অ’শান্ত রো’গাক্রান্ত বিশ্ব আল-কুরআনের দিকে প্রত্যাবর্তন করে মু’ক্তি পেতে পারে

ধর্ম কি? ধর্ম ‘ধৃ’ ধাতু থেকে উদ্ভব, যার অর্থ ধারণ করা। সাধারণ মানুষ ধর্মকে ধারণ করে। ধর্ম হল এমন এক অদৃশ্য শক্তির ও’পর আত্মসমর্পণ ও গভীর বিশ্বাস, যা মানুষের জীবন ও নিয়তিকে নিয়ন্ত্রণ করে।

যার সাথে প্রেমের বন্ধনে আবদ্ধ হতে মানুষের একান্ত কামনা অপরিহার্য। অতি উৎকৃষ্টের প্রতি অনমনীয় আনুগত্য প্রকাশই হচ্ছে ধর্ম। ধর্ম হল এমন এক দৃষ্টিভঙ্গি যা জগতসৃষ্টির পেছনে সৃষ্ট্রার অস্তিত্ব স্বীকার করা। যিনি ভাল-ম’ন্দ ন্যায়-অ’ন্যায় পাপপূণ্যের বিচার করেন।

কুরআন বিশ্ববাসীর জন্য সর্বকালের, সর্বদেশের সর্বজাতির চিরন্তন, শাশ্বত পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা।

আল্লাহ বলেন, “মহাপরাক্রমশালী সেই সত্তা যিনি তার বান্দার প্রতি কুরআন নাযিল করেছেন, নিখিল বিশ্বকে ভ’য় প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে।”
কুরআনেই সকল আসমানী কীতাবে বর্ণিত বি’ষয়সমূহ একত্রে সন্নিবেশিত করা হয়েছে। মৌলিকভাবে জ্ঞানবিজ্ঞান ও ইলমবিদ্যার সমাগম ঘটেছে এতে।

আল্লাহ বলেন, “এর পূর্বে ছিল মুসার (আ.) কিতাব আদর্শ ও অনুগ্রহস্বরূপ, এ কিতাব তার সমার্থক।”

আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয়ই আমার এ মহাগ্রন্থ আল কুরআনে মানব জাতির কল্যাণে প্রতিটি বি’ষয় বিশদভাবে বর্ণিত করেছি।”

কুরআনে পূর্ববর্তী সকল আসমানী কীতাবের হুকুম আহকাম বাতিল বলে ঘোষণা করাা হয়েছে।। সেগুলোর সারসংক্ষেপ আল-কুরআনে সন্নিবেশিত হয়েছে। কুরআন বিজ্ঞানময় মহাগ্রন্থ। গবেষক ও ঐতিহাসিকদের জন্য এক মহাগ্রন্থ বহু জ্ঞানবিজ্ঞান এবং বহুর’হস্যের উৎসের মহাজ্ঞান ভাণ্ডার।

মহান আল্লাহ এ গ্রন্থকে কুরআনুল হাকীম বা বিজ্ঞানময় কুরআন বলেন। মানবের কল্যাণকামী আধ্যাত্মিক ও জাগতিক বি’ষয়ে পরিপূর্ণ জীবন-বিধান সম্বলিত ধর্মগ্রন্থ পৃথিবীতে অদ্বিতীয়। কুরআন কোনও নির্দিষ্ট জাতি, গোষ্ঠী-সম্প্রদায়, দেশকালকে কেন্দ্র করে নাযিল হয়নি। বরং সমগ্র বিশ্বমানবতার জন্য সর্বাত্মক হিদায়াতের সওগাত নিয়ে আবির্ভূত।

আল্লাহ ঘোষণা করেন, “সকল প্রশংসা আল্লাহরই, যিনি তার বান্দার প্রতি ও কিতাব অবতরণ করেছেন, আর এতে তিনি কোনও প্রকার বক্রতা তথা অপূর্ণতা রাখেননি।”- (সুরা কাহাফ-১)।

আল্লাহ বলেন, “বলো হে মানবজাতি, তোমাদের প্রতিপালকের নিকট থেকে তোমাদের কাছে সত্য পথের দিশা এসেছে।” ( সুরা ইউনুস-১০৮)

আল্লাহ বলেন, “আজ আমি তোমাদের জীবনব্যবস্থাকে পরিপূর্ণ করে দিলাম। আমার নিয়ামত তোমাদের উপর পরিপূর্ণ করলাম। তোমাদের জন্য জীবনব্যবস্থারূপে ইসলামকে মনোনীত করলাম। (আল মায়িদা-৩)

ই’হুদি, খ্রি’স্টান, মুশরিক ও মুনাফিক এ চার শ্রেণির পথভ্র’ষ্ট মা’নুষের সাথে বি’তর্কি’ত সম্পর্কিত জ্ঞান। তাদের আক্বিদা বিশ্বাস ও মতবাদের ভ্রা’ন্ততা প্রমাণ করা হয়েছে। সাথে সাথে তাদের ভ্রা’ন্ত ও অ’যৌক্তিক মতাদর্শের প্রতি জনমনে ঘৃ’ণা জাগ্রত করা হয়েছে। এদের কু’সংস্কার ও ভ্রা’ন্ত ম’তবাদের অসারতা প্রতিপন্ন করে জবাবদান করা হয়েছে। বিশ্ব স্রষ্টা ও নিয়ন্তা হিসাবে আল্লাহ পরিচয় অনুগ্রহ, অবদান, কুদরতী নিদর্শনাদি সম্পর্কিত জ্ঞান।

আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টির র’হস্য, দৈনন্দিন জীবনে প্রাপ্ত বান্দার অভিজ্ঞান, সর্বোপরি স্রষ্টার সর্বাধিক গুণাবলীর পরিচয় সম্পর্কীয় আলোচনা সন্নিবেশিত হয়েছে।

সৃষ্টিতত্ত্বে বলা হয়েছে, আল্লাহর সৃষ্টি বস্তুর অবস্থা সংক্রান্ত জ্ঞান। হক ও বাতিল, সত্য ও মি’থ্যার মধ্যে অতীত সং’ঘর্ষ ও রে’ষারেষির ইতিহাস আলোচিত হয়েছে।

হক ও সত্যপ্রিয়তার উজ্জ্বল পরিণাম, মি’থ্যা ও বাতিলের শো’চনীয় পরিণতি মা’নুষের সামনে তু’লে ধরা হয়েছে। সত্য সম্পর্কে উৎসাহিত করা হয়েছে। মি’থ্যার জন্য স’তর্ক ও সাবধান করা হয়েছে। সৃষ্টি লোকের লয়, মৃ’ত্যু, অ’ক্ষমতা এবং মৃ’ত্যুর পর অনন্ত জীবন জান্নাত জাহান্নামের দৃশ্যের প্রত্যক্ষ বর্ণনা, রহমত ও আ’যাবের ফেরেস্তাদের আগমণ উপস্থিতি, কিছু আলামত, হযরত ঈসা (আ.) এর অবতরণ, দা’জ্জাল – ই’য়াজুজ – মাজুজের আবির্ভাব, ইসরাফিলের শিঙ্গায় ফুঁ’র উল্লেখ রয়েছে।

হাশর-নশর, হিসাব-নিকাশ, পা’পপূণ্য, জ্ঞান, আমলনামা, মুমিনগণের আল্লাহর দীদার ইত্যাদি বর্ণনা। আ’যাব ও শা’স্তির নানারকম ভী’তিপ্রদ বর্ণনা। জান্নাতের নয়নাভিরাম দৃশ্য এসব কিছুই এর অন্তর্ভুক্ত। মানবজাতিকে আ’ত্মস’চেতন ও সদাস’র্তক করার জন্য আল্লাহর দা’সত্ব ও আ’নুগত্যের জন্য উৎসাহিত ও উদ্দীপ্ত করাই মূল উদ্দেশ্য। জীবনভর বহুধর্মগ্রন্থ পাঠ করার পর পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ বিশুদ্ধ ও নির্ভে’জাল গ্রন্থ কোনটি, তা গবেষণা করার চেষ্টা করছি।

আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানের ভাণ্ডারে যতটুকু মজুদ করেছি, তা থেকে অবলীলায় ও নিঃ’সং’কোচে এই সিদ্ধান্তে অবতীর্ণ হয়েছি যে, পবিত্র কুরআনই একমাত্র গ্রন্থ, যা যাবতীয় বি’কৃতি বি’ভ্রান্তি ও ভু’ল-ত্রু’টির অ’ভিশাপ হতে চিরমুক্ত এবং চিরপবিত্র অবস্থায় অবিকল বিরাজমান। এ মহাগ্রন্থে সং’শয়ের লেশমাত্র অবকাশ নেই। কুরআনের ভাষা ও গুণগতমানের শ্রেষ্ঠত্ব লক্ষ্মণীয়। এর ভাব, ভাষা, অলঙ্কার, উপমা, ছন্দ, মূর্ছনা, রচনাশৈলী, বি’ষয়বস্তুর অভিনব গ্রন্থনা, বাক্যের অনুপম বিন্যাস, শাব্দিক দ্যোতনা সবকিছু ঘিরে এক অতুলনীয় চির শাশ্বত গুণমানে অধিষ্ঠিত। বি’ষয়বস্তুর শ্রেষ্ঠত্ব আল-কুরআন কাঠামোগতভাবে সংক্ষি’প্ত পরিসরে হলেও এর বক্তব্য ও বি’ষয়বস্তুর ব্যাপকতা সুগভীর। কুরআনের এ সসীম পরিসরে লু’কায়িত রয়েছে নিযুত কোটি সাগরের বিশালতা।

১০৪ খানা আসমানি কিতাবের মধ্যে সর্বশেষ গ্রন্থ আল-কুরআন। কোনও নবী-রাসূল ছাড়া আসমানী কিতাব অবতীর্ণ হতে পারে না। হযরত মুহাম্মদ (স.) হলেন সর্বশেষ নবী। কুরআনই পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবের সারসংক্ষেপ। অতীতকালের সকল আসমানী কিতাবের বি’ষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ ও সার নির্যাস সন্নিবেশিত হয়েছে আল- কুরআনে। অতীতের সকল আসমানী কিতাব বি’কৃত ও পরিবর্তিত। অতীতের সকল আসমানী গ্রন্থ ছিল কোনও দেশ, সম্প্রদায় ও কালের গণ্ডিরসীমাবদ্ধ। কিন্তু আল-কুরআন সকল স’ঙ্কীর্ণতার ঊর্ধ্বে সর্বকালীন ও বিশ্বজনীন একমাত্র পূর্ণাঙ্গ আসমানী গ্রন্থ।

আল্লাহ বলেন, “আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনই’সলামকে পরিপূর্ণ করলাম এবং তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত অনুগ্রতা সম্পূর্ণ করলাম। তোমাদের জীবনব্যবস্থা হিসাবে ই’সলামকে মনোনীত করলাম।”