মানুষকে আ’শ্রয়কেন্দ্রে নিতে সেনাবাহিনী চেয়েছেন সাতক্ষীরার ডিসি

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল উপকূলীয় এলাকায় আ’ঘাত হানার সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা। আতঙ্ক বিরাজ শুরু করছে উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে।

ঘরবাড়ি ছেড়ে ইতোমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন উপকূলীয় বাসিন্দাদের অনেকেই। গৃহপালিত পশু নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে আসছেন কেউ কেউ। তবে এখনো অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে আসেননি। এ অবস্থায় উপকূলীয় বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে আনতে সেনাবাহিনী চেয়েছেন সাতক্ষীরার জে’লা প্রশাসক (ডিসি) এসএম মোস্তফা কামাল।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজে’লার উপকূলীয় গাবুরা ইউনিয়নের প্রায় চার হাজার বাসিন্দা এখন পর্যন্ত বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রের বাসিন্দাদের জন্য খিচুড়ি ও ভাতের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিএম মাসুদুল আলম বলেন, ইউনিয়নের চাদনিমুখা হাই স্কুল, ডুমুরিয়া প্রাই’মা’রি স্কুল সাইক্লোন শেল্টার ও সরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় চার হাজার মানুষ ইতোমধ্যে আশ্রয় নিয়েছে। এদের মধ্যে বেশির ভাগই নারী। তবে পুরুষরা এখন বাড়িতে রয়েছেন। অনেকে স্বামী-স্ত্রী’ সন্তান নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে এসেছেন। সময় যত ঘনিয়ে আসছে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে। কি ঘটতে যাচ্ছে বলা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, গাবুরা ইউনিয়নের বেড়িবাঁধের অবস্থা খুবই খা’রাপ। কখন বাঁধ ভেঙে যাবে সেটি আম’রা জানি না। গরু-ছাগল, হাঁস, মুরগি ও গৃহপালিত পশু বাড়িতে রেখে অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে চলে এসেছেন।

চাদনিমুখা হাই স্কুলের আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া সুফিয়া বেগম বলেন, বাড়িতে আমা’র একটি গরু রেখে এখানেই চলে এসেছি। চলাচলের রাস্তা নেই। হাঁস-মুরগি সব ফেলে এসেছি। সেগুলো এখন কোথায় আছে আমি জানি না।

আশাশুনি উপজে’লার শ্রীউলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হেনা শাকিল বলেন, ইউনিয়নের চারটি আশ্রয়কেন্দ্রে তিন হাজারের অধিক মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। তাদের খাবারের জন্য খিচুড়ি ও ভাতের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এদিকে সাতক্ষীরা শ্যামনগর উপজে’লার উপকূলীয় খোলপেটুয়া নদীর পানি উত্তাল হয়ে উঠেছে। গাবুরা ইউনিয়নের মানুষদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে একযোগে কাজ করছে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা।

সাতক্ষীরার জে’লা প্রশাসক (ডিসি) এসএম মোস্তফা কামাল বলেন, এখন পর্যন্ত জে’লার ৯২ হাজার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে। গাবুরা ইউনিয়নের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য পু’লিশ, কোস্টগার্ড, নেভি একযোগে কাজ করছে। পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকার সব বাসিন্দাকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনার জন্য সেনাবাহিনীকে অনুরোধ করা হয়েছে। তবে সেনাবাহিনী কখন থেকে কাজ শুরু করবে সেটি জানাননি তারা।