প্রিয়ার ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করার বিষয়ে জানে না রানা দাশগুপ্ত

বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।

ট্রাম্পের কাছে ৩৭ মিলিয়ন সংখ্যালঘু বিলীন হওয়ার অ’ভিযোগ তোলা প্রিয়া সাহার বক্তব্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে তাকে নিয়ে নানান প্রশ্ন তুলেছেন।

এদিকে বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি রানা দাশগুপ্ত ওই প্রতিনিধি দলে প্রিয়াকে পাঠানোর কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘গত সপ্তাহে আমেরিকায় ‘ফ্রিডম অব রিলিজিয়ন’ শীর্ষক সম্মেলনে আমাদের সংগঠন থেকে তিনজন প্রতিনিধিকে পাঠানো হয়েছিলো।

তারা হলেন সংগঠনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য অশোক বড়ুয়া ও নির্মল রোজারিও এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্মল চ্যাটার্জী। প্রিয়া সাহা আমাদের সংগঠনের আটজন সাংগঠনিক সম্পাদকের একজন। তবে তিনি ওই প্রতিনিধি দলে সদস্য ছিলেন না।’

প্রিয়া কোন মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করেছেন তাও জানেন না রানা দাশগুপ্ত। তবে প্রিয়ার করা অ’ভিযোগের সঙ্গে সহমত পোষণ করে তিনি বলেন, প্রিয়ার বাড়ি বরিশাল অঞ্চলে। ওখানে তাদের অনেক বড় বাড়ি রয়েছে। যা কিছুদিন আগে অ’জ্ঞাতনামা কেউ জ্বালিয়ে দিয়েছে। পরে আবার একই জায়গায় নির্মাণাধীন নতুন বাড়িটিও জ্বালিয়ে দেয়া হয়। সংখ্যালঘুদের ওপর অ’ত্যাচারের প্রতিবাদে আম’রা আগে যেমন প্রতিবাদ করেছি, এরও প্রতিবাদ করেছি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে। এর খবর বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে হয়তো প্রিয়া সাহা ট্রাম্পের কাছে অ’ভিযোগ করেছেন।’

তবে ভিন্ন রাষ্ট্রের প্রধানের কাছে নিজের দেশ স’ম্পর্কে এ ধরনের গুরুত্র অ’ভিযোগ করা ঠিক হয়েছে কি না- জানতে চাইলে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে রানা বলেন, ‘প্রিয়া সাহা যা বলেছেন, সেগুলো নতুন কোনো বক্তব্য নয়। ১৯৪৭ সালে বাংলাদেশে হিন্দুসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সংখ্যা ছিলো ২৯.০৭ শতাংশ। যা ১৯৭০ সালে কমে হয় ১৯.২০ শতাংশ। এই সংখ্যাও কমে ২০১১ সালের বাংলাদেশ পরিসংখ্যান অধিদপ্তরের আরেক জরিপে জানা যায় ০৯.০৭ শতাংশ হয়েছে। তবে সম্প্রতি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নাকি ২ শতাংশ বেড়েছে দাঁড়িয়েছে ১১.০৭ শতাংশ।

তা হলেও স্বাধীনতার পর থেকে দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিম্নাঙ্কেরও নিচে এসে দাঁড়িয়েছে। যা খুবই আশ’ঙ্কার বিষয়। বিভিন্ন সময় হিন্দুদের ঘরবাড়ি জ্বালানো থেকে শুরু মন্দিরগুলোতে হা’মলা হচ্ছেই। এতে করে অনেক হিন্দু পাশের দেশ ভারতসহ অন্যান্য দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। যা একটি অসাম্প্রদায়িক দেশের জন্য কোনোভাবেই কাম্য নয়। তবে আশার কথা যে, বর্তমান সরকার সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। চলমান জে’লা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের ২১ দফা নির্দেশনায়ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশনা রয়েছে। যা আমাদের জন্য খুবই আনন্দদায়ক।’

এর আগে প্রিয়া সাহা ট্রাম্পের কাছে বলেছিলেন, ‘স্যার, আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। এখানে ৩৭ মিলিয়ন হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধ’র্মাবলম্বী মানুষ বিলীন (নি’খোঁজ) হয়েছে। দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আম’রা আমাদের দেশে থাকতে চাই। এখনও সেখানে ১৮ মিলিয়ন সংখ্যালঘু মানুষ আছে। আমা’র অনুরোধ, দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আম’রা আমাদের দেশ ছাড়তে চাই না। শুধু আমাদের বাংলাদেশে থাকার জন্য সাহায্য করুন।’

তিনি আরও বলেছিলেন, ‘আমি আমা’র বাড়ি হারিয়েছি। তারা আমা’র বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে, আমা’র জমি কেড়ে নিয়েছে। কিন্তু কোনো বিচার হয়নি।’

এসময় ট্রাম্প জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘কারা জমি দখল করেছে? কারা বাড়ি দখল করেছে?’

জবাবে প্রিয়া সাহা বলেছিলেন, ‘মু’সলিম মৌলবাদী গ্রুপ এগুলো করছে। তারা সব সময় রাজনৈতিকভাবে শেল্টার পায়। সব সময়।’