা ক’রোনাভা’ইরাসেের ঝুঁ’কিতে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে বস্তিবাসী অল্প জায়গায় গাদাগাদি করে বসবাস করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ ছাড়া দেশি-বিদেশি এনজিও কর্মকর্তাদের অবাধ বিচরণ ও রো’হিঙ্গাদের মিয়ানমারে গো’পনে আসা-যাওয়ার কারণে যেকোনো মুহূর্তে কক্সবাজারের ক্যাম্পে অবস্থানরত এই জনগোষ্ঠী ক’রোনাভা’ইরাসেে আ’ক্রান্ত হতে পারে বলে আ’শঙ্কা রয়েছে। মিরপুর এলাকায় সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, গার্মেন্ট ও শিল্পকারখানায় কর্মীদের হ্যান্ড থার্মাল ডিটেক্টর দিয়ে পরীক্ষা করে কর্মস্থলে প্রবেশের নির্দেশনা থাকলেও তা সব প্রতিষ্ঠান মানছে না।
শ’রণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মাহবুব আলম তালুকদার একটি জাতীয় দৈনিককে বলেন, ‘রো’হিঙ্গা ক্যাম্পে সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’ বহিরাগতদের প্রবেশের বি’ষয়ে তিনি বলেন, ‘রো’হিঙ্গাদের প্রয়োজনেই কিছু বহিরাগত ক্যাম্পে প্রবেশ করছে। নানা কাজে তাদের ভেতরে যেতে হচ্ছে।’ কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের ঢাকা জে’লার উপমহাপরিদর্শক মেহেদী হাসান বলেন, ‘গার্মেন্ট ও শিল্পকারখানায় কর্মীদের সচেতনতা বৃ’দ্ধির জন্য স’রকারের নির্দেশনাগুলো পোস্টার, লিফলেট আকারে বিতরণ করা হচ্ছে। হ্যান্ড থার্মাল ডিটেক্টর কেনার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যারা এখনও কেনেনি, তাদের মনিটর করা হচ্ছে।’
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘ক’রোনাভা’ইরাসে নিয়ন্ত্রণে আমাদের চিন্তায় যা যা ছিল, তার সবকিছুই বলা হয়েছে। ওই নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়ন না হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও স’চিবকে তাগাদা দেওয়া হবে। প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবহিত করা হবে। এ জন্য সাধারণ মানুষকেও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। স’রকার সবকিছু বলতে পারে কিন্তু বাস্তবায়নে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা লাগবে।’ তিনি বলেন, ‘যদি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান স’রকারের নির্দেশনা অমান্য করে, তাহলে ক’ঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য সে’নাবা’হিনী, পুলিশ ও প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ সূত্র: সমকাল
