নারী চিকিৎসক ধর্ষণ-হত্যা : সাম্প্রদায়িক রঙ লাগাচ্ছে বিজেপি

সম্প্রতি ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে এক নারী চিকিৎসককে ধর্ষণের পর পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সাম্প্রদায়িকতার রঙ লাগানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত একজন সংখ্যালঘু মুসলিম- এটি জানার পর তার ধর্মীয় পরিচয়টিকে বারবার সামনে আনা হচ্ছে। আর এটা করা হচ্ছে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি’র পক্ষ থেকেই। এমনটাই অভিযোগ উঠেছে।

গত বুধবার রাতে হায়দরাবাদ থেকে বাড়ি ফেরার সময় চার লরি শ্রমিকের হাতে অপহৃত হন ওই নারী ভেটেনারী চিকিৎসক । একটি সরকারি হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন তিনি। শহরের বাইরে শাদনগর নামক একটি জায়গায় তাকে হত্যার পর তার লাশ পুড়িয়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। দুদিন পর পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করে। অভিযুক্ত চার যুবক হলো-মোহাম্মাদ পাশা, চিন্তাকুন্তা চেন্নাকেশাভুলু, জল্লু শিভা ও জল্লু নাভিন। চার জনই নারায়ণপেট জেলার বাসিন্দা।

এদিকে, গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয় প্রকাশ হওয়ার পরই শুক্রবার থেকে এমন ‘সাম্প্রদায়িক’ প্রচারণা শুরু হয় টুইটারে। পুলিশ চার অভিযুক্তের নাম প্রকাশ করলেও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শুধুমাত্র একজনের নাম সামনে এনে তার শাস্তির দাবি তোলা হয়। এমন সাম্প্রদায়িক রঙ লাগানো টুইটের সংখ্যা ছাড়িয়ে যায় পঞ্চাশ হাজার। ওই দাবিতে তৈরি হ্যাশট্যাগ দীর্ঘক্ষণ ট্রেন্ডিংও ছিল টুইটারে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি সমর্থক পরিচয়ের অজস্র প্রোফাইল, তেলঙ্গানার এক বিজেপি বিধায়ক, এমনকি বিজেপির তথ্যপ্রযুক্তি সেলের প্রধান অমিত মালব্য পর্যন্ত এক অভিযুক্তের নাম সামনে এনে সরব হয়েছেন।

এমন সাম্প্রদায়িক প্রচারে শামিল হন অভিনেত্রী পায়েল রোহতগিও। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় ঘটেছে বলে বক্রোক্তি করে টুইট করা হয় অন্ধ্রপ্রদেশ মহিলা কংগ্রেসের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকেও। পরে সেই টুইট মুছে দিয়ে ওই অ্যাকাউন্ট থেকে দাবি করা হয়, এক স্বেচ্ছাসেবক অসৎ উদ্দেশ্যে ওই পোস্ট করেছে। এর সঙ্গে দলের মতামতের কোনও যোগ নেই।

তেলেঙ্গানার গোশামহলের বিজেপি বিধায়ক রাজা সিংহ টুইটারে একটি ভিডিও বার্তা দেন। তাতেও কেবল এক সংখ্যালঘু অভিযুক্তের নাম জানান তিনি। অনেকে শেয়ারও করেন সেই ভিডিও। এ ভাবেই ঘটনায় সাম্প্রদায়িক রং লাগানোর চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

এ বিষয়ে শামশাবাদের ডিসিপি প্রকাশ রেড্ডি বলেছেন, এই ঘটনা কোনও ভাবেই সাম্প্রদায়িক নয়। অভিযুক্তদের মধ্যে সব সম্প্রদায়ের লোক রয়েছে। ধর্মের সঙ্গে, এই ঘটনা জড়িত তা বলা একেবারেই ভুল হবে।