মিন্নির পক্ষে লড়তে বরগুনা যাচ্ছেন প্রায় ৪০ জন আইনজীবী

বরগুনার আ’লোচিত রিফাত শরীফ হ’ত্যা মা’মলার এক নম্বর সাক্ষী ও তাঁর স্ত্রী’ আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি এখন ওই মা’মলায় গ্রে’প্তার হয়ে পাঁচ দিনের রি’মান্ডে আছেন।

আগামী ২৩ জুলাই তাঁর রি’মান্ড শেষ হলে বরগুনা মুখ্য বিচারিক হাকিমের আ’দালতে হাজির করা হবে।

ওই দিন মিন্নির পক্ষে ওসি মোয়াজ্জেমের আইনজীবী ফারুক আহম্মেদসহ ঢাকা আইনজীবী সমিতির কয়েকজন আইনজীবী ঢাকা থেকে বরগুনা আ’দালতে শুনানির জন্য যাবেন।

আজ বৃহস্পতিবার ওই তথ্য জানিয়েছেন আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ।

ফারুক বলেন, ‘দুপুরে আইনজীবী সমিতির নির্বাহী সদস্য ইব্রাহিম খলিল মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরের সাথে ফোনে যোগাযোগ করেন। তখন মিন্নির বাবা আইনজীবী নিয়োগের জন্য অনুরোধ করেন। সে অনুরোধের পরে আম’রা হাইকোর্ট ও জজকোর্ট মিলিয়ে ৪০ সদস্যের আইনজীবী টিম যাব।’

ইব্রাহিম খলিল বলেন, ‘আম’রা আগামী ২৩ জুলাই বরগুনা আ’দালতে শুনানিতে যাব। আজ দুপুরে মিন্নির বাবার সাথে আমা’র ফোনে কথা হয়েছে। তাঁকে আইনি সহায়তা দেওয়ার কথা বলায়, তিনি আবেগে আপ্লুত হয়ে আমাদের যেতে অনুরোধ করেছেন।’ তিনি বলেন, ‘অনেক আইননজীবী ও হিউম্যান রাইটস সংগঠনের সদস্য শুনানিতে যেতে ইচ্ছুক। আ’দালতে দুই পক্ষে আইনজীবী থাকলে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা যায়।’

এর আগে গতকাল বুধবার বিকেলে বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আ’দালতের বিচারক মোহাম্ম’দ সিরাজুল ইস’লাম গাজী মিন্নির পাঁচদিনের রি’মান্ড মঞ্জুর করেন।

মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, ‘আমা’র মেয়ে নি’র্দোষ। রিফাতকে বাঁ’চাতে সে জীবনের ঝুঁ’কি নিয়েছিল, যেটা দেশবাসী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছে। তারপরও আমা’র মেয়েকে ফাঁ’সানো হয়েছে। কারণ, আ’সামিরা প্রভাবশালীদের আত্মীয়স্বজন। তাদের সঙ্গে প্রভাবশালীদের যোগসূত্রও রয়েছে। মূলত আ’সামিদের বাঁ’চানোর জন্য আমা’র মেয়েকে ফাঁ’সানো হয়েছে।’

মিন্নির জন্য আইনজীবী নিয়োগ দিতে না পারা প্রসঙ্গে বাবা বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতে পু’লিশের পক্ষ থেকে মিন্নিকে গ্রে’প্তারের বিষয়টি আমাকে জানানো হয়। সাক্ষী থেকে আ’সামি হওয়ার পরই আমি মিন্নির পক্ষে আইনজীবী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করি। রাতেই পরিচিত তিনজন আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করি। তাঁরা তিনজনই মিন্নির পক্ষে আ’দালতে দাঁড়াতে অ’পারগতা প্রকাশ করেন। তাঁরা জানিয়েছেন, আইনজীবী সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁরা মিন্নির পক্ষে আইনি ল’ড়াইয়ে থাকবেন না।’

মিন্নির বাবা বলেন, ‘বরগুনা আইনজীবী সমিতির একাধিক সদস্যের সঙ্গে বুধবার সকালেই যোগাযোগ করি। তাঁদের বলেছি, আমা’র মেয়ে নি’র্দোষ। ওর পক্ষে আপনারা একটু আইনি ল’ড়াইয়ে নামেন। আপনাদের পারিশ্রমিক দেব। তাঁরাও আইনি সহায়তা দিতে অ’পারগতার বিষয়টি সাফ সাফ জানিয়ে দেন। আইনজীবীর আশা ছেড়ে দিয়েই আমি সকাল থেকে আ’দালত চত্বরে অবস্থান করি। বিকেল ৩টার পর মেয়েকে আ’দালতে নিয়ে আসা হলে আমি ওকে নিজের বক্তব্য আ’দালতে উপস্থাপনের জন্য বলি।’

মোজাম্মেল হোসেন কিশোর আরো বলেন, ‘বিচারকের উপস্থিতিতে আমা’র মেয়ের পক্ষে আইনজীবী গোলাম সরোয়ার নাসির, জিয়া উদ্দিন ও আবদুল কাদের বক্তব্য উপস্থাপনের চেষ্টা করেন। কিন্তু বিধি অনুযায়ী আইনজীবীরা ওকালতনামায় স্বাক্ষর না দেওয়ায় বিচারক তাঁদের বক্তব্য শুনতে অ’পারগতা প্রকাশ করেন।’

মিন্নির পক্ষে বরগুনার কোনো আইনজীবী না দাঁড়ালেও ফেনীর সোনাগাজী থানার আ’লোচিত সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মক’র্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনের আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ মিন্নির পক্ষে বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা দিতে ইচ্ছুক বলে জানিয়েছেন।

ফারুক আহম্মেদ বলেন, ‘মিন্নির পরিবার চাইলে তাঁর পক্ষে ফারুক অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েট দাঁড়াতে চায়। ফারুক অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস সব সময় নির্যাতিত, অসহায় ও অসচ্ছল পরিবারের পক্ষে ন্যায়বিচারের জন্য মা’মলা পরিচালনা করে থাকে।’